করকমসল

শ্রীরবীন্দ্রকুমার বন্ধ

চৈত্র-১৩৪২

44//7161115 12507%6 09 1116 4111710?,

মূদ--একটাকা৷ চার আনা

আগ ভাহ্বিষ্ষা।

-এক--

ইন্দ্রনাথ সাধুপুরুষ। অর্ধ চন্দ্রাকার শুভ্র ললাট, কমনীয় মুখ, ঘন কুষঞ্চিত দীথ কেশ-পাশ যে-অপর্ূপ শোভা বিকীর্ণ করিত, তাহ! লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ না করিয়া পারিত না। দীর্ঘ, দেহ--সবল এবং সুন্দর দেখিয়! মনে হ্য়--দেবতার আশীর্বাদ তাহার উপর পধ্যাপ্ত পরিমাণে পড়িয়াছে।

আশ্রমের নাম-অমরাবতী। আয়তনে ইহা খুব বড়ে। না! হইলেও ছোটে। বল। যায় না| ইহার অদুর-দক্ষিণে ঘে-শ্তামল ক্ষেত্র নিঃসাড়ে পড়িয়া বহিয়াছে, তাহার শোভার সহিত ধেনো এই আশ্রমটির বাহিরের এবং ভিতরের শৌন্দধ্যের অনেক স্থলে সাদৃশ্ট আছে।

ইন্দরনাথ এই আশ্রমের মাথা কাক-পক্ষী ডাকিবার পূর্বেই শয্যা ত্যাগ কর। তাহার স্বভাব পুফরিণীর স্বচ্ছজলে ন্নান করিয়া আশ্রমে ফিরিয়া আমিলে, পৃজায় বসেন। এবং পুজা সারিয়া

অপলাধিকা

_না, আগে ঝড়-বৃষ্টি থামুক্‌ $ তারপর যাবে।

--যদি আজ নাই থামে? তবে কি আমার যাওয়া হবে না?

-নাই বা হলো, বাবা !

_কিস্ত আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আজ তোর জন্মে কি ওর অপমান করবো রে?

ইহার উত্তরে শিপ্রা যেনে! কি বলিতে যাইতে ছিল। কিন্তু মুখ হইতে কথা বাহির হইবার পূর্বেই কাছাকাছি কোথায় বোনকরি বজাঘাত হইল। সেই শবে শিপ্রা ইন্দ্রনাথের গায়ের নামাবলি খানার একাংশ বা হাত দিয়া চাপিয়া, তাহাকে ঘরের দিকে আকধণ কবিতে লাগিল।

--ভয় পেয়েছিস্‌ শিপ্রা? হ্যারে?

নিজের জন্তে নয়, বাবা।

শিপ্র। হইতে মুখ ফিরাইয়। ইন্দ্রনাথ কহিলেন, আচ্ছ? চল্‌।

সন্ধ্যা আসিয়া পৃথিবীতে নামিয়াছে। অমরাবতী-আশ্রমের ভিতরে আলে জালিয়! দিয়াছে--অন্তান্য মেয়েরা ইন্দ্রনাথ মেঝের উপরে একখান। আসন পাতিয়া বসিয়া ছিলেন শিপ্রা সান্ধ্য-ক্রিয়া সারিয়া ফিরিয়! আসিল, বলিল, তোমার পূজোর আয়োজন ক'রে দোবো, বাবা?

দে। বলিয়া ইন্্রনাথ চক্ষু বুজিয়! নীরবে বসিয়া রহিলেন।

রাত্রে আশ্রমের দেবীর আরতির পর ইন্দ্রনাথ বাহিরে আসিক়া দেখিলেন, ঝড় কমিয়াছে বটে; কিন্তু বৃষ্টি থামে নাই। গাগ্জের নামাবলি খানা খুলিয়া রাখিয়া ছিলেন। এখন নিজের ঘরে

অপলাধিকা

কিরিয়। গিয়া, গায়ে দিলেন শিপ্রা আশ্রমের কি একটা কাজে ব্যস্ত ছিল। ইন্দ্রনাথ সেই সবযোগে নিঃশব্দে আশ্রমের বাহিরে আসিয়া দাড়াইলেন। গান-বাজনার সথ তাহার নিরতিশয় যেমন ভালো গাহিতে পারেন, তেমনি ভালো গায়কের মুক্তকঠে প্রশংসা! করেন জল-ঝড় সহা করা তাহার বহুদিনের অভাস। এখন ইহাতে কষ্ট হয় না।

নিভৃত পল্লীর মেঠে! পথ নহে। তবু পথের স্থানে-স্থানে জল জযিয়াছে। কাদা হইয়াছে ইন্দ্রনাথের নগ্রপদ ইহাতে বিশেষ ক্লেশ বা বাধ। অনুভব করিল না।

--অমরাবতী-আশ্রম আর কতো? দূর ব'ল্‌তে পারেন ?

ইন্দ্রনাথের পদদ্বয়ের গতি হাস হইতে আরো হ্থাস হই আমিল |. পথেব উপর দাড়াইম্া, ঘাড় ফিরাইয়া অপগ্গাপ্ আলোকেও দেখিতে পাইলেন--একটি নারীকে এই নারাটির সমস্ত অবয়ব একখান শ্বেতবর্ণের চাদরে আবৃত অবগুঞঠনহাঁন মুখ দেখিয়া ইন্দ্রনাথের সহজেই বিশ্বান হইল, এই মেয়েটি অপূর্ব সুন্দরী

--অমরাবতী-আশ্রম? এখান থেকে বেশীদূর নয় মিনিট, কতোকের পথ কিন্ত প্রয়োজন ?

স্পপ্রয়োজন আছে আপনি পথিক, সেকথা আপনাকে খুলে বলা যায় ন1।

মেয়েটির স্বরে একটা দৃঢ়তার রেশ ছিল। ইন্দ্রনাথের কানে সেট! ধরা পড়িতে দেরী হইল না। কহিলেন, আমিই সেই আশ্রমের কণ্ত।!

অপলাধিকা

সেই অপরিষ্কার পথের উপর মেয়েটি সহসা নতজানু হইয়া, বসিয়া পরক্ষণেই ইন্দ্রনাথের পদছয়ের ধুলি মাথায় তুলিয়া! লই) উঠিয়া দাড়াইল

ইন্্রনাথ বিচলিত হইলেন না। তাহাকে মনে মনে আশীর্বাদ করিয়া বলিলেন, তোমাকে পথ বলে দিচ্ছি। সোজা গিয়ে বা দিকে ফিরলেই একটা পুরিণী দেখতে পাবে। এর-ই হাত সাত-আট ঘুরে অমরাবতী-আশ্রম। চিনে নিতে বোধকরি তোমার দেরী হবেনা

এই বলিয়া তিনি গমনোগত হইলেন

মেয়েটি ইন্দ্রনাথের গদনপথে বাধা দিয়া বলিল, আপনি যখন দয়া ক'রে নিজের পরিচয় আমাকে দিয়েছেন, তখন আশ্রমেও আমাকে নিয়ে যেতে হবে ক্ষিধেয় এবং তেষ্টায় আমার সমস্ত শবীর অবশ হয়ে এসেছে আপনার আশ্রষে আমি আশ্রয় চাই।

বলিয়াই সে ইন্দ্রনাথের মুখের উপর করুণ দৃষ্টিতে চাহিল।

মাথার উপরে জলীয় মেঘট1 ধীরে ধীরে অদৃস্ঠ হইয়া গিয়াছিল। ইন্দ্রনাথ আকাশের পানে চোখ, তুলিয়া চাহিয়া দেখিলেন--আকাশ পরিফার হইয়াছে এবং ইহার-ই এক কোণে টাদের গোলাকার পূর্ণ-মুদ্ভিট! সম্পূর্ণ প্রকাশ পাইবার উপক্রম করিতেছে

তিনি দৃষ্টি নত করিলেন। মেয়েটির আপ্রবস্ত্র হইতে তখনো? ফোটা ফোটা জল বরিয্না পথের উপর পড়িতে ছিল। ইন্দ্রনাথ' কয়েক মুহূর্ত নীরবে কি চিন্তা করিয়া কহিলেন, আচ্ছা, এসে !

মেয়েটির নাম)-কল্পনা। সিক্ত-বস্ত্র পরিবর্তন করিয়া সে শিপ্রার পাশে আসিয়া বসিয়া ছিল। কহিল, আমি কে জানো না তে। ভাই?

-তুদি আমাদেরই মতো! একজন মালুষ। আশ্রমে থাকৃতে চাও। এর বেশী কি করেজান্বোঠ? আমরা তো আর হাত গুণতে জানি নে!

_-জানোন1? আমার ধারণা ছিল, তোমর! শুধু হাত গুণতে কেন, মানুষের মুখ দেখলেই বালে দিতে পারো, তার সমন্ত গত-জীবনের কাহিনী

ইন্রনাথ একপার্থে চুপ করিয়া! বসিয়া ছিলেন। কহিলেন, হাত গুণতে জানাট। সবচেয়ে বড়ো জানা নয়, কল্পনা মুখ দেখে যেলোক অন্ভের গত-জীবনের কাহিনী ব'ল্তে পারে বলে গর্ব করে, তার চেয়ে বড়ো ভণ্ড আর নেই।

কল্পনা ক্ষণকাল বাহিরের অন্ধকারে অনিদ্দি্টৃটি নিক্ষেপ করিয়া বলিল, এর মানে তো ভালো বুঝ তে পার্লুম না!

শুনিয়া ইন্ত্রনাথ হীন্ত-মুখে পুনর্বার কহিলেন, সংসারে এমন লোকের অভাব নেই, যারা মুখের 'পর সর্ধদাই প্রসন্নতার মৃখোস পরে চলাফেরা করে। তাদের গত জীবনে যে দুঃখের অপবিভ্রতার ঢেউ ব'হে গেছে, তারা কোনো মতেই বাইরে

অপলাধিক।

প্রকাশ কর্তে চায় না। এ-ক্ষেত্রে কী ক'রে সম্ভব হবে, তাদের মুখ দেখে বিচার করা--পূর্কে তারা কি ছিল?

কল্পন| বোধহয় কথাটার অর্থ বুঝিল। এবং বুঝিল বলিয়াই নিজের দিক দিয়! বিচার করিয়া ইহাকে সর্বান্তঃকরণে 'অন্রমোদন করিতে পাঁরিল ন1। কক্ষে-স্থিত প্রদীপের যে- আলোকে ইন্দ্রনাথের মুখের এক পাশ দেখ। যাইতে ছিল, সেই দিকে চাহিয়া বলিল, কিন্তু আমার মুখের "পর কি প্রসন্নতার মুখোন পরা আছে? ছুঃখ এবং অপবিত্রতা, ছু'টোই আমার মনের মধ্যে তুমুল ঝড় তুলেছে কিন্ত এদের কি মিথ্যা প্রবঞ্চীন। ঢেকে রাখতে পেরেছে ? দেখুন তো আমার মুখখানা একবার ভালে। ক'রে--কোথায়ও হৃদয়ের গভীর ব্যথা স্ুম্পষ্ট হ'য়ে আছে কিন!

কল্পনার ক-ম্বর ভারী হইয়া আসিয়া ছিল তাহার কথার শেষ দিকটায়। এটুকু ইন্্রনাথের কানে ধরা পড়িল। তিনি কিয়ৎক্ষণ একদৃষ্টে তাহার মুখের দিকে চাহিয়া পূর্বের স্তায় শান্ত ্বরেই কহিলেন, তোমার সম্বন্ধে নিদ্দি্ট ক'রে কোনো কথা আমি বলিনি কল্পনা! বলেছি সাধারণ ভাবে যা” আমরা সচরাচর দেখতে পাই। কিন্তু তুমি তাদের বাইরে--এ আমি জানি

কল্পন। ছুই, তিন মিনিট মুখ নত করিয়া নিঃশবে বিয়া রহিল। এই নিস্তন্ধতার মাঝখানে শিপ্রা এক সময়ে ইন্দ্রনাথকে উদ্দেশ করিয়া কহিল, বাবা, তুমি যে ব'লে ছিলে কল্পনাদি'র খাবারের আয়োজন ক'র্তে! দেখেছো, আমি এ-কথা একেবারেই ভুলে

গেছলুম !

অপলাধিকা ,

এই বলিয়া সে উঠিয়া দাড়াইল।

ইন্দ্রনাথ কথা বলিবার পূর্বেই কল্পনা মুখ তুলিয়া শিপ্রার দিকে চাহিল, বলিল, আমার জন্যে অতো ব্যস্ত হচ্ছে কেন? মানুষের খাওয়াটাই তে। আর সবচেয়ে বড়ো ধশ্ম নয় !

এ-কথাম্ শিপ্রা প্রবল আপত্তি তুলিল; কহিল, খাওয়াটাই সবচেয়ে বড়ো দরকার কেননা, পেটে ক্ষিধে রেখে কোনো ধন্র হয় না। আত্মাকে কষ্ট দেওয়! ধম্মের আসল উদ্দেষ্ট নয়।

শুনিয়া কল্পনার বিস্ময় জাগিল। এতোটুকু মেয়ে। কথায় অনেক বড়েো।

শিগ্রা আহাধ্য আনিতভে অন্য কক্ষে চলিয়া যাইবার কিছুক্ষণ পরে ইন্দ্রনাথ প্রশ্ব করিলেন, তুমি কি জীবনে খুব বড়ো ব্যথ। পেয়েছে, কল্পন। ?

--আমার জীবনের কাহিনী শুন্লে আপনি এর সঠিক উত্তর পাবেন। কিন্ত সে-কাহিনী আপনার পবিত্র মনে কলুষের ছায়া টেনে দিয়ে যাবে।

* ইঞ্জ্নাথ কল্পনার মুখের দিকে স্থির চক্ষে চাহিয়া থাকিয়া ধীরে ধীরে কহিলেন, তোমার এ-আশঙ্ক। বুথা। আমি পাপ- পুণের বাইরে গ্ররুভার জিনিষকে বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে, কিন্ত আমাকে এ-ছু'টে। বিন্দুমাত্র টলাতে পারে না। বলিয়। চুপ, করিয়া থাকিয়। পুনশ্চ কহিতে লাগিলেন, তোমার পাপ-পুণ্য বিচার কর্বার ক্ষমতা আমার নেই, কল্পনা তুমি হয়তো শুনে থাকৃবেমামার এই আশ্রমের কোনো রকম সন্কীর্ণতা নেই। ভারতবর্ষ ঘেমন সবাইকে ছু"হাত বাঁড়িয়ে বুকে

১০ অপলাধিকা

স্থান দিয়েছে, হিংসা-ঘেষ পোষণ করেনি, তেমনি আমার অমরাবভী-আশ্রম সব রকম লোককে আতশ্রক্র দিয়েছে এবং যতোদিন আমি থাকবে! ততোদিন দেবে। তোমার জীবনের কাহিনী শোন্বার মতে সন্কীর্ণত| আমার নেই। আমার সে-উদ্দেস্ঠও নয়। তুমি আশয় চেয়েছে, আশ্রস্স দিয়েছে তোমাম় এই আশ্রম। যতোদিন এখানে থাকবে, ততোদিন এর ম্ধ্যাদা, সম্ম।ন মেনে চ'লো।

শুনিয়। কল্পন।, এই সাধু-ব্যক্তির মহাম্থভবতীয় এবং সঙ্কীর্ণতা। শূন্য মনের পরিচয়ে, নিজের অন্তর তাহার চরণে সমর্পণ করিয়া বাঁসল। যখন ব্যথা-বেদনা আসিয়া মন-প্রাণকে আচ্ছন্ন করিয়। তুলে, যখন বুঝ! যায়, যে-জীবন উপস্থিত চলিয়াছে, তাহার মধ্যে না৷ আছে স্থখের আলো, না আছে ছুঃখের অদ্ধকার--তখন, মাছুষ চাহিয়া থাকে এমন একট। কিছু, যাহা এই আলো-আ্বাধারের বাহিরে

কল্পন। কয়েক মুহূর্ত পরে বলিল, আপনার আশ্রমকে আমি বড়ো ভাবিনে। বড়ে। মনে করি আপনাকে, আপনার দেহটা? বাদ দিয়ে অন্তরে যিনি আছেন তাকে

-মে তো তোমারও আছে কল্পনা! আত্মা ছাড় ফি জীব স্থষ্ট হয়?

--তা" হয়না। আমি জানি। কিন্তু আমার আত্মা মরে গেছে। একে দিয়ে সাধু কাজ চলে না। একে বাচাতে চাই। তাই আপনার শরণাপন্ন হয়েছি।

কথাটা ইন্দ্রনাথের কানে তেমন সুস্পষ্ট অর্থ লইয়া বোধকরি

অপলাষিকা ১১.

প্রবেশ করিল না। কহিলেন, আত্মা মরে গেছে, একি অদ্ভূত কথা ব'ল্ছো, কল্পন। ? আত্মা যে অবিনশ্বর, এটা কি তোমার অজানা ?

- আত্মা অবিনশ্বর, আমি জানি; যেমন আপনি জানেন। কিন্ত সে-জানার কোনে। দাম নেই। কেননা, এর সম্বন্ধে কোনে প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি

কখাটা ভাবিবার বটে। ইন্দ্রনাথ এই কয়েক মিনিট কল্পনার সহিত আলাপ করিয়া বুঝিয়াছেন--সে সীধারণ স্ত্রীলোক নহে। তাহার কথা গুপি বাজে এবং অসঙ্গত বলিয়া! হাসিয়া উডাইয়। দেওয়| যার না। অথচ, সম্পূর্ণ বিশ্বাস করিতেও মন চাহে না।

ইন্দ্রনাথ কিছুক্ষণ মনে মনে চিন্তা করিয়া কহিলেন, বিশ্বাস-ই হলো আসল জিনিষ, বল্পনা! এ-সব তত্ব এতো সুক্ম যে, অবিশ্বাসের কণামাত্র মনে উদয় হ'লে বোঝানো যায়, না। আত্মার অবিনশ্বরতা-সম্বন্ধে আমাদের ধশ্মপুস্তক যা" রেখে গেছে, তাকে সমাকৃভাবে মেনে নিতে পার। যায়--ষদি বিশ্বাস থাকে; নইলে এ-সন্দেহের মীমাৎসা হয় না।

কল্পন। ইন্দ্রনাথের উক্তিতে মৌন হইয়া রহিল। বোধহয সে মনে মনে ইহাকে মানিয়। লইয়া ছিল।

শিগ্রা ঘরে প্রবেশ কবিল। তাহার এক হাতে একখানা পাথরের থালায় নান! প্রকার ছাড়ানো ফল এবং গোটা কতোক খিষ্টান্ন।' অপর হাতে একটা শ্বেতবর্ণের পাথর-বাটি। ইহাতে খাঁটি দুধ কল্পনার হাতের কাছে সেগুলি নামাইয়! দিয়া বলিল» খেয়ে নাও কল্পনাি'-রাত বড়ো কম হয় নি।

১২ অপলাধিকা

।* কঙ্না ছুই মুহূর্ত আহার্যের পানে চাহিয়। থাকিয়া! শিপ্রার মুখে দৃষ্টি ফেলিল, কহিল, এতো, মানুষে খেতে পারে?

শিশ্রা হাপিয়! কৌতুক করিয়া বলিল, মানুষে এতোটুকুই থায়। অ-মাজষে থায়ঃ় এর চেয়ে ঢের বেশী। তাদের থাওয়ায় পার নেই।

ইন্দ্রনাথ না! হাসিয়া থাকিতে পারিলেন ন। কল্পনাকে কহিলেন, ও-বেটিকে পেরে ওঠা দায়। ওর বয়েসের তুলনায় বুদ্ধি আর জ্ঞান অনেক বেশী

শিপ্র! কোপ, প্রকাশ করিয়া বলিল, অতো প্রশংসা ক'রে! না, বাব1। জানে তো আমিও মানুষ প্রশংসায় আমার অহমিক। আস্তে পারে।

শুনিয়া ইন্ত্রনাথ হাসিয়াই কহিলেন, প্রশংস! শুনলে যাদের অহমিকা আসে, তাদের দলের তুই ন'স্‌। তুই একেবারে 'আলাদা, মা! কল্পনার দিকে চোখ, পড়িতেই বলিয়া উঠিলেন, হাত গুটিরে বসে রইলে যে, কল্পনা? আহাধ্য তো সামান্যই খেয়ে নাও, মা।

কল্পনা ইন্ত্রনাথের এই কথার ভিতরে আস্তরিকতার যথেষ্ট প্রমাণ পাইল। সে আর দ্বিরুক্তি না করিয়া পাথরের থালাটা কোলের দিকে টানিয়া লইল।

ভিন

আববাহিত ইন্্রনাথের অমরাবতী-আশ্রমের একটা ইতিহাম আছে। বছর আঠারো পূর্ধে বাড়ী হইতে বাহির হইয়া আসেন। বড়ো লোকের ছেলে। কামন! এবং বাসনার অস্ত ছিল না। অকম্মাৎ যেমন আকাশের বুকে বিছ্বাৎ-রেখা দেখা যায় তেমনি অকন্মাৎ ইন্ত্রনাথের মনে ভগবত-প্রেমের বিদ্যুৎ জাগিয়া উঠিয়| ছিল। এবং এই জ|গরণের মধো তাহার যতো! কিছু ভোগ-বিলাম সমন্তই আগুনে পুড়িয়া ভন্মসাৎ হইয়া তাহাকে নৃতন মান্য করিয়া তুলিল। কয়েক বছর বিভিন্ন দেশে-দেশে পর্যাটন করিরা মহাপুরুষদের নিকট হইতে এই উপদেশ পাইয়া ছিলেন--একট। আশ্রম করিয়া সেখানে অনাথ ছেলে- মেয়েকে এবং সমাজের বাহিরের নারীদের সঠিকৃরূপে মানুষ করিয়। তুলিতে ইহাদের মূল-শিক্ষায় বিরাজ করিবে, ভোগ- বিলাস পরিত্যাগ করা; মাজুষকে জাতি-ধর্-নির্বশেষে ভালোবাসিবার শক্তি পোষণ কর!

ইন্্নাথ মহাপুরুষদের আদেশ শিরোধাধ্য করিয়! এই আশ্রম প্রতিষ্টা করিয়াছেন। তিনি নিজে পরম সাত্বিক মান্থষ। কিন্তু তাই বলিয়৷ লোককে জোর করিয়। তাহার অভিরুচির বিরুদ্ধে কিছু করাইতে সব সময়ে ইচ্ছুক নহেন। যে-সত্য নৃতন রূপে দেখ! দেয়, ইহাকে ঠিক মতে। ধরিবার শক্তি আসে তখন-ই,

১৪ অপলাধিক।

যখন মানুষ নিজেকে ভুলিয়া যায়--ভূলিয়া যায় .যে, সে নিজে নিজেরই নয়, কোন্‌ এক অসীম, অনন্ত শক্তির সৃষ্ট সে।

শরদিন্দু ইন্দ্রনাথের প্রিক্ষশিষ্য এবং দক্ষিণ হস্ত-্বরূপ। এই ছেলেটির আরুতি এতো স্থন্দর যে, পুরুষেরও ভালো লাগে। দিন কতোকের জন্য সে আশ্রমের কাজে দেশাস্তরে গিয়া ছিল। আজি প্রভাতে গ্রত্য।বর্তন করিয়াছে

ইন্দ্রনাথ সবে পৃজা-আহ্িক সারিয়া আসন ত্যাগ করিয়া উঠিয়া গ্লাড়াইয়াছেন, শরদিন্দু আসিয়া ভূমিষ্ঠ হইয়। প্রণাম করিল গুরুর মুখ-প্রতি চাহিয়া কহিল, একদিন আপনার কোনো কষ্ট হয়নি তো, গুরুদেব?

ইন্দ্রনাথ তাহাকে আশীর্বাদ করিয়া মৃদুহাস্তে বলিলেন, কষ্ট হবার কিযো” আছে শরো! শিপ্রা আমার গায়ে মশাঁমাছি পথ্যস্ত বসতে দেয়নি এমনি-ই তার যত্ব।

শরদিন্দুর ভালো করিগ্লাই জানা আছে, শিপ্রা প্রকৃতই কতো। স্সেহময়ী। এই আশ্রমের যতোকিছু দ্বাক্বিত্ব সেই হ্বেচ্ছায় নিজের উপর লইয়াছে। _ ক্ষণকাল নিঃশবে ইন্দ্রনাথের মুখের দ্রিকে চাহিয়া শরদিন্দু মাটির দিকে দৃষ্টি অবনত করিল, কহিল, আপনার চরণে আমার একটা মিনতি আছে, গুরুদেব

ইন্দ্রনাথ শিষ্যের কাধের উপরে একখানা হাত রাখিয়া বলিলেন, এখন নয়। তোমার কথা শুনবো পরে। এখন স্নান ক'রে পুজো-আহিকে ঝন।

অপলাধিকা' ১৫

এই বলিয়া তিনি ধারে ধীরে বাহির হইয়া উন্মুক্ত প্রান্তরে পড়িলেন।

ভিতরে প্রবেশ করিদ্না শরদিন্দু দেখিল, একপাল ছোটে। €ছোটো। মেয়েকে চতুদ্দিকে রাখিয়া শিপ্রা মাঝখানে বসিয়া নিবিষ্টমনে তাহাদের পাঠাভ্যাস করাইতেছে। এমনি শিক্ষা দেওয়া তাহার নিত্যকম্ম।

শরদিন্দু কিছুক্ষণ নীরবে ঈ্াড়াইয়া শিপ্রার পড়ানো শুনিতে লগিল। পূর্বে সে বহুবার এমনি শুনিয়াছে। কিন্তু আজ তাহার যনে হইতে লাগিল--শ্িপ্রার কথন্বর কী মধুর, কী লালিত্যপূর্ণ! শিগ্রার মুখের দিকে চাহিয়া থাকিয়া তাহার মনে হইল, ইহাকে সহধন্মিণীরূপে লাভ করিতে পাঁরিলে, জীবন ধন্ত হইবে শিগ্রা হইবে তাহার সঙ্গিনী। সে হইবে তাহার স্ঙগী। এই. ছুইটি মধুর সম্বদ্ধকে আশ্রয় করিয়। তাহাদের উভয়ের মধ্যে গড়িয়া উঠিবে--সাম্যের অনস্ত সঙ্গীত। সেই সঙ্গীত-স্থরে মুগ্ধ হইবে তাহারা--মুগ্ধ করিবে জগতের নর-নারীকে

শিপ্রার পড়ানে। প্রায় শেষ হইয়া আসিয়া ছিল। মুখ তুলিতেই চারি চক্ষে মিলন হইয়া গেল। শরদিন্দু হাসিল মাত্র। শিপ্রা হাসিল, কহিল, এখুনি ফির্লেন বুঝি ?

শরদিন্দু কথা ন! কহিয়া ঘাড় নাড়িয়! সায় দিল।

উঠিয়! দাড়াইয় পিপ্রা শরদিন্দুর নিকটে আসিল, বলিল, আমাদের আশ্রমে একটি নতুন লোক এসেছে আঙ্গন্‌, তার সঙ্গে আপনার আলাপ করিয়ে দি।

১৬ অপলাষিক৷

বলিয়াই সে নিঃসঙ্কোচে শরদিন্দুর একখানা হাত ধরিয় লইয়! চলিল।

কল্পনা একাকী একট ছোটে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং জগতের গত মহাপুরুষদের প্রতিকৃতি দ্বারা স্থশোভিত কক্ষের মেঝেতে বসিয়। গুন্-গুন্‌ স্বরে কীর্ভন গাহিতে ছিল। শিপ্রার সহিত অপরিচিত স্ুপ্রী যুবকটিকে দেখিয়া সে স্থুর থামাইয়া উঠিয়। ্াড়াইল। এবং ইহা দেখিয়া শিপ্রা মৃদু হাসিয়া কহিল, লজ্জা করো না, কল্পনা; অমরাবতী-আশ্রমের সভ্য হ'য়েছো, তখন অহেতুক-লজ্জীকে জয় ক'রুতে হবে যে!

বলিয়াই সে মুহূর্তকাল পরে শরদি্ুর যথাযথ পরিচয় দিয়া পুনশ্চ কহিল, তোমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিতে এসেডি কল্পনার্দি। এমন মানুষ খুব কম-ই দেখা যায়। এর সঙ্গে কথা কয়ে শাস্তি পাবে

শুনিয়া কল্পনা বিন্দুমাত্র চিন্তা না করিয়। বলিল, যে-কোনো মানুষের সঙ্গে কথা ঝ'লে সব সময়েই মনে শাস্তি পাওয়া যায়, যদি মনের অবস্থা ভালো থাকে নইলে, যতো ভালো লোকই হোক্‌ না কেন, শান্তি পাওয়া তে। দূরের কথা, কথা কইতে পর্যন্ত ইচ্ছে হয় না।

কথাশ্রলি যেমন অগ্রত্যাশিত। তেমনি সমর্থন করিবার বাহিরে শিপ্রা মনে মনে যারপর নাই অনন্তষ্ট হইয়া উঠিল, কহিল, অর্থাৎ তোমার মন এখন ভালো নেই, কেমন? কিন্ত এ-ক্ষেত্রেও তো। মানুষ, মানুষকে আরে! বেশী ক'রে পেতে চায়। মানুষের সংসর্গট। তো তুচ্ছের এবং তাচ্ছিল্যের বস্ত নয়!

অপলাধিকা ১৭

শিপ্রা আর সেখানে দ্াড়াইল নাঁ। শরদিম্দুকে লইয়া প্রস্থান করিল।

সে-দিন অপরাহ্ণ বেলায় ইন্দ্রনাথ আশ্রমের বাহিরে শ্তামল তৃণ-ভূমির একপার্থে বসিয়! আকাশের পানে মুগ্ধ হইয়া কি দেখিতে ছিলেন শিপ্র! নিঃশব্ধে আসিয়া তাহার গা” ঘেষিয়া বমসিতেই তিনি চক্ষু ফিরাইয়া ভাহার দিকে চাহিলেন, দেখিলেন _-শিপ্রার মুখাকুতি অসম্ভব গাস্ভীষ্যে ভরা। এতোখানি গাস্তীর্ধা তিনি তাহার মুখে ইতিপূর্বে দেখেন নাই। চিন্তিত হইয়। প্রশ্ন করিলেন, কি হ'য়েছে, মা? তোর মুখ অতো ভারী কেন?

শিপ্রা নীরব হইয়া রহিল

ইন্দ্রনাথ তাহার মাথায় সন্সেহে হাত বুলাইয়া নিরতিশর মিষ্টস্থরে পুরর্বার কহিলেন, রাগ ক'রেছিস্‌, শিপ্রা? ছিঃ! রাগ কণ্বৃতে নেই, মা! এতে মাঙ্গষের বড়ে ক্ষতি হয়।

শিগ্রা আরো! কিছুক্ষণ চুপ, করিয়া থাকিয়া বলিল, কল্পনাদি'র ব্যবহার গুলো যেনে। কেমন বিসদূশ ঠেকে ভদ্রতার লেশমাত্রও ওর মনে নেই--ওকে কোথা! থেকে নিয়েলে, বাবা ?

ইন্দ্রনাথ বুঝিলেন, কি একটা গুরুতর ঘটনার ফলে শিপ্রার মনেও বেদনার এবং অভিমানের রেখা অক্কিত হইয়া উঠিগ্বাছে। কল্পনার কোনে পরিচয় তিনি জিজ্ঞানা করেন নাই জিজ্ঞাসা কর! প্রয়োজন বলিয়াও ভীহার মনে হয় নাই। পরিচয়টুকু নর-নারীর মধ্যাদা যেমন বৃদ্ধি করে, তেমনি আবার হ্রাস করিয়া দেয়।

[২]

১৮ অপলাধিকা

বলিজেন, যার! এখানে আসে শিপ্রা, তারা একটু ভিন রকমের মন নিয়েই আসে। কিন্ত আমাদের তাতে দষ্লে তো চ'ল্বে নাঃ মা! আমাদের এই সব লোককে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবার যে চেষ্টা ক্বৃতে হবে। এ-ট্ুকু বিশ্বাস তাদের আছে, তাই তার এখানে আসে। নইলে, পৃথিবীতে অন্য জায়গার অভাব হয় না।

শুনিয়া শিপ্রা কয়েক মুক্ত নীরব হইয়া থাকিবার পর কহিল, সব চেয়ে বড়ো! আশ্চর্যের কথ! বাবা, যাকে তুমি দয়া ক'রে আশ্রয় দিয়েছো, সে আমাদের এই আশ্রমের বড়ে। উদ্দেশ্টটাকে সব সময়ে একট। না-জানার অন্ধকারে ঢেকে রাখতে চায়। মানুষের এই কৃতক্তাকে আমি অন্ুমৌদন কপ্বৃতে পারিনে।

ইন্দ্রনাথ স্পষ্টই বুঝিলেন, শিপ্রার এই অভিযোগ কল্পনাকেই উদ্দেশ করিয়া। কহিলেন, সে যদি না-জানার অন্ধকারে আশ্রমের উদ্দেশ্বাকে ঢেকে রাখতে চায়, তা? হলেও তাকে তো দোষ দিতে পারিনে, শিপ্রা। কিন্তু আমার মনে হয়, তুই ভুল বুঝেছিস্‌। সে তো তেমন মেয়ে নয়।

--তুমি জানে নাঃ বাবা। ভালো ঘরের মেয়ে নয়। নিজের মুখে-ই আমীকে একদিন ব'লে ছিল--ওর ব্যবসাই ছিল, বড়ো লোকের ছেলেদের নানাবূপে মন আকর্ষণ করা বাজারের যে লব'*,

শিপ্রা কথাটা শেষ করিল শা। ইহ] দেখিয়া ইন্দ্রনাথ মনে মনে হাসিয়া কহিলেন, গণিকা; কেমন এই তো তুই ব্ল্‌তে চাস্‌?

অপলাধিকা ১৯

এই বলিয়া তিনি শিপ্রার মুখের দিকে চোখ. তুলি! চাহিলেন, দেখিলেন, সে নীরবে মুখ নীচু করিয়া বঙিয়া আছে ইন্দ্রনাথ মুহূর্ত মাত্র মৌন থাকিয়। পুনরপি কহিতে লাগিলেন, কিন্তু হ'লেই বা! তাতে, তাকে দ্বণা করবার আছে কি, শিপ্রা ? সেও মান্ষ, ভগবানের স্ষ্ট-জীব | হয় তো কোনো দুষ্ট লোকের প্রবঞ্চনায় বেরিয়ে এসে ছিল। তারপর যখন বুঝলে, তখন ফিরে যেতেও হয় তে। চেয়ে ছিল তার বাড়ীতে কিন্তু সমাজের যে-দ্বার একবার খুলে বেরিয়ে আসা যায়, সে-দ্বার ফিরে যাবার পথ দেয় ন। তখনো ওর হয়তে। কামনা-বামনার শেষ হয় নি। কতোক্‌ট। সমাজের "পর অভিমানে এবং কতোক্টা নিজেকে শিখিল ক'রে গণিকাবৃত্তি অবলম্বন ক'রে নিয়েছিল। কিন্তু মানুষের গত-চরিত্র নিয়ে বিচার ক"রুলে সব সময়ে ঠিক বিচার হয় না, মা! বর্তমানট] তে। উপেক্ষা! করবার নয়!

কথায় কথায় দিনের অবশিষ্ট আলোটুকু অন্তমিত হইয়া ধরণীতে সন্ধ্যা নামিয়া আসিয়! ছিল। শিগ্রা একবার চোখ, তুলিয়া আকাশ-পানে চাহিয়া তখুনি দৃষ্টি নত করিয়া ইন্দ্রনাথের সুখ-পগ্রতি চাহিল, কিন্তু কোনে! কথা বলিল না। একটু পরে সে আশ্রমের ভিতর চলিয়া গেল।

একদার নিম্তব্ধ রাত্রি। শরদিনুর চক্ষৃতে নিদ্রা নাই। তাহার মনে দৌর্ববল্য বাস! বীধিয়াছে বোধহয়। কল্পনার কবপই ইহার হেতু এবং তাহারই দিকে মন ছুটিয়া চলিতে ছিল। এই ছুটিযা চলার মধ্যে ফে-ব্যাগ্রতা মন্লিহিত ছিল, তাহার মাপ-কাঠি, আজ, এমনি সময়ে শরদিন্দু কোনো মতেই খুঁজিয়া পাইল না।

পাঁচ বছর পূর্বে এমনি এক গভীর রজনীতে সে প্রথম অধ্রাবতী-আশ্রমে আসিয়া ছিল--দুূর্বল, ক্ষীণদেহ এবং ভগ্ন মন নইয়া। শিপ্রার একা গ্রতাপূর্ণ পরিচধ্যায় শরদিন্দু তাহার সুস্থ দেহ এব; প্রফুলিত মন লাভ করি ছিল।

শরদিন্দু উঠিয়া বসিল। কুঁজা হইতে জল গড়াইয়। পূর্ণ এক গ্লাস জল এক নিঃশ্বাসে পান করিয়া পারে অবস্থিত ভাগ বংখান। টানিয়া লইয়া প্রদীপ জালিন, জালিয়া চির মন দিবার চেষ্টা করিতে লাগিল।

কিন্তু না; ভাগবৎ এখন তাহার ভালো লাগিতেছে না। ইহার সংস্কৃত শব্গুলি শরদিন্দুর অন্তরে খোঁচা মারিয়া তাহাকে আরো বিমর্ষ করিয়া দিতে লাগিল।

বিঠন্ত হইয়া শরদিন্দু বইখান! একপার্থে তাচ্ছিল্যভরে রাখিয়া ,দিল। দিয়া ভাবিতে লাগিল--সহসা তাহার এই রূপজ মোহ আসিবার কারণ। আজ দীর্ঘকাল ব্যাপিয়! সে

অপলাধিকা ২১

ইন্দ্রনাথের শিষ্যত্ব গ্রহণ করিয়া আসিতেছে কিন্তু সে-সব কল্পনার যৌবনে ববপশিখায় পুড়িয়া ভম্মীভূত হইল নাকি ?

শরদিন্দু খুঁজিয়া একটা পিতলের বাশী বাহির করিল। আলোর স্থমুখে ধরিয়া, ঘুরাইয়া ফিরাইয়। দেখিতে লাগিল-_ধুল! পড়িয়া ইহার আসল বূপটাই নষ্ট হ্ইয়া গিয়াছে বোঁধকরি-_ বহুদিন সে বাশীট! হাতে লয় নাই

বাশী পরিষ্কার করিয়া শরদিন্দু সন্তর্পণে বাহির হইয়া আসিয়। সমল তৃণের উপর বসিল, বসিয়। বাশীতে ফুদিল। এবং একটু পরেই কীর্তনের করুণ-স্থুর বাজিয়া উঠিয়া, বাধন-হার। বাতাসে কাপিয়। কাপিয়া দূরে, বহুদুরে ব্যাপ্ত হইয়। পড়িল

শরদিন্দু তন্ময় হইয়া বাশী বাজাইতেছে। মাথার উপর 'অসীমাকাশের বুকে শুত্রচন্দ্র অপরূপ শোভা ধারণ করিয়! যেনো তাহারই দিকে তন্মর ভাবে চাহিয়া আছে। কী মপুর বাশী যাজাইতে-ই না পারে সে!

এমনি অনেকক্ষণ কাটিয়া গেল। এক সময়ে শরদিন্দু এষ্ঠ হইতে বাশীটা নামাইতেই সেই নিশ্মল স্বাভাবিক আলোতে দেখিতে পাইল--একটি নারীকে 1 তাহার চক্ষুকে বিশ্বাস হইতে ছিল না। প্রশ্ন করিল, কে, কে বসে ওখানে ?

--আমি, কল্পনা কিন্ত আপনি কি ভয় পেয়েছেন?

--ভয়? ভয় আমি কারুক্কে ক'রিনে

কল্পনা হাসিল। সেহানি দেখিলে বিগত্ত-যৌবন পুরুষেরও প্রাণে যৌবনের মাদকতার স্পর্শ জাগির৷ উঠে। বলিল, কাউকেও ভয় করেন না? ভগবানকে ?

২২ অপলাষিকা

--না॥ ভগবানকে ভয় ক'রিনে, বিশ্বাস করি

অনেকক্ষণ কেহ কোনো কথা কহিল না। কিন্ত এক সময়ে কল্পনা সেই নীরবতা দুর করিল। শরদিন্দু মুখপানে চাহিয়া কহিল, আপনি কী চমৎকার বাশী বাজাতে পারেন! আমার কীর্তনের স্থর শুনতে ভারী ভালো লাগে বাজান্‌ না?

শরদিন্দু মাথা নাড়িরা বলিল, না। স্বর বাধা পেলে সেট! প্রাণহীন হয়ে পড়ে। এটা ভগবানের আশীর্বাদ ইচ্ছ। হলেই সঙ্জীতকে কেউ নিজের হাতের মধ্যে পেতে পারে না

কল্পন! প্রতিবাদ করিয়া কহিল, যে-জিনিষটা মাস্ুষের' নাগালের বাইরে চ”লে যায়, সে-টাকে সে ভগবানের আশীর্বাদ এবং সাধনার বস্ত্ব বলে ক্ষেপে ওঠে কিন্তু যা আয়ত্বের মধ্য, তাকে (স নিজের বলে মেনে নেয়। এই দেখুন না; আমি সঙ্গীতকে কোনে দিন-ই ভয় করিনে। ষখন নানা রকম লোকের মন রাখবার ব্যবসা কস্রৃতুম, তখন যে-কোনো সময়েই গানের স্বর কে আন্তে হ'তো।॥ কৈ, একদিনের জন্যেও তে। নিজেকে শূন্য মনে করিনি !

স্পআপনার কথা আলাদ]।

--কেন আলাদ।? আপনারা-ই তে। বলেন- সব মানুষ ভগবানের স্থপ্ঠ। তবে একজন যে-কাজ পারে, অন্যে সে-কাজ পারেনা কেন?

শরদিন্দু এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজিয়া পাইল না একটু পরে বলিল, আপনি যান এখান থেকে এতে রাক্রে আপনাকে এখানে দেখলে, অনেকে অনেক কথা ভাববে

অপলাধিক৷ ২৩

--কি ভাববে লোকে?

--সে অনেক কথা। সব কথা মেয়েদের খুলে বল! যায় না।

--কিন্ত শুনেছি--ধার! সাধুপুরুষ, তারা কোনে! কথ! কারুর কাছে গোপন করেন না। তাদের ভেতর-বাইরে সমান

কল্পনার এই মন্তব্যে শরদিন্দুর সু-্রদবয় কুঞ্চিত হইয়! উঠিল কল্পনার দৃষ্টিতে সেটুকু ধর] পড়িল, বলিল, রাগ ক'বূলেন? কিন্ত জানেন তো আমার ব্যবসাই ছিল, কথা বেচে লোকের মন আকর্ষণ কর]!

-না, রাগ আমরা করি নে। নির্বোধ মানুষের জন্যে দয়া হয় মাত্র।

বলিতে বলিতে শরদিন্দু উঠিয়া ধ্াড়াইল।

কল্পনাও বসিয়া রহিল না। উঠিয়া কহিল, নির্বোধ শুধু আমি নই, আপনিও ওপরে স্থনির্মল আকাশ, লীচে চাদের স্থবিমল জ্যোতাধারা, ততোধিক সুন্দর আপনি। নিজের রূপের এবং যৌবনের অপমান করেন যিনি এমনি অন্ুপম রাজে, তিনি নির্বোধ ছাড়া আর কি?

বলিয়া সে শরদিন্দুকে উত্তর দিবার অবকাশ না দিয়া ভ্রুত লে-স্থান ত্যাগ করিল।

শরদিন্দু বিম্ময়ে অভিভূত হইয়া পড়িল আজ তাহার মনে হইল, কল্পনা শুধু নারী নহে,__নারীর কামনা-বাসনা তাহার শিরা-উপশিরায় বহিয়! চলিয়াছে।

-শাবচ-.

অমরাবতী-আশ্রমটিতে দুইটি নারী একটি পুরুষকে কেন্দ্র করিয়া পরস্পরের মধ্যে যে-আবহাওয়ার স্যট্টি করিল, তাহাতে ইন্দ্রনাথ সত্য-সত্যই নিরতিশয় বিচলিত এবং ক্ষুপ্ন হইয়া উঠিলেন। শরদিন্দুর দিক দিয়াও দেখিলেন, সে দিন কতোক ধরিয়। কেমন সকল বিষয়ে নিলিঞ্চ হইয়া! রহিয়াছে পূর্বে সে খ্বত:প্রবৃত্ত হইয়। ইন্দ্রনাথের সহিত বহক্ষণ-ব্যাপি একাগ্রতা- সহকারে ধর্মমপুত্তক লইয়া আলোচন। করিত, এখন তিনি যাচিয় আলোচন। করিতে গেলেও, শরদিন্দু ছুই দণ্ড বসিয়া শুনিতে চাহে ন।। পৃজা-আহ্িক ন| করিলেই নয়, এমনি মন লইয়া সে কোনো প্রকারে সারিয়া লয়। ইহার মধ্যে এখন সে পূর্বের মতো! নিজেকে নিবিষ্ট করিতে পারে না। হয়তো পৃজা-কাঁলীন কল্পনার মৃষ্টি তাহার ছুই চক্ষুর উপর ভাসিয়া উঠে

শিপ্রা পূর্বে যে-রূপ নিজেকে সকল কাজের মধ্যে নিযুক্ত রাখিত, এখনে! সেইক্প রাখে কিন্তু দেখিয়া মনে হয়-- তাহার এই নিযুক্ত থাকার ভিতরে এখন নাই প্রাণ, নাই প্রেরণা অন্তরের গভীরতম স্থান হইতে বেদনার যে-বিপুল উচ্ছ্বাস বাহিরে প্রকাশ হইয়া পড়িতে চাহে, তাহা প্রাণপণে দমন করিয়া কাজে লিপ্ত থাকিলে যেমন দেখায়, ইহাও ঠিক্‌ তেমন্টি।

অপলাধিকা ২৫

কল্পনার সাধিয়! শরদিন্দুর সহিত আলাপ করা, হাসা, এগুলি শিপ্রার ছুই চক্ষুকে অত্যন্ত গীড়। দেয়। সময় সময় তাহার মনে হয়, ছুই চক্ষুকে উত্তপ্ত লৌহের সাহাযো চিরদিনের মতো অন্ধ করিয়া ফেলে। দৃষ্টিই যে মানুষের সকল অনিষ্টের কারণ।

অথচ শিপ্রা একদ1 কল্পনার সহিত শরদিন্দুর পরিচয় করিয়। দিয়া ছিল। এবং সেইদিন কল্পনা শরদিন্দুর উপর যে ওঁদাসীন্ত দেখাইয়! ছিল, তাহাতে শিপ্রার ক্রোধের সীমা! ছিল না। এখন শরদিন্ুর উপর তাহার অন্গরাগ দেখিয়া শিপ্রা পূর্ববাপেক্ষ। ক্রুদ্ধ এবং ক্ষুব্ধ হইয়া উঠিল। মানুষ কতো! ভূল-ই না করিয়া থাকে !

যখন এইভাবে দিন অতিবাহিত হইতে ছিল, তখন একদিন ইন্দ্রনাথ শরদিন্দুকে ডাকিয়। কহিলেন, তোমাদের ছু'জনের মধ্যে কিসের একটা ঝড় বহে চ'লেছে। কিন্তু এটা তো ভালো নয়, শরে।! মানুষের মন নিয়ে রেশারেশি আমি পছন্দ ক'রিনে। আমরা আশ্রমবাসী, গৃহত্যাগী ; আমাদের যে এ-জিনিষটাকে ত্যাগ ক'বৃতেই হবে !

শুনিয়া শরদিন্দু ছুই, তিন মিনিট, অধোমুখে মৌন হইয়া রহিল। তাহার পর এক সময়ে মুখ তুলিয়া ইন্দ্রনাথের দিকে চাহিয়া বলিল, আমাকে যাবার অনুমতি দিন্‌। এখানে আমার...

কথাটা শত চেষ্টায়ও সে পূর্ণ করিতে পারিল না। নত মুখে চুপ করিয়া দাড়াইয়! রহিল

ইন্দ্রনাথ যনে মনে নিতান্তই নিরুৎসাহ হইলেন, বলিলেন, কেন? এই তে! সেদিন বাইরে থেকে এলে ! আবার কেন?

আমার এখানে আর ভালে লাগছে না।

২৬ অপলাষিক৷

এই কথায় ইন্দ্রনাথ এতো। অধিক বিস্মিত হইলেন যে, ক্ষণকাল কোনো বাকাই তাহার মুখ হইতে নিঃ্থত হইল না। শরদিন্দুর নিকট হইতে তিনি এবস্বিধ উত্তরের তিলমাত্রও প্রত্যাশা করেন নাই।

ইন্দ্রনাথ সেই বিস্মিতভাব কাটাইয়।! কি বলিবার উপক্রম করিতেই শরদিন্দু অকম্থাৎ তাহার পদত্বয় চাপিয়] ধরিয়া, কাদিয়! ফেলিল এবং বাষ্পরুদ্ধত্বরে কহিভে লাগিল, আমি অবিশ্বাসী আমায় ছেড়ে দিন। আমি আর আপনাকে প্রতারিত করবো! না। আমায় ক্ষম। করুন, গুরুদেব।

ইন্জরনাথ নীচু হইয়া ভাহার হাত ধরিলেন, তাহাকে সোজা করিয়া ঈ্লাড় করাইয়। দেখিলেন-_-তখনে। তাহার ছুই চোখের কোণ বাহিয়! অক্রবিন্দু ঝরিয়া পড়িতেছে হাত দিয়! শিষ্যের চক্ষু পরম দ্ষেহে মুছাইয়া দিলেন, দিয়া কোমল স্বরে বলিলেন, কাদিস্নে, শরো। তোদের চোখের জলে আয়ার এই শুন্য বুকটাও কেঁপে ওঠে, বাবা !

বলিতে বলিতেই ত্রীহ্ার কঠম্বর আর হইয়া উঠিল। ইহা তাহার নিজের কানে ধরা পড়িতেই মুহূর্তের দৌর্বল্যকে জোর করিয়া দূর করিলেন, কহিলেন, আচ্ছা, যা” তুই। যেখানে তের প্রাণ চায়। তুই ঘা+-তোকে আমি জোর ক'রে এখানে রাখ তে চাইনে।

এই বলিয়া ইন্দ্রনাথ বোধকরি ছুর্বলতাকে দূর করিবার অভিপ্রায়ে ক্রুত সে-স্থান ত্যাগ করিলেন।

রাত্রে শিপ্রা শরদিন্কুর শম্পন-কক্ষের দ্বারে নিঃশব্দ পদবিক্ষেপে আসিয়। ঈ্লাড়াইল। কক্ষের দ্বার ভিতর হইতে অর্গলবদ্ধ ছিল

অপলাষিকা। ২৭

না। সে হাত দিয়া সম্মুখ দিকে ঠেলিতে দ্বার উম্মুক্ত হইল।

একটা! উন্মুক্ত জানালার মধ্য দিয়! টাদের ন্ষিপ্ক-কিরণ আলিয়া পড়িয়া ছিল--নিদ্রিত শরদিন্দুর মুখের উপর | শিপ্রা অপলক- নেত্রে সেদিকে চাহিয়া রহিল। আজ তাহার অনেক কথাই মনে পড়িল। পাঁচ বছর পূর্বে, শরদিন্দুকে সে-ই আপন হস্তে সেব।- শুশ্রষা করিয়া মৃত্যু হইতে রক্ষা করিয়া ছিল। পূর্ব্বের সেই দিনগুলি বেশ স্খে-স্বচ্ছন্দে অতিবাহিত হইতে ছিল। কিন্তু কোথায় হইতে কল্পন। আসিয়া তাহার জীবনের সমস্ত আশা উদ্যম, প্রেরণা কোন্‌ এক যাছুকরের হাছু-মন্ত্রের মতে। ফুৎকারে বাতাসের সহিত মিশাইয়! দিয়া গেল।

শিপ্রার চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল। শরদিন্দুর শিয়রে বসিয়া পড়িয়া তাহার কুঞ্চিত কেশপাশে নিজের অঙ্কুলি চালনা করিতে করিতে বাম্পরুদ্ধ কণ্ঠে ডাকিল, শরোদাঃ !

শরদিন্দু জাগিয়া, নিদ্রা যায় নাই। তাই এক ডাকে সাড়। দিয় চক্ষু মেলিয়া চাহিল, দেখিল--জ্যোত্ন্রার সহিত মিশ্রিত একটী জীবের ছায়াকে। এ-ছায়। তাহার অপরিচিত নহে।

শরদিন্দু উঠিয়! বসিল, কহিল, কে--শিগ্রা। ?

শিপ্রা নীরব হইয়া রহিল।

কিন্তু শরদিন্দু উদ্ধিপ্রে সরিয়া আসিয়া প্রদীপ জ্ালিল। জালিয়া প্রদীপ হাতে লইয়া শিপ্রার মুখের সঙ্গিকটে গেল। ভালো করিয়া দেখিল--তাহার হরিণীর ন্তায় ছুইটি আয়ত নেত্রের তার। অশ্রুতে সিক্ত হইয়। উজ্জ্রলরূপ ধারণ করিয়াছে

২৮ অপলাষিকা

শরদিস্দু নিঃশবে ধীরে ধীরে প্রদীপটি যথাস্থানে রাখিয়া দিল, কহিল, এতো রাত্রে আমার ঘরে এসেছে কেন, শিপ্রা? তুমি আশ্রমের কোনে! নিয়মই মান্লে না। গুরুদেব জান্তে পারুলে কি ভাববেন বল'তো।? যাও শিগ্রা, তোমার নিজের ঘরে।

শিপ্রার কক্ষত্যাগ করিবার কোনো লক্ষণই দেখা গেল না। সে গোপনে চক্ষু মুছিয়া মনের আবেগে বলিতে লাগিল, ভাবুন্‌ তিনি। তিনি এটুকু বোঝেন না, যে, মানুষে কতো বড়ে। বেদনায় মান্গষকে আশ্রয় করতে চায়! আশ্রমে প্রতিপালিত হয়েছি বলেই কি নিজের মনের উদ্বেগ এবং আকাজ্ষাকে জয় করতে পেরেছি? আমার মনের আকাজ্ষা এবং বাসনাকে আমি জোর ক'রে চেপে রেখে বাইরে সাধু ঝুলে পরিচয় দিতে চাইনে। এতে নিজেকে তে] প্রতারিত করা হয়, এমন কি অনেককেও প্রতারিত কর। হয় শরোদা?, আমি এখানে আর থাকৃতে চাইনে। যেখানে আপনি যাবেন, সেইখানেই আমাকে নিয়ে চলুন | নারীর প্রাণের কামনা, শুধু মনকে ফাকি দেওয়া নয়।

শরদিন্দু সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ আজ পীচ বছর যাবৎ যে-নারীর সংসর্গ সে লাভ করিয়! আসিতেছে, তাহাকে সে প্রভাখ্যান করিতে পারিল না। শিপ্রার মুখখানি নিজের ছুই হাতের মধ্যে চাপিয়া দৃষ্টির উপর তুলিয়া ধরিল, আরজ স্বরে চুপি দুপি কহিল, পাবুবে, পার্বে শিপ্রাঃ আমীর সঙ্গে এই রাজ পালিয়ে যেতে ? |

অপলাষিকা ২৯

শিপ্রা অস্ফ-স্বরে উত্তর দিল, পারুবো।

স্তবে এসো খুব মাবধান্‌।

এই বলিয়। শরদিন্দু শিগ্রার একখানা হাত ধরিয়া কক্ষের বাহিরে আমিল। কেহ কোথায় নাই। গভীর রাত্রি গা নিস্তন্ধতার মধ্যে আত্মসমর্পণ করিয়াছে।

- চছ়ী -্"

পরদিন প্রত্যুষে শধ্যা ত্যাগ করিয়া ইন্ত্নাথ নিজের শয়ন- কক্ষের বাহিরে আসিয়। দেখিলেন, আশ্রমের যে-সকল স্থান শিগ্র! নিজ্জ হস্তে পরিষ্কার করিয়! রাখিত তাহার উঠিবার পূর্বেই, সেই সকল স্থান অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় থাকিয়া যেনে! তাহাকে বিদ্রপ করিতেছে।

ইঞ্ত্রনাথ ভাবিলেন, হয়তো। আজ শধ্য! ত্যাগ করিতে শিপ্রার বিলগ্কব হইয়। গিয়াছে তাহার শয়ন-কক্ষের দ্বারের দিকে অগ্রসর হইয়া দেখিতে পাইলেন, দ্বার উন্মুক্ত) শয্যার দিকে দৃহি পড়িতেই তাহার বুঝিতে বাকী রহিল না যে, গত রাত্রে ইহার উপর কেহই নিদ্রা ষলায় নাই। |

ইন্্রনাথের মন দুশ্চিন্তায় পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল। ধে-পথ দিয়া আসিয়া ছিলেন, মেই পথ দিয়া ফিরিয়া গিয়া শরদিন্দুর কক্ষে প্রবেশ করিলেন। এই স্থানে কাহাকেও দেখিলেন না। মাটিতে বিছানো শধ্যার উপর দৃষ্টিপাত করিয়া বুঝিলেন, ইনার উপর গতরাত্রে শরদিন্দু শয়ন করিয়া ছিল। মাথার বালিশট। বিছানার বাহিরে গিয়! পড়িয়া ছিল, ইন্জ্রনাথ নত হইয়! সেটাকে বিছানার উপর নিঃশকে রাখিলেন। কক্ষের একদিকে পিল্ন্থজের উপর প্রদীপটা বসানো ছিল--ইন্ত্রনাথ প্রদীপসহ পিল্ম্বজট। 'সরাইয়। অন্ত স্থানে রাখিলেন কক্ষের যাবতীয় জিনিষ, এমন

অপলাধিকা ৩১

কি, শরদিন্দুর কাপড়-চাদর পধ্যস্ত যথাস্থানে বিরাজ করিতেছে একটিও স্থানচ্যুত হয় নাই।

ইন্দ্রনাথের স্থম্পষ্ট রূপেই বোধগম্য হইল--শরদিন্দুর সহিত শিপ্রা তাহার অগোচরে চলিয়া গিয়াছে কিন্তু এমনি সংগোপনে চলিয়া যাইবার সঠিক কারণ ইন্দ্রনাথের অবধারিত হইল ন1। আজি প্রভাতে শরদিন্দুর যাইবার কথা ছিল। কোথায় যাইবে, তাহা ইন্দ্রনাথ পূর্বদিন জিজ্ঞাস করেন নাই। মনে করিয়। ছিলেন--আজ প্রভাতেই জানিয়৷ লইবেন।

ইন্্রনাথ বাহিরে আসিয়া! উন্মুক্ত আকাশ-তলের পথে কয়েক পদ হাটিয়া এ-দিক্‌, ও-দিক্‌ দি তুলিয়া চাহিলেন। তাহার পর সজলচক্ষে আন্তে আন্তে ফিরিয়া আসিলেন।

কল্পন। বাহিরে আসিতেই দেখিল, ইন্দ্রনাথ মাথায় হাত দিয়! সুমুখের চাতালটার উপর উবু হইয়া বসিয়া আছেন। নিকটে আসিয়া! কহিল, কি হ'লো?

ইন্দ্রনাথ একবার চক্ষু তুলিয়া চাহিলেন মাত্র পরক্ষণেই সেইভাবে থাকিয়া বলিলেন, শরো আর শিপ্রা চলে গেছে।

_সেকি? কখন্‌ গেলো?

কাল রাঙ্ধে!

শুনিয়। কল্পনা কয়েক গর্ত স্তব্ধ হইয়া রহিল। পরে নত হইয়া ইন্দ্রনাথের একখানা হাত ধরিল, কহিল, ঘরে আহ্মুন্‌ !

ইন্তরনাথ আপত্তি করিলেন না। বাধাও দিলেন ন1। কল্পনার হাতের উপর ভরু দিয়া ধীরে ধীরে উঠিয়া ঈবাড়াইলেন |

পূর্ববদিন মতো ইন্দ্রনাথ আজে পুজার প্রয়োজনীয় দ্রব্য সকল

৩২ অপলাধিক৷

লইয়! উপবিষ্ট হইলেন। কিন্ত আজ শিপ্রা নাই,শরদিন্দু নাই। চক্ষু বুঝিয় মস্ত্রোচ্চারণ করিতে গিয়া কেবল-ই তাহার কমনীয় মুখখানি মনে পড়িতে লাগিল। শিপ্রার মুখের কথ। গুলি পধ্যস্ত আজ এমনি সময়ে ইন্ত্রনাথের স্মরণ হইতে লাগিল এমনি রূপে যে, তিনি বেশীক্ষণ বসিয়া থাকিতে পারিলেন না। পুজাঅসমাঞ্ত রাখিয়াই আসন ছাড়িয়। উঠিয়া পড়িলেন। এবং কিছুক্ষণের মধ্যে আশ্রমের বাহিরে আসিয়া সোজ। পথ ধরিয়া চলিতে লাগিলেন

আশ্রমে যখন ইন্দ্রনাথ প্রত্যাবর্তন করিলেন, তখন দিনমণি আকাশের মধ্যস্থলে। কল্পন। পূর্ব হইতে পা” ধুইবার জল এবং গামছা ঠিক করিয়। রাখিয়া! ছিল। তিনি আসিতেই সে সযতনে তাহার পা" দুইটি ধুয়াইয়৷ গামছার সাহায্যে পরম যত্বে মুছাইর! দিল। কহিল, খাবেন চ'লুন্‌, বাবা!

আজ সর্বপ্রথম ইন্জ্রনাথকে কল্পনা এই সম্বোধন করিল।

বন্ম পরিবর্তন করিয়া ইন্দ্রনাথ আহারে বলিয়াছেন কঙ্পন। কক্ষের বাহিরে বসিয়া! তত্বাবধান করিতে ছিল ইন্দ্রনাথ ইহা লক্ষ্য করিলেন কিন্তু মুখে কিছুই প্রকাশ করিলেন ন1।

সামান্ত আহার করিয়া ইন্দ্রনাথ উঠিয়া পড়িতেই কল্পনা ব্যাগ্রতাসহকারে হিয়| উঠিল,ওকি বাবা? কিছুই যে খেলেন ন! ?

ইন্জ্রনাথ অশ্রুগোপন করিয়া হাঁসিলেন। হাপিয়া বলিলেন, আমার খাওয়া এর আগে তুমি দেখোনি আমি যা” খাই তাই থেয়েছি। অভ্যানকে আমি উপেক্ষ। করিনে।

কল্পনা এ-কথার জবাব দিল না। তাহার মনে হইল-- ইন্দ্রনাথের অস্তরে আজ ফাক্‌ এবং ফাকির অন্ত নাই।

সে বছর কতোক পূর্বের কাহিনী কল্পনা কলিকাতার কোনো একট] সম্ত্রাস্তশালী পরিবারের অস্ততভূতি ছিল। তাহার মা" গত হন-_ শৈশবে স্থতরাং, মাতৃ-ন্সেহ যে কি জিনিষ তাহা কল্পনার অজ্ঞাত ছিল। পিতা তাহার বাবসার়ী দিবারাক্ষি টাকাকড়ির বাপার লইয়াই থাকিতেন। বাড়ীতে চাকর, দাসী প্রভৃতি মাহিনা কর! লোক অন্দর মহলে রাজত্ব করিত। সেখানে কল্পনার স্থান যেখানেই থাকুক না কেন, মনে ছিল না একত্তিল শান্তি

কলেজে পড়া মেয়ে সে। একে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতা তাহার উপর বাড়ীতে সে থাকিত, অনাদৃতা, উপেক্ষিতার মতে।। পিতা প্রয়োজন না হইলে কথা কহিতেন না, বলিবার সময়ও বোধকরি থাকিত ন1। ব্যবসায় অর্থাগম হইতে ছিল, প্রচুর এবং এই অর্থলোভ তাহাকে জগতের ম্ষেহ, মমতা এবং কন্যার প্রতি কর্তব্য হইতে দূরে, বন্থ দূরে টানিয়া লইয়। কঠোর শুদাসীন্তের অন্ধকুপে নিক্ষেপ করিয়া ছিল

কল্পনার সর্বধাবয়ব বেষ্টন করিয। তখন যৌবনের বান্‌ ডাকিয়া ছিল। এই সময়ে সে একদা যে-কাজ করিয়া বসিল উন্মাদনায়, তাহার পরিসমাপ্তি যে কোথায়, তাহ। আজো বোধহয় পে নিষ্ধারণ করিতে পারে নাই। এ-যেনো শৈল-শিখর হইতে

১০

৩৪ অপলাধিক!

প্রবাহিত শোতশ্বিনী নদীর মতো। নীচের লোকে ঠিক করিতে পারে নাঁ-কোথায় ইহার উৎপত্তি আর যাইবেই বা! কতোদুর !

কলেজের 'কো-এডুকেশ্তন্ বাংলা দেশের ভালো করে, কি মন্দপথে নর-নারীকে জ্ঞাত এবং অজ্ঞাতসারে টানিয়! লইয়া যায়, সে-মীমাংসা কর! উদ্দেশ্ট নয়। তবে ইহার সহিত কল্পনার জীবনের যে-ধার! মিশ্রিত হইয়। আছে, তাহাকে লইয়া আলোচনা কর একট1 আবশ্থকীয় ব্যাপার বটে !

ছেলেটির নাম, সুকোমল। কল্পনার সহিত একক্লাশেই পড়িত। ছুই জনের মধো আলাপ হয়--কলেজের একটা বাংল। প্রবন্ধ-প্রতিযৌগিতাকে স্থত্জ করিয়া। ছেলেটির মেধ।--অনন্য- সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গত পরীক্ষায় প্রথম অথবা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার দিকে তাহার তেমন লক্ষ্য ছিল নাঁ। কিন্তু পাঙিত্যের দিক দিয়! ধবিতে গেলে, অধ্যাপকগণও সর্বতোভাবে স্বীকার করিতেন-_-লেখাপড়ার সম্বদ্ধে অনেক কিছুই এই ছাত্রটির কাছে শিখিবার মতো! জিনিষ আছে

কল্পনারও অজানা! ছিল না, ছেলেটির প্রতিভা তাহার বাংলা এবং ইংরাজি ভাষার পরিপুষ্ট জ্ঞানের পরিচয় সে পাইয়। ছিল--বিভির সাময়িক পত্রিকায় ছেলেটির প্রবন্ধ পড়িয়া প্রবন্ধ রচনায় ছেলেটির বিশেষ নৈপুণ্যের পরিচয় শুধু কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং অধ্যাপক মহলের জানার সীমানায় আবদ্ধ হইয়া পড়ে নাই। বাহিরের লোকেও তাহাকে চিনিষা ছিল৷

ব্যাচ

চি

অপলাধিকা ৩৫

তাই একদিন কল্পনা কলেজের ছুটির পর পথেব উপরে ছেলেটিকে উদ্দেশ করিয়া বলিয়া ছিল, একটু ঈগীড়াবেন ?

ছেলেটি দীড়াইয়া ছিল। ঘাড় ফিরাইতেই চোখে পড়িয়া ছিল--কল্পনাকে একটু ইতত্ততঃ করিবার প্ব সে প্রশ্ন করিয়া ছিল, আমাকে কিছু ব্ল্বেন?

কল্পনী মুখ নীচু করিয়া একখানা বাঁধানো অতি চযৎক!র খাতা ছেলেটির হাত লক্ষ্য করিয়া বাড়াইয়৷ দিয়া নিরতিশয় শান্তন্বরে বলিয়া ছিল, আমার এই প্রবদ্ধট। যদি একটু দয়! ক'বে দেখে দেন্‌।

--প্রবন্ধ---কিসের প্রবন্ধ ?

তাহার পর কলেজের আসন্ন প্রতিযোগিতার কথা মনে পড়িযা যওয়াতে পুনশ্চ বলিয়া ছিল, কম্পিটিশ্ঠনের জন্যে বুঝি 'আপনি তৈরী হচ্ছেন? "আচ্ছা দিন--দেখে দোবো।

এই বলিয়া স্থকোমল কল্পনার হাত হইতে খাতাখান। নিচ্ছে হাতে লইয়া ছিল।

ইহাই তাহাদের প্রথম আল।প-পরিচয়ের সংক্ষিপ্ত কাহিনী

কিন্ধু সমুদ্রের বিশালতা জল-কণার একত্র সমষ্টি। এই ছুইটী অবিবাহিত তরুণ-তক্ষণীর এই প্রথম লজ্জার মধ্য দিয়া আলাপ-পরিচয়ট্রকু সময়ের বৈগুণ্যে প্রেমের ধারায় গভীর ভইয় উঠিয়৷ ছিল।

আলাপের প্রথম পর্যায় যেটুকু সলজ্জভাব তরুণ নর নারীর মনের ভিভর থাকেঃ পরে মেলা-মেশার প্রভাবে সেটুকু কালো মেঘের মতো ধীরে ধীরে অনৃশ্য হইয়া যাঁয়। আব সই

৩৬ অপলাষিকা অপসরণের মধ্যে যে-ন্প এবং আলো তাহারা দেখিতে পায়, তাহাতে নিজেরা তো! এক সময়ে বিম্মিত হয়ই, এমন কি বিশ্বের আরে! দশ জনকে আশ্চধ্যান্থিত করিয়া তুলে

এমনি বিম্ময়কর ব্যাপার ঘটিয়া ছিল---কল্পনার পূর্বব-জীবনে ইহার জন্য আজো পথ্যস্ত সে প্রাণে অনাবিল শান্তি খুঁজি পায়ন

আর মেই ছেলেটি? তাহাকে দোষ দেওয়া যায় কি? যে-ষহীরুহ গৃহের দক্ষিণভাগে মাথা উচু করিয়া গৃহস্থের আনুলা অবরুদ্ধ করিয়। দাড়াইয়াছে, তাহার বাঁজ যাহাতে মাটিতত উপ্ধ হইতে ন। পারিত, সে-দিকে তো গৃহস্বামীর লক্ষ্য রাখা উচিত ছিল? কল্পনাদের বাড়ীতে প্রতাহ চায়ের নিমন্ত্রণ, এবং চ-পান ইত্যাদি সমাপনে ইডেন্‌ গাঙডেন্‌ ভ্রমণে ছুই জনে বাহির হইয়া, অধিক রাত্রে মোটরে করিয়া কল্পনাকে বাড়ী পৌছাইয়৷ দিয়! যাওয়া, কল্পনার বাবসায়ী-পিভার দুর এডায় নাই কিন্তু, ইহার বিরুদ্ধে কোনে প্রকার প্রতিষেধক সাবাস্ত ন। করিয়। পূর্বের ন্তায়-ই উদাসীন রহিলেন ইহাতে এই ফল হইল যে, একদ। কল্পনাকে লইয়। ছেলেটি গা” ঢাকা দিল।

হিন্দু-বাডালীর সংসারে পূর্ববরাগ নাকি এই জন্যই ভয়াবহ একটি ছেলে, একটি মেয়ের ভালোবাসায় পড়িয়া উদ্ত্ত হইয়? উঠে! যদি একজাতির মধো ভাগ্যক্রমে পূর্বরাগ জমিয়া উঠে, 'তবে বিবাহের এবং সমাজের দিক দিয় উভয়ের পক্ষেই শাস্তিগ্রদ | কিন্তু উভয়ে ভিন্নজাতির হইলে, অনেক স্থলে ইহার পরিপাম বড়োই শোচনীয় হইয়। দেখা দেয়।

অপলানিকা ৩৭

নারী কুন্থমের মতো শুধু মৌমাছির স্তায় মধু চয়ন করিবার (লোভে কুস্থমে মুখ দিলে চলিবে কেন? নারী শ্বাধীন নয়। পুরুষের উপর নিজ্জেকে বিলাইয়। দিয়া ভবিষ্যৎ উহারই হস্তে স্যত্ত করে। কিন্ছ পুরুষ সে-বিশ্বাসের, সে-একাস্ত নির্ভরতার মূল্য বুঝে কৈ? আপনার ষোলো আনা দাবী পূরণ করিয়া নারীকে ছাড়িয়া দিয়! ভাবে--আপদ গেল।

কিন্তু নারী? ধাহাকে সে একবার আত্মসমর্পণ করিয়াছে-. ভুলেই হৌক আর শ্বেচ্ছায়-উ হৌক-_-আজীবন হয়তো তাহাকেই শ্মরণ-মন্দিরে দেবতা করিয়াই রাখিয়া দিবে! মাত্র অর্থ্যেব প্রভেদ !

তাই, কল্পনাকে ছাড়িয়া দিয়া হখন ছেলেটি চলিয়া গেল, তখন কল্পনার না রহিল গৃহে ফিরিয়া! যাইবার উপায়, না রহিল সমাজের দরজ। উন্মুক্ত

ভাঙ্ের ভর।-নদীর সৌন্দধা বুদ্ধি পায়। এই শৌন্দধ্োের মাপ-কাঠি নারীর ভরা-যৌবনের সহিভ সামঞ্জস্য রাখে। কল্পনার রূপ গশিক! সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকধণ না করিয! পারিল না। এবং একদিন যে-বাড়ীতে কল্পনা বাস করিতে ছিল, সেই বাড়ীর বিগত-যৌবন! একটি মহিলা কানে-কানে ফেংপ্রস্তাৰ করিল, তাহাতে কল্পনার সর্বশরীর দ্বণায় এবং কুঠায় শিহবিয়। উঠিয়া ছিল।

কিন্তু মাষ--মান্ষ-ই | সে দেবতা! বা দেবী নহে। দুধিভ 'আবেষ্টনের প্রভাব মানুষের উপর পড়া খুবই স্বাভাবিক বঙষ্টানা একদিন নিজের দুর্বলতায় পা* পিছলাইয় পড়িল।

৩৮ অপলাধিকা

কিন্তু বেঈীদিন নহে একদিন রাত্রে গোপনে সে পালাইয়। আদিল। গুনিয়। ছিল--অমরাব্তী-আশ্রমের কথ।। গ্ুনিয়া ছিল সে--ইন্ত্রনাথের সাধুতার কাহিনী

_ আট __

মন্ত বড়ো বাড়ী। কলিকাতারও বুকের উপর এমনি ইমারৎ সচরাচর চোখে পড়েন বাড়ীর প্রকাণ্ড গেটের ছুই ধারে দুইটি শিপাই-_বন্দুকে সঙ্গীন লাগাইয়া কাধে বহিয়া, দাড়াইয়। থাকে গেট, পার হইলে- প্রাঙ্গণ। ইহারই মাঝামাঝি জায়গায় স্বর্ণা

প্রাঙ্গণ পার হইলেই পৃজার দালান পৃর্ব্বে ঘটা করিয়া দুর্গেতৎসব হইত। এখন লোকের অভাবে বন্ধ হইয়া আছে!

শরদিন্দুর দাদা আর বৌদির একসাথে মৃত্যু বড়োই মর্ধন্তদ্‌ কাহিনী। কি একটা হিন্দুর মহাপর্কবোপলক্ষে তাহারা স্বামী-স্ত্রীতে গঙ্গান্নান করিতে গিয়া ছিলেন। হঠাৎ জোয়ারের মুখে পড়িয়া যাওয়ায় শরদিন্দুর বৌদি শোতের মধ্যে তলাইয়া গেলেন। দাদ! সাতার জানিতেন ন1। কিন্ত জীবনের মায়া না করিয়। বুথ! স্ত্রীকে রক্ষা করিতে গিয়া, নিজের জীবনও গঙ্গা-বক্ষে বিসঙ্জন দিলেন।

এই আকম্মিক দুর্ঘটনায় শরদিন্দু অন্তরে-অন্তরে নিরতিশয় ব্যথিত হইয়া উঠিয়া ছিল। কী ভালোই ন। বাসিতেন তাহাকে দাদা, বৌদি। ইহাদের মৃত্যুতে সংসারের প্রতি শরদিন্দুর বীতশ্রদ্ধা জাগিয়! উঠিয়। ছিল। তাই, একদা নিমাই সঙ্্যাসের ন্তায় মাতার অজ্ঞাতপারে গৃহ ত্যাগ করিয়া ছিল। মনে

৪০ অপলাষিকা

করিয়া ছিল--যৌবনটাকে আশ্রম-কার্যযে ব্রতী করিয়া অন্তরে শাস্তি পাইবে

কিন্তু কামন! যাহার শেষ হয় নাই, ত্যাগ তাহার পক্ষে সাজে না। শরদিন্দু শিপ্রাকে পাইয়া জীবনকে পুনর্ববার নৃতন রূপে দেখিল। সংসারী মানুষের মতো তাহার মনোবুতি। ইহাকে সে কোনে! মতেই দূর করিতে পারে নাই।

শিপ্রার সহিত বাড়ীতে ফিরিয়! আসিবার দিন দুই পরে শরদিন্দুর বৃদ্ধ! মাতার মৃত্যু হইয়াছে মার শ্রাদ্ধ-শাস্তি ঘা সময়েই খুব আড়ম্বরের সহিত স্ুসম্পন্ধ হইয়। গেল। প্রত্যেকেই পেট ভরিয়া আহার করিয়া সন্তষ্ট চিত্তে বলাবলি করিতে লাগিল--এমন খাওয়া তাহারা বহুদিন খায় নাই। ভগবান শরদিন্নুকে দীর্ঘায়ু এবং অরে! অর্থশালী করুন !

নাঃ সা কা

শরদিন্দুর বাড়ীর পুরোহিত শল্তুনাথ ভট্টাচার্যের বয়স প্রোচত্বের সীমার বাহিরে আসি-আসি করিতে ছিল। প্রাত্যহিক গঙ্গান্ান করা অভ্যান আছে বটে, কিন্তু কপালে তিলকৃ কাটিবার সাধ নাই। মাথার উপরে শিখা আছে, তবে দৈধ্যে অল্প। কখনো সাদ! থান পরিয়া, গায়ে চাদর জড়াইয়া পথে বাহির হন, আবার অফিসে যাইবার সময় কালা-পেড়ে মিলের পাল! ধুতি এবং আদ্ধির পাঞ্জাবী অঙ্গে ধারণ করেন মোট-কথ! ভষ্টাচাধ্য মহাশয় স্থলে হত্তপদ সঞ্চালন করেন, এবং নময়োপযোগী গভীর

ন্‌

অপলাধিকা ৪১

জলেও সম্ভরণ করেন। যেনো কতোকটা নিজেকে বাঁচাইয়া স্বার্থের প্রতি ছুটিয়া চলার মতো

একদিন অপরাহ্ধ বেলায় শরদিন্দু শিপ্রাকে সঙ্গে লইয়া ভ্রমণে বাহির হইবার উদ্যোগ করিতে ছিল। নীচে শল্ুনাথের গলার আওয়াজ পাইয়া শিপ্রাকে কহিল, ঠাকুরমশাই এসেছেন শিপ্রা, তুমি নীচে গিয়ে গুকে আসন পেতে ঝ্স্তে দাও। আমি এখুনি যাচ্ছি

শুনিয়া শিপ্র। মৃহূর্তের মধ্যে গম্ভীর হইয়া উঠিল, কহিল, কিন্ত আমার গুকে বড়ো ভয় করে। তুমি তো জানো, আমাকে এখানে আন। অবধি গুর অস্বস্তির আর চিন্তার যেনো শেষ নেই। তোমায় আমায় যা'তে ছাড়াছাড়ি হয়, তারই পরামর্শ দিতে উনি আজে। এখানে এসেছেন

শরদিন্দু কাধের উপর সিক্কের চাদরখান। তুলিয়। লইয়া আশ্বাস দিয়! বলিল, ভয় কি, শিপ্র1? তোমাকে এখানে আনায় যদি ঠাকুরমশাইয়ের দুশ্চিন্তার অস্ত না থাকে, তবে তাতে আমাদের কোনো ক্ষতি হবার আশঙ্কা নেই। ম| হঠাৎ মারা গেলেন, তাইতে তো» বিয়েটা স্থগিদ্‌ রইলো

শিপ্রা একথার প্রতিবাদ তুলিল না। সে শরদিন্দুকে জানে লোকের কথায় নিজেকে হান্ক! করিবার মতো! লোক সে নয়।

শিপ্রা নীচে নামিয়া! আসিয়া শল়্ুনাথকে প্রণাম করিল কিন্তু আশ্চধ্য ! তিনি ব্যস্ত হইয়! দুই পা পিছন দিকে সরিয়] গেলেন। মুখে বলিলেন, থাক্‌--থাক্‌ আর পেক্সামে কাজ নেই !

৪২ অপলাষিকা

তাহার পর আড়চোখে চাহিয়া গলাট? একটু পরিষ্কার করিয়া কহিলেন, শরো গেলো কোথায়? ওর সঙ্গে আমার একটু প্রয়োজন আছে।

শিপ্রা একথার জবাব দিল না! একখানা বাঘছালেব আসন, লাল-সিমেপ্ট-করা মেঝের উপর যত্বের সহিত পাতি! দিয়া বলিল, বহুন্।

শড়ুনাথ ছ্িরুক্তি করিলেন না। আসনের একপার্থে নৃতন ম্যাডরাসী কিপার জোড়া খুলিয়া! রাখিয়া বসিঘা পড়িলেন এবং একটু পরে টণ্যাক্‌ হইতে নম্যর কৌট! বাহির করিয়া হাতে লইলেন।

অল্লক্ষণ পরে শরদিন্দু নীচে নামিয়া আসিয়া শল্ভুনাথকে প্রণাম করিল, কহিল, ভালে। আছেন ঠাকুরমশাই ?

ঠাকুরমহাশয় মুখ তুলিয়। শরদিন্দুর মুখ-পানে চাহিয়া বিস্ময়ে কিছুক্ষণের জন্য হতবাক্‌ হইয়া রহিলেন সর্বনাশ ! শরদিন্দু হইয়াছে কি? এই অল্লকালের ব্যবধানে মান্ধষের এতো৷ পরিবর্তনও হইতে পারে % শরদিন্দুর চোখে রীম্লেশ সোণার চশমা, গায়ে সিক্কের টিলে-হাতা পাঞ্জাবী, পরণে ফিন্ফিনে জরি-পাড় ধুতি, কাধে সিন্কের চাদর--সমন্তই ্রাক্ষণের চোখে ধাধা! লাগাইয়া দিল।

শরদিন্দু হাসিয়া ফেলিল, বলিল, ওকি ঠাকুরমশাই ? অবাক্‌ হ'য়ে আমার দিকে দেখছেন কি?

শ্ুনাখ দৃষ্টি নামাইয়। একটা ক্ষুপ্র নিঃশ্বাস ত্যাগ করিলেন, বলিলেন, তোমাকে যে চেন্বার যো নেই, শরো। তোমার এতো বাবুয়ানি আমার ভালে লাগে না।

অপলাধিকা ৪৩

শরদিদ্দু রাগ করিল না সহান্তেই কহিল, কি আর করি বলুন ঠাকুরমশাই ? বাবার বিষয়টা তো ভোগ, করতে হবে। নইলে, তার সঞ্চিত-অর্থের যে অপমান করা হয়।

শভুনাথ মুখে একটা স্বণাস্থচক অবাক্ত শব করিয়া! বলিলেন, তোমার বাবার সঞ্চিত-অর্থ দু'হাতে কাঞ্চেনী কারে উড়িয়ে দিলেই বুঝি তার আত্মার সংগতি হবে? বালি, তোমার ভাই-পোটার কথা একবার ভেবে দ্বেখেছে। কি? ওর বিষয়"*"

শরদিন্দু শ্ভুনাথের কথায় বাধা দিয়! গম্ভীরভাবে বলিয়। উঠিল, বাবার আত্মার সংগতি কিসে হবে, তা" আপনারা বল্‌তে পারেন না, আমরাও পারিনে | কিন্তু তার টাকার 'শর আপনার এই অহেতুক ব্যস্ততা যেমন আমাকে পীড়া দেয়, বাবার আত্মাকেও তেম্নি হয়তো কষ্ট দেয়। আমি পাঁচ-ছ'