9৩ চা7হত্য-স্চাটে কুল্নদারওুন উয় প্রটিত

শুনদাকশোনর গাল্স -চতৃষ্টয়

পুরাণের গল্প, কথাসরিৎসাগর, বেতাল পঞ্চবিংশতি রবিন্‌ হড্‌ এই চারিটি গ্রন্থের সংকলন

ম্ুখাজা আাণ্ড কোঞপ্রাঃ লিঃ ২.ন্বক্কিজম চতাটোর্জা উঈগাট ,কলিকাতা-১২

প্রথম গ্রকাশ : ভা ১৩৬৭

্রচ্ছদ শিল্পী: সমর দে গা 1, মাতে 86, 9. 99, চদ রে "50

১১২ |

চি

মুদ্রাকর:

শ্ররজিং কুমার দত্ত

নবশতি প্রেম

১২৩, আচার্ধ জগদীশ বন্থ রোড কলিকাত।-১৪

প্রকাশাকর নাব্দন -

শিশুসাহিতা-সম্রাট ৬কুলদারঞ্জন রায়ের পরিচয় দেওয়া নিপ্রয়োক্ষন। ছোটদের জন্ত লেখা তার গল্প-গ্রস্থগুলি দীর্ঘকাল ধরে কিশোর-কিশোরীদের মনোরঞ্জন করে আসছে তারই লেখা চারখানি শ্রেষ্ঠ বই-_পুরাণের গল্প” “কথাসরিৎসাগর', “ছেলেদের বেতাল পঞ্চবিংশতি: চিরনবীন কাহিনী 'রবিন্‌ হুড, একসঙ্গে গেথে, আরও অনেক বেশি ছবি দিয়ে সাজিয়ে 'কুলদা-. কিশোরগল্পচতুষ্টয় নামে প্রকাশ কর! হল। ছেলেমেয়েদের উপহার দিতে এই সংকলনটির যে ভুড়ি মিলবে না, সেকথ! বলাই বাহুল্য আশ! করি, কুলদারঞ$ঁনের স্বৃতিপুত এই গল্প-সংকলনটি বাংলার ঘরে ঘরে শোভা পাবে।

ইতি অমিয়রঞ্জন মুখোপাধ্যায় প্রকাশক

বিঃ অ্রঃ-্বগত কুলদারঞনের এই চারখানি বইয়ের প্রকাশক আমরাই এবং এগুলির সর্বস্বত্বও আমাদেরই

সচীগত্র

পুরাগর গল্প . 5378৮ কথামরিংমাগর ৯৯--২১৪ 'ছলোদের বেতাল-পঞ্চবিশতি ... ২১৫৩৪

বিন্‌ ড় ৩৪১৫২৬

৬৬

!

'পুরাণের গল্স'-এর সূচীপত্র

কাহিনী গরুড়ের দর্পচূর্ণ

গৌতম মণিকুগ্ুল ইল রাজার উপাখ্যান

মূল (ত্রহ্মপুরাণ )

22

25

শ্বেত ব্রাহ্মণের উপাখ্যান ( বিষুপুরাণ )

উষ। অনিরুদ্ধ পারিজাত হরণ নকল বান্ুদেব

রামচন্দ্রের অশ্বমেধ যজ্ঞ

(২) (৩) বীরভত্র অবীক্ষিত মরুত্ত নরিয্স্ত দম বৎসগ্রী সীতার অভিশাপ গৌতমের তপস্তা বিশ্বামিত্র শুক্রাচাধের তপস্ত। ক্ষুপ দধীচ

( পন্পপুরাণ ) ( মার্কত্য়ে-পুরাণ ) ( শিবপুরাণ ) ( রামায়ণ ) ( মংস্থপুরাণ ) ( লিঙ্গপুরাণ )

5121৮ ০2টি এত, 568, 5. 1, 895 ০8009-59

গর্ডড়ের দর্পচুর্ণ ত্রজ্মপুরাণ

নাগ মাত্রই গরুড পক্ষীর খাছ্য, সেই জন্য গরুড়ের নাম শুনিলেই নাগদের বড় ভয় হয়। অনস্তনাগের পুত্র মণিনাগ খুব ক্ষমতাশালী ছিল ; সে গরুড়ের ভয়ে মহাদেবের তপস্তা আরম্ভ করিল মহাদেব তাহার পূজায় সন্তষ্ট হইয়া তাহাকে দেখা দিয়া বলিলেন-_ “তুমি কি বর চাও বল।” মণিনাগ বলিল--প্প্রভু! গরুড় যেন আমার কোন অনিষ্ট করিতে না পারে, আপনি আমাকে এই বর দিন।” মহাদেব সন্তষ্টচিত্তে মণিনাগকে সেই বর দিলেন। মহাদেবের বরে নির্ভয় হইয়া মণিনাগ, যেখানে বিষুর বাহন গরুড় বাস করিত সেখানে গিয়, বুক ফুলাইয়া বেড়াইতে লাগিল। গরুড়ের রাগ হইবার কথাই--সে মণিনাগকে ধরিয়া তাহার ঘরে বন্ধ করিয়া রাখিল। এদিকে নন্দী তাহার প্রভু মহাদেবকে বলিল-_ “প্রভূ ! মণিনাগ যে গেল আর ফিরিয়া! আমিল ন। কেন? নিশ্চয় গরুড় তাহাকে খাইয়া ফেলিয়াছে কিংব। তাহার ঘরে বাধিয়। রাখিয়াছে।” মহাদেব সমস্ত ঘটনা জানিতে পারিয়া বলিলেন-- “নন্বিন্‌! গরুড় মণিনাগকে বাঁধিয়া রাখিয়াছে। তুমি শী বিষুণর নিকটে গিয়া তাহাকে সন্তুষ্ট .কর এবং মণিনাগকে লইয়। আইস |”

নন্দা বিষুর নিকটে গিয়া, তাহাকে অনেক 'স্তব স্ততি করিয়া মহাদেবের কথা জানাইল। নারায়ণ সন্তুষ্ট হইয়া গরুড়কে বলিলেন-_-“হে বিনতানন্দন! তুমি আমার অনুরোধ রাখ, মণিনাগকে নন্দীর নিকট ফিরাইয়া দাও।” গরুড় বলিল-_*না আমি কিছুতেই দিব না। নাগ আমার খান, আমি তাই মণিনাগকে ধরিয়া আনিয়াছি। আপনি এখন উহাকে ছাড়িয়া

কুলদা-কিশোরগল্পচ তুষ্ট

“দিতে বলিতেছেন_-এটা আপনার অত্যন্ত অন্যায় হইতেছে। প্রভু মাত্রই ভৃত্যদিগকে ভাল ভাল জিনিস দিয়া থাকে, কিন্তু, আপনি আমাকে কিছুই দেন না। এখন আমি নিজে যাহা সংগ্রহ করিয়াছি, তাহাও আবার ছাড়িয়। দ্রিতে বলিতেছেন ! আমার পিঠে চড়িয়া, আমার বলেই আপনি যুদ্ধের সময় দৈত্যদিগকে জয় করেন-_সে কথাট। কি একবারও মনে ভাবেন ন৷ ?”

গরুডের অহঙ্কার দেখিয়া বিষুণ হাসিয়া বলিলেন-_“ওহে গরুড় তুমি আমাকে বহন করিয়া থাক এবং তোমার ধলেইঈ আমি দৈত্যদিগকে জয় করিয়া থাকি--এ অতি উত্তম কথা বলিয়াছ। তোমার যথেষ্ট শক্তি আছে, সেট। আমি স্বীকার করি, কিন্তু আমার কনিষ্ঠ অন্গুলিটা একবার বহন কর দেখি !” এই বলিয়া বিষণ নন্দীর সাক্ষাতেই নিজের আহ্ুল গরুড়ের মাথায় রাখিলেন। বিষ্ণুর আলন্গুলের চাপে গরুড়ের মাথা তাহার কাধের ভিতর ঢুকিয়া পড়িল, তাহার কাধ চ্যাপট। হইয়। গেল ! বেচারি গরুড় তখন প্রাণের দায়ে যোড় হস্তে ভগবান্‌ বিষুর স্তুতি বন্দনা করিয়া বলিল-_“হে প্রভু ! হে নারায়ণ! আমি আপনার ভৃত্য, আমার অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনি সকলের শ্রেষ্ঠ, আমার প্রভু ! ভৃত্য শত অপরাধ করিলেও প্রভূ তাহার দোষ ক্ষম। করিয়৷ থাকেন !”

গরুড়ের তুর্ঘশ। দেখিয়া লক্ষমীর দয়! হইল, তিনিও তাহার মুক্তির জন্য বিষুরকে অনুরোধ করিলেন। তখন নারায়ণ নন্দীকে বলিলেন _-দতুমি গরুড়ের সহিত এই মণিনাগকে শিবের নিকট লইয়া বাও। শিবের অনুগ্রহে গরুড় আবার তাহার নিজের শরীর ফিরিয়া পাইবে ।” 3

নন্দী মপিনাগের সহিত গরুড়কে শিবের নিকট লইয়া গিয়া সমস্ত বৃত্বাস্ত নিবেদন করিল মহাদেব তখন গরুড়কে বলিলেন-_ «হে বিনতানন্দন ! তুমি গৌতমী-গঙ্গায় গিয়া স্নান কর, তাহা হইলে তোমার নিজের শরীর ফিরিয়। পাইবে ।”

পুরাণের গল্প "

মহাদেবের উপদেশ মত গরুড় গৌতমী-গঙ্গায় সান করিয়া,

পুনরায় বজ্র মত কঠিন সোনার শরীর পাইয়া, বিষ্ণুর নিকট ফিরিয়া গেল।

গৌতম মণিকুগ্ুল ? ্রহ্মগুরাণ

গৌতমী-গঙ্গার দক্ষিণ পারে ভৌবন রাজার রাজ্যে কৌশিক নামে এক ব্রাঙ্ষণ বাস করিতেন ; তাহার পুজ্ের নাম ছিল গৌতম গৌতম নান। শাস্ত্রে পণ্ডিত হইলেও, তাহার স্বভাব অতিশয় মন্দ ছিল। সেই রাজ্যে মণিকুগ্তল নামে একজন ধনবান্‌ বণিক্‌ থাকিত। তাহার সহিত গৌতমের এরূপ বন্ধুতা ছিল যে সচরাচর সেরূপ দেখা যায় না।

একদিন গৌতম মণিকুগ্ুলকে বলিল-_“বন্ধু! চল আমর' বিদেশে গিয়া ধন উপার্জন করি।” মণিকুগডুল বলিল-_-“আমার পিতা বিস্তর ধন রাখিয়া গিয়াছেন, আর ধন দিয়া আমি কি করিব ?” কিন্তু গৌতম কিছুতেই শুনিল না, নান! রকমে বুঝাইয়! মণিকুণ্ডলকে রাজি করাইল। . মণিকুগ্ডল লোকটি নিতাস্ত সরল এবং সাদাসিধা, সে তাহার সমস্ত ধন গৌতমের হাতে দিয়া বলিল-- বন্ধু! তবে আর দেরি কেন? চল আমরা এখনই বিদেশযাত্রা করি |”

পিতামাতাকে কিছু না বলিয়া, ছুইজনে গোপনে বাহির হুইয়! গেল। ছুষ্ট ব্রাহ্মণের মনের ইচ্ছা! এই যে, বণিকৃকে ঠকাইয়া কোন উপায়ে তাহার ধন কাড়িয় লইবে। বেচারি মণিকুগডল নিতান্ত ভাল মানুষ, সে ব্রাহ্মণের ছুই অভিসন্ধি বুঝিতে পারিল ন। একদিন গৌতম মণিকুগুলকে বলিল--«বস্ধু! অনেক ভাবিয়া

| | কুলদা-কিশোরগল্পচতৃষ্টয

দেখিলাম, পৃথিবীর ধাগিক লোকেরাই যত কষ্ট ভোগ করে, আর অধাগিকেরা বেশ সুখে দিন কাটায়। তাই আমি বলি যে ধর্মের দ্বার। মানুষের কোন লাভ নাই !” মা

মণিকুণগ্ডল লোকটি খুবই ধামিক ছিল, গৌতমের কথায় সে ভারি ব্যস্ত হইয়া! বলিল-_“ছিঃ বন্ধু! কি কথা বলিতেছ? ধর্ম ছাড়িয়' অধর্ম! তাহা কখনই হইতে পারে না। যেখানে ধর্ম সেখানে সুখ | যেখানে পাপ সেখানে যত ছুঃখ, যত ক্লেশ।”৮ তর্কের কিছুতেই মীমাংসা! হইল ন1। তখন তাহার এই পণ করিল যে, লোকের, কাছে জিজ্ঞাসা করিয়! যাহার জয় হইবে, সে অপরের সমস্ত ধন পাইবে।

পথে চলিতে চলিতে যাহাকে দেখিতে পাল, তাহাঁকেই তাহার এই প্রন্ন করিল__প্ধর্ম আর অধর্মের মধ্যে কাহার শক্তি বেশী ?” প্রায় সকলেই বলিল--“মহাশয় ! যেরূপ দেখিতে পাই, তাহাতে মনে হয় যে অধর্মই বড়। কেনন', ধামিক লোকেরাই যত কষ্ট ভোগ করে আর ছুষ্ট লোকের বেশ স্থুখে আমোদ আহলাদ করিয়া বেড়ায়।” তখন গৌতমই জিতিল এবং পণ অনুসারে বণিকের সমস্ত ধন তাহার হইল। কিন্তু সাধু মণিকুণ্ডল তবু ধর্মের প্রশংস। ছাড়িল না। তাহাতে ব্রাহ্মণ বলিল-- “হে বণিক! এই মাত্র তোমার সমস্ত ধন জিতিয়া! লইয়াছি, তবু তুমি সেই ধর্ম ধর্ম করিতেছ ? তোমার মত নির্লজ্জ দেখি নাই ।” মণিকুগুল ব্রান্মাণের কথায় কর্ণপাত করিল না, ধর্মেরই গুণগান করিতে লাগিল

তখন ছুষ্ট ব্রাহ্গণ আবার বলিল-_“আচ্ছ। ! তাহ! হইলে চল এবারে ছুটি হাত পণ রাখি। যাহার হার হইবে, তাহাঁরই হাত ছুটি কাট যাইবে ।” মণিকুগ্ুল তাহাতেই রাজি হইল

তারপর পূর্বের মত লোক দিগকে প্রশ্ন করিয়! ঠিক পুবের মতই উত্তর পাইলে পর. ব্রাহ্মণ বলিল-_“আমারই জয় হইয়াছে ।” এই বলিয়। বেচারি বণিকের হাত ছুখানি কাটিয়া! সে তাহাকে জিজ্ঞাস!

পুরাণের গল্প |

“করিল- -“ধমটাকে এখন কেমন মনে হয় ?” সাধু মণিকুগ্ডল বলিল-_ “প্রাণ গেলেও ধর্মকেই বড় মনে করিব ।” /

তারপর ছুইজনে চলিতে চলিতে, গঙ্গাতীরে এক মন্দিরের নিকটে গিয়া উপস্থিত। সেখানে গিয়া! আবার তাহাদিগের মধ্যে ধর্ম এবং অধর্মের তর্ক উঠিল। মণিকুগুলের মুখে পূর্বের মত ধর্মেরই গুণগান শুনিয়া, পাপিষ্ঠ গৌতম বলিল__-“তোমার ধন গিয়াছে, হাত ছুখানি কাট! গিয়াছে, এখন আছে শুধু প্রাণটুকু। এখনও যদি তোমার জেদ না ছাড়, তবে তলোয়ার দিয়া তোমার মাথা কাটিয়। ফেলিব।” মণিকুগুল হাসিয়! বলিল-_«তোমার যাহা ইচ্ছা করিতে পার কিন্তু তবু আমি ধর্মকেই বড় বলিব। যে পাপিষ্ঠ ধর্মের নিন্দা করে, তাহাকে স্পর্শ করিলেও পাপ হয়।”

মণিকুগ্ডুলের কথায় ব্রাহ্মণ ক্রোধে অগ্নিশর্মা হইয়া বলিল-_ “তবে আইস এবারে পণ করি, যে হারিবে তাহার প্রাণ যাইবে ।” বণিক্‌ তাহাতেই সম্মত হইল লোকের নিকট জিজ্ঞাসা করিয়া, তাহার। পুনরায় পূর্বমতই উত্তর পাইল। তখন ছুরাত্মা! ব্রাহ্মণ, মণিকুগ্ডলকে হরিমন্দিরের সম্মুখে মাটিতে ফেলিয়া, তাহার চক্ষু ছুটি তুলিয়া লইয়া বলিল--“বণিকৃ! সর্বদা ধর্মের প্রশংসা করিয়! তোমার ধন গিয়াছে, হাত গিয়াছে, চক্ষু ছুটিও হারাইলে। স্থতরাং আর ওরূপ কথা মুখে আনিও না-_আমি এখন চলিলাম।” মন্দিরের সম্মুখে মাটিতে পড়িয়া মণিকুণ্ডল চিন্তা করিতে লাগিল-_ “হ। ভগবান্‌! ধর্মের জন্য আমার দুর্দশা হইল কেন?” এরূপ অসহায় অবস্থায় মাটিতে পড়িয়। কাদিতে কাদিতে, ক্রমে সন্ধ্যা হইয়া আসিল। ,

সেদিন ছিল শুরুপক্ষের একাদশী সেই দিনে রাক্ষসরাজ বিভীষণ, হরিমন্দিরে পুজা করিবার জন্য সেখানে আসিতেন। রাত্রি হইলে পর, বিভীষণ লোকজন সঙ্গে লইয়া! সেই মন্দিরে আসিয়া, হরির পৃজা করিতে লাগিলেন। পুজার পর তাহার পুত্র

কুলদা-কিশো রগল্পচতুষ্টয

পরম ধামিক বৈভীষণি, সেই বণিকৃকে দেখিতে পাইয়া! এবং তাহার, দুঃখের কথা শুনিয়া পিতাকে সমস্ত কথ! জানাইল। তাহাতে 'পরম দয়ালু বিভীষণ পুজ্রকে বলিলেন--“বাবা ! পুর্বকালে লক্ষণ যখন শক্তিশেলে বিদ্ধ হইয়! পড়িয়। ছিলেন, তখন তাহাকে সুস্থ করিবার জন্য হনুমান একট প্রকাণ্ড পর্বত তুলিয়া লইয়! গিয়াছিল। সেই পর্বতে “বিশল্যকরণী” “মৃতসঞ্জীবনী” এই টি মহৌষধ ছিল। এই ওষধের গুণে লক্ষ্মণ জীবিত হইলে পর, হনুমান পর্বত লইয়। ফিরিয়। যাইবার পথে, এই মন্দিরের নিকটে সেই ওষধের গাছের ডাল্‌ ভািয়া৷ পড়িয়াছিল। আর দেখ, সেই ডাল স্ুইতে কত বড় গাছ হইয়াছে এই গাছের ডাল ভাঙিয়া আনিয়া, এই বণিকের শরীরে ছৌয়াইয়া দাও) তাহ হইলেই সে পুনরায় সুস্থ হইবে ।”

বিভীষণের পরামর্শ মত সেই গাছের ডাল আনিয়া, বণিকের শরীরে লাগাইবামাত্র সে সুস্থ হইয়। উঠিয়া বসিল। তাহার হাত এবং চোখ যেমন ছিল আবার তেমনই হইল তখন বণিকের আনন্দ দেখে কে! সেধর্মের গুণ গাহিতে গাহিতে, গঙ্গার জলে স্নান করিয়া ভগবানকে প্রণাম করিল। তারপর, আশ্চ্ধ গুণযুক্ত গাছের একটি ডাল ভাঙ্গিয়া লইয়া, সে স্থানে আর মুহূর্তও বিলম্ব করিল ন1।

অনেক ঘুরিয়। ফিরিয়া, বণিক্‌ মহপুর রাজ্যে গিয়া উপস্থিত। সে দেশের রাজার কোন পুত্রসস্তান ছিল না-_-একটি মাত্র কন্তা ছিল, সেও আবার অন্ধ। রাজার মনে বড়ই ছুখ ; তিনি প্রতিজ্ঞ! করিয়াছিলেন যে, দেব, দানব, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্বা, খুব্র যে কেহ রাজকন্ার চক্ষু ভাল করিয়। দিবে, তাহার সহিতই কন্টার বিবাহ দিবেন, এবং তাহাকে সমস্ত রাজ্য দিবেন লোকের মুখে এই কথা - শুনিয়া বণিক বলিল-_“আমি রাজকম্তার চক্ষু ভাল করিব।” রাজার লোকের! বণিকৃকে কাহার নিকট লইয়া গেল। বণিক্‌

পুরাণের গল্প

£

সেই গাছের ভাল ছোয়াইবামাত্র, রাজকন্ত। চক্ষু ফিরিয়া পাইলেন। তখন রাজার মনে কি যে আনন্দ হইল তাহা বলিবার নহে। তিনি তখনই ঘট করিয়া বিবাহের আয়োজন করিলেন দেখিতে দেখিতে বণিকের সহিত রাজকন্যার বিবাহ হইয়া গেল। রাজ- কন্তাঁকৈ বিবাহ করিয়া বণিক্‌ রাজ হইল। এখন আর তাহার সৌভাগ্যের সীম! নাই। কিন্তু এত নখ পাইয়াও সে তাহার বন্ধু গৌতমের কথা ভুলিতে পারিল না। গৌতমকে অনেক দিন না দেখিয়া ক্রমে সে অস্থির হইয়া পড়িল। এমন সময় এক দিন হঠাৎ সেই ব্রাহ্মণ আসিয়া! উপস্থিতু। তাহার আর সে চেহারা নাই ; মুখখানি মলিন, শরীর ভাঙ্গিয়! পড়িয়াছে, হাতে একটিও পয়সা নাই। কথায় বলে-- পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তে যায়” বণিকৃকে ঠকাইয়] সে যে রাশি রাশি ধন পাইয়াছিল, তাহা কোন্‌ দিন জুয়াখেলায় নষ্ট করিয়াছে মণিকুণ্তল ত্রাহ্মণকে পরম আদরের সহিত অভ্যর্থনা করিয়া, বাড়ীতে লইয়া গিয়া খুব যত করিল।

মণিকুগুলের নিকট তাহার সমস্ত কথা শুনিয়া, গৌতমের মন ফিরিয়া গেল। সে গঙ্গান্নান করিয়া পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিল এবং সেই হইতে সে আত্মীয়স্বজন মণিকুগুলের সহিত মিলিত হুইয়?" ধর্মকর্মেই দিন কাটাইতে লাগিল। ছুষ্ট গৌতম একজন পরম ধাগ্সিক হইয়া উঠিল |

ইল রাজার উপাখ্যান 9 ব্রন্মপুরাণ

সেকালে মূর্ধবংশে ইল নামে খুব ক্ষমতাশালী এক রাজ! ছিলেন। রাজা ইল শিকার করিতে বড়ই ভালবাসিতেন। তিনি একদিন অনেক সৈশ্পামস্ত এবং লোকজন সঙ্গে লইয়া শিকাটুরর জন্য বনে গেলেন। প্রতিদিন বনে বনে ঘুরিয়া শিকার করিতে করিতে তাহার এতই ভাল লাগিল যে রাজধানীতে ফিরিয়! যাইবার জন্য তাহার আর ইচ্ছা হইল না। তিনি তাহার লোঁকদিগকে বলিলেন--“তোমর। সকলে রাজধানীতে ফিরিয়া গিয়া, আমার পুজকফে লইয়া রাজত্ব কর; আমি জনকতক লোকের সহিত এখানে থাকিয়া, কিছুকাল শিকার করিব।” রাজার কথায় সকলেই রাজধানীতে ফিরিয়া গেল। তখন তিনিও বনে বনে শিকার করিতে করিতে ক্রমে হিমালয় পর্বতে গিয়া সেখানে বাস করিতে লাগিলেন।

একদিন রাজ দেখিলেন, গভীর বনের মধ্যে অতি শুন্দর) ঠিক ' অদ্রালিকার মত সুসজ্জিত একটি গহ্বর এই গহুবরে যক্ষরাজ সমন্যু তাহার স্ত্রী সম! থাঁকিতেন। যক্ষেরা! নানারূপ মায় জানে ; সম সমনুযু অনেক সময় হরিণের রূপ ধরিয়া বনে বনে ঘুরিয়া বেড়াতেন এবং সেদিনও তাহারা বেড়াইতে বাহির হইয়াছিলেন। রাজ। ইল জানিতেন না যে, সেটা যক্ষের বাড়ী, কাজে এমন সুন্দর সাজান শুম্ভ গহ্বরটি দেখিয়া তাহার লোভ হইল; তিনি লোকজন লইয়া সেটাকে দখল করিয়! বসিলেন।

যক্ষরাজ বন হইতে ফিরিয়া আসিলে, রাজার সেই অন্যায় বাবহার দেখিয়। বড়ই চটিয়া গেলেন।. কিন্তু এখন উপায়? ইল রাজাকে যুদ্ধ করিয়া জয় করা সহজ নয়। আর, গহ্বরটি

পুরাণের গল্প ১১

ছাড়িয়া দিতে বজিলে কি তিনি তাহ শুনিবেন? যক্ষরাজ তখন তাহার আত্মীয় বড় বড় যক্ষ যোদ্ধাদিগকে স্মরণ করিয়া! বলিলেন, «তোমরা ইল রাজার নিকট হইতে যেরূপে পার, আমার গহ্বরটি উদ্ধার করিয়া দাও ।” তাহার কথায়, সকল যক্ষ যোদ্ধা মিলিয়া ইল রাঞ্জাকে গিয়া বলিল-_শীত্র আমাদের গহবর ছাড়িয়া দাও, নতুবা যুদ্ধ করিয়া এখনই তোমাকে তাড়াইয়া দিব।” কথায় ইল রাজার অত্যন্ত রাগ হষঈল, তিনি তখনই যক্ষদিগের সহিত ভয়ঙ্নর যুদ্ধ আর্ত করিয়া, তাহাদিগকে হারাইয়। দিলেন। বেচারি যক্ষরাজ কি আর করেন, স্ত্রীকে লইয়া মনের ছুঃখে বনে বনে ঘঘ্ুরিয়া বেড়ান ছাড়া তাহার আর উপায় রহিল না।

এইরূপে কিছুদিন যায়, একদিন যক্ষরাজ স্ত্রীকে বলিলেন-_“দেখ সম! নিজের বাড়ী ছাড়িয়া বনে বনে আর কতদিন দ্বুরিয়। বেড়াইব ? এই অত্যাচারী হুষ্ট রাজাকে, ফাকি দিয়! না তাড়াইলে চলিবে না। তুমি এক কাজ কর-- সুন্দরী হরিণী সাজিয়া রাজাকে ভুলাইয়! যেরূপে পার একবার যদি তাহাকে উমা বনে লইয়া! যাও, তবেই রাজ মহাশয় জব্দ হঈবেন। আমি আর সেখানে যাইতে পারিব না, কাজেই তোমাকে কাজট। করিতে হইবে ।”

ইহা! শুনিয়া যক্ষিণী বলিল-_“তুমি কেন উম বনে যাইবে না? সেখানে গেলে দোষ কি ?”

যক্ষরাজ বলিলেন--“পার্তীর অনুরোধে, মহাদেব তাহার জন্য একটি নির্জন বন প্রস্তুত করিয়া*দিয়াছেন-__তাহারই নাম উমা বন মহাদেব বলিয়াছেন যে, সেখানে তিনি, গণেশ, কান্তি, আর নন্দী এই কয়জন ছাড়া অন্য পুরুষ কেহ গেলে তখনই সে স্্রীলোক হইয়! যাইবে এখন বুঝিতেই পার, সেখানে আমার যাইবার সাধ্য নাই 1”

ইহার পর, যক্ষের উপদেশ মত সম1 হরিণী সাজিয়া, ইল রাজার সম্মুখে গিয়া বেড়াইতে লাগিল। তাহাকে দেখিয়াই রাজার মনে

১২ | কুলদা-কি শোরগন্পচতুষ্টয

শিকারের লোভ জাগিল, তিনি একাকী ঘোড়ায় চড়িয়। তাহাকে তাড়া করিলেন। মায়াবিনী হরিণীও রাজাকে ক্রমে সেই উম বনের দিকে লইয়া! চলিল। এইরূপে যখন সে বুঝিতে পারিল যে, রাজা উমা বনে প্রবেশ করিয়াছেন, তখন হঠাৎ সে হরিণীরূপ ছাড়িয়। পুনরায় যক্ষিণী হইয়া, একট1 অশোক গাছের তলায় দীাড়াইয়া রহিল। এদিকে শ্রান্ত ক্লান্ত হইয়া, রাজাও সেই অশোক গাছের নিক্কটেই আসিয়। উপস্থিত হইলেন। তাহাকে দেখিয়া যক্ষিণী হাসিতে হাসিতে বলিল-_“কি গে! সুন্দরী ইল1! তুমি স্ত্রীলোক হইয়া পুরুষের বেশে এক ঘোড়ায় চড়িয়া, কাহাকে খু'জিতেছ ?” যক্ষিণী তাহাকে “ইলা” বলিয়া সম্বোধন করায়) রাজার ভারি রাগ হইল এবং তিনি তাহাকে ধমক দিয়া, সেই হরিণীটার কথ! জিজ্ঞাস! করিলেন যক্ষিণী বলিল-__“ইল ! তুমি রাগ করিতেছ কেন? আমি কোন অন্যায় কথা বলি নাই ?”

ততক্ষণে রাজার চৈতন্য হইল যে, তিনি সত্য সত্যই স্ত্রীলোক হইয়া! গিয়াছেন ! এখন উপায়? ইল! তখন বিষম ভয় পাইয়া, যক্ষিণীকে এই অদ্ভুত ব্যাপারের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন,__“দোহাই তোমার, সত্য করিয়া বল, কেন আমি স্ত্রীলোক হইলাম-_তুমি নিশ্চয় ইহার কারণ জান। তুমিই বাঁ কে, তাহাও আমাকে বল ।” যক্ষিণী বলিল--“আমার পতি যক্ষরাজ সমন্্যু হিমালয়ের গহ্বরে থাকেন, আমি তাহার পত্বী সমা। আপনি এতদিন যে গহ্বরে আছেন, সেটাই আমাদের বাড়ী। আমিই হরিণী সাজিয়! আপনাকে ভুলাইয়! এই উম! বনে আনিয়াছি মহাদেবের আদেশ অনুসারে, কোন পুরুষ মানুষ এখানে আসিতে পারে নাঃ .আসিলেই সেস্ত্রীলোক হইয়। যায়। এই জন্যই আপনি স্ত্রীলোক হইয়াছেন। এখন ছুঃখ করিয়া আপনার কোন লাভ নাই। আপনি ক্ষত্রিয় যোদ্ধা এবং স্ুর্য-বংশের উপযুক্ত বীর ছিলেন-_ কিন্ত আপনার যুদ্ধ. কর। আর শিকার কর এখন জন্মের মত শেষ হইল আর তাহার

পুরাণের গল্প: ১৩

গা উট রঃ ধ্ | ১২ উউ ১১ | 118৬ 1

মী 1 মী

রং রা

দু ২/২41 1 (৬ রি 4 রণ 6৮ টি টির নি রি

মরি. চে রি রে রা টি &

4.০ এস

২২ বি ৯২২৯

কি

ছি

টু ২১৩৯১ টি রর

৯০ িধ 11741 90৫ 177 পি 1

যক্ষিণী বলিল-_ইল1! তুমি রাগ করিতেছ কেন? (পৃঃ ১২)

1/1% রে

রে 9 1২ |

জন্য হুঃখ করিয়া লাভ কি! দ্দিন পরে আপনিই সে সব কথা ভূলিয়। যাইবেন 1% '

১৪ কুলদা-কিশোরগল্পচতুষ্ট়

যক্ষিণীর কথায় ইলা আরও ভয় পাইয়৷ বলিলেন-__“্যক্ষিণি ! তুমি অনুগ্রহ করিয়া বল, কি করিয়া আমার সময় কাটিবে, আমি কাহার আশ্রয়ে থাকিব।”

যক্ষিণী বলিল-__“পূর্বদিকে খানিক 'দূরেই চন্দ্রের পুজ্র মহাত্মা বুধের আশ্রম আছে বুধ তাহার পিতার সহিত সাক্ষাৎ করিবার জন্য প্রতিদিন এই পথ দিয়া যান। তিনি যখন যাইবেন, তখন তৃমি তাহার সম্মুখে উপস্থিত হইও ; তিনিই তোমাকে আশ্রয় দিবেন।” ইহার পর একদিন বুধগ্রহ পিতার নিকট যাইবার পথে সুন্দরী ইলাকে দেখিয়া বলিলেন-_হে সুন্দরি! তুমি একাকী এই বনে কি করিয়। আসিলে? তোমার যদি কোন আপত্তি না থাকে তবে, আমার সঙ্গে চল, আমি তোমাকে আমার রাণী করিয়া রাখিব। ইল] সন্তষ্টচিত্তে সম্মত হইয়া বুধের সঙ্গে গেল, বুধও তাহাকে বাড়ীতে লইয়া গিয়। বিবাহ করিলেন। কিছুকাল পরে ইলার পরম সুন্দর একটি পুক্র জম্মিল। অনেক মুনি খষি এবং দেবত। তাহাকে দেখিবার জন্য সেখানে আসিলেন। জন্মিবামাত্রই সে শিশু উচ্চৈন্বরে চীৎকার করিতে লাগিল। তাহার এইরূপ “পুরু” অর্থাৎ উচ্চ রব শুনিয়া, দেব-ঝধিরা তাহার নাম রাখিলেন পুরূরবা পুরূরব৷ দিন দিন বড়, হইতে লাগিল; বুধ নিজে তাহাকে অস্ত্রশস্ত্র প্রভৃতি নানা রকমের, বিদ্যা শিখাইলেন।

ইল। যদি তাহার পূর্বেকার সমস্ত কথা ভুলিতে পারিতেনঃ তবে, তাহার দুঃখের কোনই কারণ থাকিত না। কিন্তু সে সকল কথা৷ তাহার মনে জাগিয়! রহিল। বড় হইয়! পুরূরব! দেখিলেন, তাহার, মা অনেক সময় মলিন মুখে বসিয়া! বসিয়া কি জানি ভাবেন। একদিন মাকে এরূপ চিন্তা করিতে দেখিয়া, পুরূরবা জিজ্ঞাস করিলেন-_“ম। ! তুমি সময় সময় মুখখানি মলিন করিয়া কি চিন্তা কর? কিসের জন্য তোমার এত ছুঃখ? তুমি আমায় বল কিসে, তোমার দুঃখ দূর হইবে, আমি তাহাই করিতে প্রস্তুত আছি ।”

পুরাণের গল্প ১৫

ইলা বলিলেন-_“বাবা ! তোমার পিতা বুধ সকলই জানেন) তাহাকে গিয়। জিজ্ঞাস কর, তিনিই তোমাকে উপদেশ দ্বিবেন।” পুরূুরবা তখন পিতার নিকটে গিয়া তাহাকে সমস্ত কথা বলিয় উপদেশ চাহিলেন। বুধ বলিলেন-_“পুরূরবা, ইলার পূর্বকথা সবই আমার জানা আছে। বিপুল রাজ্যের অধীশ্বর মহারাজ ইল, উমা বনে প্রবেশ করিয়া, মহাদেবের শাপে সকল হারাইয়া, এখন অসহায় স্্রীলাকরূপে সংসারে বাস করিতেছেন। তুমি গৌঁতমী-গঙ্গায় স্নান করিয়া, মহাদেব এবং পার্ততীর বিধিমতে পূজা! কর? তাহাদের অনুগ্রহ হইলেই শাপ দূর হাতে পারে-_-নতুবা! আর কোন উপায় নাই ।৮

পিতার উপদেশে পুরূরবা গৌতমী-গঙ্গায় চলিলেন, ইলা এবং বুধও তাহার সঙ্গে গেলেন। গৌতমী-গঙ্গায় স্সান করিয়া, তিনজনে মহাদেব ভগবতীর আরাধনা করিতে লাগিলেন। তাহাদিগের কঠোর তপস্তায় সন্তুষ্ট হইয়া, মহাদেব পার্বতী তাহাদিগকে দেখা দিয়া বলিলেন_-“তোমাদের পুজায় আমরা অতিশয় তুষ্ট হইয়াছি, এখন কি বর চাও বল-_তাহাই তোমাদিগকে দিব ।” পুরূরবা বলিলেন-_“প্রভূ ! ইল রাজা না জানিয়া আপনার বনে প্রবেশ করিয়াছিলেন ; তাহাকে আপনি ক্ষমা করিয়া শাপ হইতে মুক্ত করুন।” মহাদেবের মত লইয়া ভগবতী বলিলেন-_-“তথাস্ত, ইল রাজা এখন গৌতমীতে প্নান করিলেই, তাহার পূর্বরূপ লাভ করিবেন ।” ্‌

পার্বতীর কথায় ইল! গৌতমী-গঙ্গায় ডুব দিয় মাথা তুলিবা- মাত্র সকলে দেখিল ইল আর নাই, তাহ'র স্থানে সশন্ত্র মহারাজ ইল যোদ্ধবেশে জল হইতে উঠিয়া আসিলেন। সেই অবধি সে স্থানের নাম. হইল ইলাতীর্ঘঃ

শ্বেত ব্রাহ্মণের উপাখ্যান £ বিঝুপুরাণ

সেকালে শ্বেত নামে এক ব্রাহ্মণ, গৌতমী নদীর তীরে কুটার নির্মাণ করিয়া বাস করিতেন। ব্রাহ্মণ শিবের পরম ভক্ত-_প্রতিদিন নিষ্ঠার সহিত শিবের বন্দনা করিতে করিতে, ক্রমে তাহার ৃত্যুকাল উপস্থিত হইল। তখন তাহাকে লইয়া যাইবার জন্য যমদৃতের' আসিয়া উপস্থিত। কিন্তু শিবভক্ত ব্রাহ্মণের ঘরের ভিতরে তাহারা প্রবেশই করিতে পারিল ন1।

এদিকে, বিলম্ব দেখিয়া যম মৃত্যুকে জিজ্ঞাসা করিলেন__«সেই শ্বেত ব্রাঙ্মণ এখনও আসিল না! কেন? দূতেরাই বা কেন ফিরিয়া আসিতেছে ন1? বাস্তবিক, তুমি মৃত্যু, তোমার কাজে এমন অনিয়ম হওয়া কখনই 'উচিত নয়।” কথায় মৃত্যুর বড়ই রাগ হইল এবং তিনি নিজেই ব্রাহ্মণের কুটীরে চলিলেন।

সেখানে গিয়া দেখিলেন, যমদূতেরা ভয়ে ভয়ে কুটারের বাহিরেই ধাড়াইয়া আছে। তিনি তাহাদিগকে বলিলেন--“এ কি! তোমর! বাহিরে দীড়াইয়া কেন ?” দূতের বলিল-__ন্বয়ং মূভ্রাদেৰ শ্বেত ব্রা্মণকে রক্ষা! করিতেছেন, কাজেই আমর] তাহার দিকে চাহিতেও ভরসা! পাইতেছি না1৮ মৃত্যু তখন ব্রাহ্মণের নিকটে গেলেন।

কে মৃত্যু, কাহারাই বা তাহার দূত, সম্বন্ধে ব্রাহ্মণ কিছুই জানিতেন ন1; সুতরাং তাহার ভ্রক্ষেপও নাই--তিনি একমনে মহাদেবেরই পৃজ। করিতে লাগিলেন। এদিকে শিবের অন্ুচর দণ্তী মৃত্যুকে পাশহস্তে দ্বারে দণ্ডায়মান দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিল-_“তুমি এখানে কি দেখিতেছ 1” মৃত্যু বলিলেন__“আমি শ্বেত দ্বিজকে লইতে আসিয়াছি।” দণ্ডী বলিল--“তুমি এখান হইতে চলিয়] যাও।” কথায় মৃত্যু অতিশয় ক্রুদ্ধ হইয়া, শ্বেত দ্বিজকে পাশ

পুরাণের গল্প ১৭

সু'ড়িয়া মারিলেন। দণ্ডীও ছাড়িবার পাত্র নহে। তাহার হাতে ছিল মহাদেবের দণ্ড, সেই দণ্ড দিয়া মৃত্যুকে ধরাশায়ী করিল।

তখন যমদূতেরা তর্ধ্বশ্বাসে ছুটিয়া গিয়া যমরাজাকে সমস্ত সংবাদ জানাইবামাত্র তিনিও মহিষে চডিয়। প্রস্তুত হইলেন। যমরাজার সৈন্তেরাও সাজিয় গুজিয়া তাহার সঙ্গে চলিল। শ্বেত ব্রাহ্মণের বাড়ীতে গিয়া সকলে উপস্থিত। দলবল সহ মহিষে চড়িয়া ঘমকে আসিতে দেখিয়। শিবের লোকেরাও যুদ্ধের জন্ত প্রস্তুত হইল। তখন সেখানে যে যুদ্ধ আরম্ভ হইল, সে অতি ভীষণ।

কান্তিক তাহার শক্তি দিয়! যমের লোকদের কাটিয়া খণ্ড খণ্ড করিতে লাগিলেন। অবশেষে যমরাজাকেও গুরুতর রূপে আহত করিলেন যমকে মরণাপন্ন দেখিয়া, তাহার অবশিষ্ট সৈম্ভগণ গিয়া সূর্ধকে সমস্ত সংবাদ জানাইল। নূর্য ব্রহ্মার নিকট গেলেন। ব্রহ্মাও. ইন্দ্র প্রভৃতি দেবগণকে লইয়া, যমের নিকটে গিয়া উপস্থিত। তাহারা গিয়া দেখিলন, যম গঙ্গাতীরে মৃতের ম্যায় পড়িয়। আছেন।

যমকে মৃতপ্রায় দেখিয়া, দেবতাদের ভয় হইবার কথাই ! তখন শিবকে সন্তুষ্ট করা ভিন্ন আর উপায় কি? সকল দেবত। মিলিয়! যোড় হস্তে মহাদেবের স্তব করিতে লাগিলেন। মহাদেব তাহাদ্দের স্তরতিতে সন্তুষ্ট হইয়া বলিলেন-_-“তোমাঁদের পূজায় আমি তুষ্ট হইয়াছি, এখন কি বর চাও বল।” দেবতারা বলিলেন-_এপ্রভু ! এই যম ছাড়। সংসারের কাজই চলিতে পারে না। ইনি কোন অপরাধ করেন নাই, ইহাকে বধ করা আপনার উচিত নয়। অতএব আপনি সৈম্ভগণ এবং বাহন সহ যমকে জীবিত করুন ।”

তখন মহাদেব বলিলেন-_«আমার ভক্তের মরণ হইবে না, কথায় যদি তোমরা সম্মত হও, তবে এখনই আমি যমকে বাচাইয়। দিব |” দেবতাগণ বলিলেন--“তাহা কি কখনও হয়?

৮২

১৮ কুলদা-কিশোরগল্পচতুষ্টয

তাহা হইলে সংসারের সমস্ত লোকই যে অমর হইয়া যাইবে ! শিব বলিলেন--“সে কথ! বলিলে চলিবে না। আমার ভক্তের কর্তা আমি, তাহার উপর যম কোনদিন কর্তৃত্ব করিতে পারিবে না। তোমরা যদি একথা স্বীকার কর, তাহা হইলেই যমকে বাঁচাইব।৮ . দেবতার1 তখন নিরুপায় দেখিয়া ললিলেন-_“আগচ্ছা প্রভূ, তাহাই হইবে ।» মহাদেবও তখন নন্দীকে বলিলোন-__ “নন্দী ! গৌতমীর জল দিয়া যমকে বাঁচাইয়া দাও ।” সি

মহাদেবের আদেশে নন্দী গৌতমীর জল আনিয়া, সকলের শরীরে ছিটাইয়! দিবামাত্র যম সৈম্তগণের সহিত জীবিত হইলেন। সে দিন হইতে সংসারে ধামিক এবং ভক্ত লোকদিগকে দেখিলে যম তাহার শাসনদণ্ড নামাইয়া, ভয়ে দূর হইতে তাহাদিগকে নমস্কার করিয়। মরিয়। পড়েন।

উব! অনিরুদ্ধ £ বিকুপুরাণ

দৈত্যরাজ বলির পুজর বাণরাজা কঠোর তপস্তা করিয়া মহাদেবকে- সন্তষ্ট করিয়াছিল। মহাদেব তাহাকে অনেক বর দিয়াছিলেন এবং ইহাও বলিয়াছিলেন যে, বিপদের সময় বাণকে তিনি নিজের পুজ্ের মত রক্ষা করিবেন। শিব-বলে বলী হইয়৷ বাণ ক্রমে ঘোর অত্যাচারী হইয়া উঠিল, দেবতারা পরস্ত তাহার ভয়ে অস্থির হইয়৷ পড়িয়াছিলেন।

বাণের কম্ঠার নাম ছিল উষা। একদিন রাত্রিকালে উষ। একটি সুন্দর রাজপুজকে ন্বপ্পে দেখিয়া, তাহাকে বিবাহ করিবার জন্য ব্যস্ত হইল। তখন হইতে উষা কেবলই সেই স্বপ্নের কথ! ভাবে আর *হায় মে কোথ। গেল, হায় সে কোথা গেল”? এই

পুরাণের গল্প 8 ১৯

বলিয়। ছুঃখ করে। মন্ত্রিকন্তা চিত্রলেখ ছিল উষার সখী; সে জিজ্ঞাসা করিল--“রাজকুমারি ! তুমি কাহার জন্য ছুঃখ করিতেছ, আমি কিছুই বুঝিতে পারিতেছি ন1।৮ তখন উষা তাহার স্বপ্নের ঘটনা সখীকে বলিলে গুণবতী চিত্রলেখা দেব, দৈত্য এবং মানুষের মধ্যে প্রধান প্রধান ব্যক্তিদিগের ছবি আকিয়। তাহাকে দেখাইল। একে একে ছবিগুলি দেখিতে দেখিতে, দেবদানবের ছবি ছাড়িয়া! উষ। মানুষের ছবির মধ্যে কৃষ্ণের ছবি দেখিয়া, কেমন থতমত খাইয়া গেল। তারপর কৃষ্ণপুত্র প্রহ্যয়ের ছবি দেখিয়া তাহার মনে আরও গোল লাগিয়া গেল। ইহার পর ছিল প্রহ্যন্নের পুক্র অনিরুদ্ধের ছবি; সে ছবি দেখিবামাত্র “এই সে, এই সেই” বলিয়। রাজকুমারী একেবারে অস্থির !

তখন চিত্রলেখা চলিল দ্বারকায়। সেখানে গিয়া, মায়াবলে আশ্চর্য কৌশলে অনিরুদ্ধকে লইয়া পুনরায় বাণপুরীতে ফিরিয়া আসিলে পর, অনিরুদ্ধ রাজার অস্তঃপুরে উষযার সহিত দেখা করিতে গেলেন। একজন অপরিচিত পুরুষকে অস্তঃপুরে দেখিয়। প্রহরিগণ দৈত্যরাজ বাণকে গিয়া! সংবাদ দিল এই সংবাদ শুনিয়া বাণের রাগ হইবার কথাই--তিনি হুকুম করিলেন, যাও) এখনই গিয়। তাহাকে বন্দী কর।” কৃষ্ণের পুক্রগণের মধ্যে প্রত্যয় ছিলেন সকলের চাইতে বড় যোদ্ধা তাহারই পুক্র অনিরুদ্ধব-_-তিনিও যোদ্ধা বড় কম ছিলেন না। বাণের সৈম্তদিগকে তিনি চক্ষের নিমেষে বধ করিলেন। ইহার পর বাণ স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্রে আসিয়া উপস্থিত হইলে অনিরুদ্ধের সহিত তাহার ঘোরতর যুদ্ধ হইল। অনিরুদ্ধের তীরে ক্ষত বিক্ষত হইয়। দেত্যরাজ একেবারে অস্থির হইয়া! পড়িলেন। তখন মন্ত্রবলে মায়ীযুদ্ধ করিয়া অনিরুদ্ধকে নাগপাশ অস্ত্রে বাধিয়া ফেলিলেন।

এদিকে নারদ মুনি দ্বারকায় গিয়া কৃষ্ণ বলরাম প্রভৃতি যহুগণকে এই সংবাদ জানাইলেন। কৃষ্ণ তৎক্ষণাৎ গরুড়ে চড়িয়া।

২০ * কুলদা-কিশোরগল্পচতুষ্টয

বলরাম এবং প্রছ্যয়ের সহিত চলিলেন বাপপুরীতে বাণপুরীতে উপস্থিত হইলে পর দৈত্যসৈন্যের সহিত তাহাদিগের ভীষণ যুদ্ধ আরম্ভ হইল। বাঁণের পক্ষ হইয়া মহাদেব এবং কাত্তিকও যুদ্ধ করিতে আসিলেন। কৃষ্ণের সহিত মহাদেব যে কি ভয়ানক যুদ্ধ করিয়াছিলেন, তাহা বর্ণনা করা যায় না অবশেষে কৃষ্ণ জুত্তণ অস্ত্র মারিয়া মহাদেবকে অলস করিয়া ফেলিলেন; তিনি বুথে বসিয়া শুধু হাই তুলিতে লাগিলেন, তাহার যুদ্ধ করিবার শক্তি রহিল না। গরুড কাত্তিকের হাতে ভীষণ কামড়াইয়! দিল, প্রহ্যন্মের তীক্ষ বাণগুলি তাহার শরীর ক্ষত-বিক্ষত করিয়া দিল। তখন নিরুপায় হইয়া কান্তিক যুদ্ধ ছাড়িয়৷ পলায়ন করিলেন। দৈত্যরাজ বাণ দেখিলেন, কৃষ্ণের অস্ত্রে এবং বলরামের লাঙ্গলের আঘাতে, অন্ুর সকল নিঃশেষ হইবার উপক্রম হইয়াছে তখন তিনি অগ্রসর হইয়া কৃষ্ণের সহিত যুদ্ধ আরম্ভ করিলেন। উভয়ে উভয়কে বধ করিবার জন্ত বাছিয়৷ বাছিয়া সাংঘাতিক অস্ত্র সকল মারিতে লাগিলেন, বাণে বাণে আকাশ ছাইয়। গেল। কিন্তু কেহ কাহাকে হারাইতে পারিলেন না। কৃষ্ণের ভয়ানক রাগ হইল, তিনি দৈত্যরাজকে মারিবার জন্য সুদর্শন চক্র ছাডিলেন। বাণরাজার ছিল এক-হাজার হাত ; দেখিতে দেখিতে কৃষ্ণের চক্র, বাণের হাজার হাত কাটিয়া! পুনরায় তাহার নিকট ফিরিয়া আসিল। বাণের হাত কাট। গিয়াছে, এই সংবাদ শুনিয় মহাদেব কৃষ্েের নিকটে আসিয়। উপস্থিত। অনেক স্তৃতি মিনতি করিয়। কৃষ্ণকে বলিলেন_-“হে কৃষ্ণ ! তুমি প্রসন্ন হও এই দৈত্যকে আমি অভয় দিয়াছি, আমার কথার অন্থথ! কর। তোমার উচিত নয়। আমার বলে বলবান হইয়াই সে বড় হইয়াছে-_-আমি তাহার হইয়া তোমার নিকট ক্ষমা চাহিতেছি।৮” মহাদেবের কথায় সন্তুষ্ট হইয়া কুঞ্ণ বলিলেন-__“শঙ্কর! বাণ আপনার নিকট বর পাইয়াছিল, সুতরাং সে বাচিয়। থাকুক আমি আপনার কথা বজায় রাখিবার জন্য,

পুরাণের গল্প | | ২১

এই আমার চক্র সামলাইয়া লইলাম। আপনি তাহাকে অভয় দিয়াছিলেন, সুতরাং আমিও অভয় দিলাম।” তারপর কৃষ্ণ, যেখানে অনিরুদ্ধ নাগপাশে আবদ্ধ ছিলেন সেখানে গেলেন। গরুড়কে দেখিবামাত্র, নাগপাশের সাপগুলি উধ্বশ্বাসে পলায়ন করিল, অনিরুদ্ধও বন্ধনমুক্ত হইলেন। ইহার পর রাজকুমারী উ্ার সহিত, অনিরুদ্ধের বিবাহ দিয়! মকলে দ্বারকায় ফিরিয়। আসিলেন

পারিজাত হরণ বিঝুঃপুরাণ

সেকালে দেবতার। যখন অমুতের জন্য সমুদ্র মন্থন করিয়াছিলেন, তখন সমুদ্রের ভিতর হইতে পারিজাত ফুলের গাছ উঠিয়াছিল। দেবরাজ ইন্দ্র সেটিকে আনিয়া, স্বর্গে তাহার নন্দন কাননে পুঁতিয়। রাখিয়াছিলেন। পারিজাত ফুলের মত সুন্দর এবং সুগন্ধ ফুল আর জগতে নাই, ফুলের গন্ধ ছড়াইয়।৷ দেবপুরী মাতাইয়া! তুলিত। ইন্দ্রের স্ত্রী শচীদেবী, পারিজাতের মঞ্জরী খোঁপায় পরিয়া প্রতিদিন সাজসজ্জা! করিতেন, সেজন্ গাছটি তাহার বড়ই আদরের ছিল। এক সময়ে কৃষ্ণ তাহার রাণী সত্যভামাকে লইয়। ব্বর্গে ইন্দ্রের পুরীতে বেড়াইতে গিয়াছিলেন। ঈন্দ্র তাহাকে আদর অভ্যর্থনা করিয়। অতি সম্মানের সহিত পুজা করিলেন। কৃষ্ণ সত্যভামার সহিত নন্দনকাননে বেড়াইতে গেলে পর পারিজাত ফুলের গাছটি দেখিয়া সত্যভামার বড়ই লোভ হইল তিনি কৃষ্ণকে বলিলেন-_“কৃষণ ! তুমি না বলিয়া থাক যে, জাম্ববতীর চাইতেও আমাকে বেশী ভালবাস? সে কথ যদি সত্য হয়, তবে আমার জন্য এই পারিজাত ছ্বারকায় লইয়। চল। গাছটি আমাদের বাগানে পুতিয়। রাখিব এবং প্রতিদিন ইহার মগ্ররী লইয়! খোপায় পরিব।” সত্যভামার কথায়

২২. - | কুলদা-কিশোরগল্পচতুষ্টম কষ হাসিতে হাসিতে পারিজাত বৃক্ষটি তুলিয়া গরুড়ের উপর রাখিলেন।

এই ব্যাপার দেখিয়া! নন্দনকাননের প্রহরিগণ বলিল--«ওহে কৃষ্ণ! এটি শচীদেবীর অতি আদরের গাছ, তুমি কেন ইহা চুরি করিতেছ ? এই সংবাদ পাইলে দেবরাজ ইন্দ্র অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইবেন তিনি যদি বজ্ব হাতে লইয়া দেব-সৈম্যগণের সহিত এখানে আসিয়া উপস্থিত হন, তাহা হইলে তোমার আর রক্ষা নাই। অতএব, পারিজাত হরণ করিয়া দেবতাদিগের সহিত বিবাদ করিও না। 1” |

প্রহরীদিগের কথায় সত্যভামার অত্যন্ত রাগ হইল, তিনি বলিলেন-_্বটে ! পারিজাতের শচীই বা কে আর ইন্দ্রই বা কে? সমুদ্র মন্থনেই যদি উঠিয়া থাকে, তবে এটা সকলের সাধারণ ধন--এক ইন্দ্রই বা কেন ইহা ভোগ করিবেন? শচী যদি মনে করেন যে, মহা ক্ষমতাশালী দেবরাজ ইন্দ্র তাহার স্বামী সুতরাং পারিজাত তাহারই প্রাপ্য, তবে তাহাকে গিয়া বল-- কৃষ্ণ তাহার পত্বী সত্যভামার অনুরোধে, পারিজাত বুক্ষ লইয়া যাইতেছেন, যদি ক্ষমত থাকে তাহ হইলে বাধা দিন ।৮

প্রহরিগণ গিয়া শচীকে সমস্ত কথ। জানাইল। পৃথিবীর মানুষ কৃষ্ণ আসিয়া, ইন্দ্রের নন্দনকানন হইতে পারিজাত হরণ করিয়। লইবে-_-এত বড় স্পর্ধা? এত অপমান শচী সহ করিবেন কেন? শচীর উৎসাহবাক্যে ইন্দ্র তখনই যুদ্ধের জন্য প্রস্তত হইলেন- _কৃষ্ণকে সাজা দিয়া পারিজাত ফুলের গাছটি কাড়িয়া লইতেই হইবে! বজ্ত হস্তে ইন্দ্র এরাবতে চড়িলেন; সমস্ত দেবসৈম্ত অস্ত্র-শস্ত্রে সঙ্জিত হইয়া “মার-মার, শবে যুদ্ধক্ষেত্রে যাইয়া উপস্থিত হইলে পর, সেখানে অতি ভয়ঙ্কর যুদ্ধ আরম্ভ হইল।

তেত্রিশ কোটি দেবতা ইন্দ্রের সহায় আর কৃষ্ণ একা কিন্তু এক] হইলে কি হয়! তিনি বড় সহজ যোদ্ধা নন। দেখিতে

পুরাণের গল্প | ্‌ ২৩

দেখিতে তাহার বাণে চারিদিক্‌ অন্ধকার হইয়া গেল। দেবতাদের বাণগুলি তিনি অনায়াসে কাটিয়া খণ্ড খণ্ড করিয়া! ফেলিলেন। তাহার বাহন গরুড়টিও বড় কম নয় | এক ঠোৌকর মারিয়া, বরুণের ভয়ঙ্কর পাশ অস্ত্রটি টুক্র। টুকরা করিয়া ফেলিল ! যম তাহার দণ্ড ছাড়িলেন কিন্ত কৃষ্ণের গদায় লাগিয়।. তাহ! ভাজিয়া গেল! কৃষ্ণ তাহার সুদর্শন চক্র দিয়, কুবেরের রথটিকে তিল তিল করিয়। কাটিয়! ফেলিলেন। চন্দ্র আর সুখ কৃষ্ণের জ্রাকুটি দেখিয়াই একেবারে নিস্তেজ! অগ্নি আসিলেন যুদ্ধ করিতে কিন্তু কৃষ্ণের বাণে তিনি শত ভাগ হইয়। গেলেন। অপর দেবতাদিগের কথাই নাই--কেহ চক্রের আঘাতে আবার কেহ বা কৃষ্ণের বাণ খাইয়া মাটিতে লুটাইয়। পড়িলেন। এদিকে আবার গরুড়ও সুবিধা পাইলেই আচ্ড়াইয়া কাম্ড়াইয়া আবার মাঝে মাঝে পাখার ঝাপ্ট? মারিয়া দেবতাদিগকে ক্ষত বিক্ষত করিল |

এইরূপে যুদ্ধ করিতে কৰিতে ক্রমে যখন সকলেরই অস্ত্র ফুরাইয়া আসিল, তখন ইন্দ্র লইলেন বজ্র এবং কুষ্ণ লইলেন সুদর্শন চক্র দধীচি সুনির হাড়ে প্রস্তুত বজ, সে বড় সহজ অস্ত্র নয়! আবার কৃষ্ের সুদর্শন তাহার চাইতেও ভীষণ! ইন্দ্র কুষ্ণের এই হই অব্যর্থ মহ1 অস্ত্র ছাড়িলে ভয়ঙ্কর প্রলয় কাণ্ড উপস্থিত হইবে, এই ভয়ে ভ্রেলোক্যের লোক হাহাকার করিয়া উঠিল। ইন্দ্র কৃষ্ণকে বজ ছু'ড়িয়া মারিলেন।

ভীষণ গর্জন করিয়! মুখ দিয়া অগ্নি বর্ণ করিতে করিতে বজ্ঞ কৃষ্ণের দিকে ছুটিল। বজ নিকটে আসিলে পর, নিতাস্তভ অবহেলার সহিত কৃষ্ণ হাত দিয় সেটাকে ধরিয়া ফেলিলেন !-বজ্জ বিফল হইয়! গেল। কৃষ্ণ বজ্জ বিফল করিয়াই ক্ষান্ত হইলেন, তাহার চক্র আর ছাড়িলেন ন। এদ্দিকে গরুড়ের তাড়নায় ইন্দ্রের বাহন ক্ষত বিক্ষত, তাহার বজ্টিও হইল বিফল ! তখন নিরুপায় হইয়া তিনি পলায়নের চেষ্টা করিলেন।

২৪ | কুলদা-কিশোরগল্পচতু্টয়

ইল্দ্রকে পলায়ন করিতে দেখিয়া! সত্যভাম! ঠাহাকে বিদ্রুপ করিয়া বলিলেন__“ওহে ইন্দ্র! তুমি দেবতাদিগের রাজা, তোমার কি যুদ্ধ ছাড়িয়া! পলায়ন কর! উচিত ? শচী তোমার অতি আদরের রাণী, তাহার খোপায় পারিজাতের মঞ্জরী না দেখিতে পাইলে যে তোমার ইন্দ্রত্ইই বজায় থাকিবে না! যাহ হউক, আর লজ্জিত হইয়া পলায়নের আবশ্যক নাই এই নাও, তোমার পারিজাত লইয়া যাও। তোমার বাড়ীতে আসিয়াছিলাম, কিন্তু শচীর এতই অহঙ্কার যে, আমাকে একটুও সম্মান করিলেন না। সেইজন্য আমি ইচ্ছ! করিয়াই এই বিবাদ বাধাইয়াছিলাম। অতএব এখন পারিজাত হরণে আর কোন প্রয়োজন নাই |”

সত্যভামার কথায় ইন্দ্র ফিরিয়া আসিয়া বলিলেন-_-“দেবি ! আপনার মনের সাধ মিটিয়াছে, তবে এখন আর রাগ কেন? আর আমার পরাজয়ের কথা যদি বলেন, স্বয়ং কৃষ্ণের সঙ্গে যুদ্ধে হারিয়াছি, তাহাতে আমার লজ্জার কোন কারণ নাই |”

ইন্দ্রের এই কথায় সন্তুষ্ট হয়! কৃষ্ণ হাসিতে হাসিতে বলিলেন, “আপনি দেবরাজ ইন্দ্র, আর আমরা পুথিবীর লোক! সুতরাং আমারই অপরাধ হইয়াছে এবং মে অপরাধ আপনার ক্ষম1! কর। উচিত। পারিজাত আপনার নন্দন কাননে খাকারই উপযুক্ত সত্য- ভামার অন্থুরোধে আমি উহ! গ্রহণ করিয়াছিলাম, এখন আপনি উহা ফিরাইয়া লউন। আর, আপনি যে আমাকে বজ মারিয়াছিলেন, তাহাও এই নিন্।৮ এই বলিয়! কৃষ্ণ বজটি ফিরাইয়া দিলেন

বজ্জ গ্রহণ করিয়া ইন্দ্র বলিলেন-_- “কৃষ্ণ ! “আমি পৃথিবীর লোক” _-একথা বলিয়া আমাকে ভূলাইবার চেষ্টা করিতেছ কেন? তুমি যে কত বড় দেবতা মহাপুরুষ তাহ। কি আর আমি জানি না? যাহা হউক এই পারিজাত তুমি দ্বারকায় লইয়া যাও। তুমি যখন পৃথিবী ছাড়িয়া চলিয়া আসিবে তখন পারিজাতও তোমার সঙ্গে সঙ্গে আসিবে ।”

পুরাণের গল্প ২৫"

কৃষ্ণ তখন “আচ্ছা, তাহাই হউক” এই কথা বলিয়া! পারিজাত লইয়া সত্যভামার সহিত গরুড়ের পিঠে চড়িলেন। গরুড় তাহাদিগকে লইয়! দ্বারকাঁয় ফিরিয়া আনসিল।

নকল বাসুদেব £ বিষুঃপুরাণ

পৌও, বংশীয় কোন রাজাকে তাহার প্রজাগণ সর্ধদাই এই বলিয়। স্তব করিত-_“মহারাঁজ ! আপনিই পৃথিবীতে বান্থদেবরূপে জন্মিয়াছেন ! যছুকুলের কৃষ্ণকে যে বান্ুদেব বলে, সে কথা মিথ্যা 1৮ সকলেই এরূপ স্তব করাতে, ক্রমে তিনি বাস্থদেব নামে প্রসিদ্ধ হইয়া উঠেন। মূর্খ রাজাও ভাঁবিলেন, তিনি সত্য সত্যই বান্ুদেব। তখন তিনি করিলেন কি-_শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম প্রভৃতি কৃষ্ণের সমস্ত চিহ্ন ধারণ করিলেন। শুধু তাহাই নহে, রথের চুড়াটি পর্যস্ত ঠিক গরুডের মত পক্ষী দিয়! প্রস্তুত করাইলেন। তারপর দুতদ্বার! কৃষ্ণকে বলিয়া পাঠাইলেন--“তুমি বাসুদেব নাম ছাড়, তোমার চিহ্ন সকলও পরিত্যাগ কর, আমিই প্রকৃত বাস্থদেব। আর ভাল চাও এখনি আসিয়! আমার শরণ লও ।৮

দূত দ্বারকায় গিয়া এই সংবাদ জানালে কৃষ্ণ হাসিতে লাগিলেন। আর বলিলেন-_-“দূত ! তোমার রাজাকে গিয়া বল, কৃষ্ণ শীঘ্রই আপনার পুরীতে আসিবেন এবং আপনার সাক্ষাতেই তাহার চিহ্ন চক্র আপনার প্রতি পরিত্যাগ করিবেন।” দুতকে এই কথ! বলিয়! বিদায় করিয়া কৃষ্ণ গরুড়কে স্মরণ করিবামাত্র গরুড আসিয়া! উপস্থিত হইল। তাহার পিঠে চড়িয়া তিনি পৌণ্ক রাজার পুরীতে যাত্রা করিলেন

এদিকে দূতমুখে সংবাদ পাইয়! পৌগ্.ক বান্ুদেবও যুদ্ধের জন

২৬... * ৃ্‌ কুলদা-কিশোর্রগল্পচতুষ্টয়

প্রস্তুত হইলেন ; তাহার সহায় হইলেন প্রবল পরাক্রাস্ত কাশীরাজ। এই ছুই দল একত্র হইয়া কৃষ্ণের সহিত যুদ্ধ করিতে অগ্রসর হইল দূর হইতে কৃষ্ণ দেখিলেন রাজ। পৌগ্ডুঁক সতা সত্যই তীহার চিহ্ন সকল ধারণ করিয়াছেন ; তাহার রথের চুড়ায় পর্ধস্ত গরুড়ের মত পাখী ইহ] দেখিয়! কৃষ্ণ হাসিয়াই খুন। যাহ! হউক, ক্ষণকাল- মধ্যেই ভীষণ যুদ্ধ আরম্ত হইল

কৃষ্ণ বিষ্ণুর অবতার, মানুষরূপে পৃথিবীতে জন্মিয়াছেন, আহার সহিত কে যুদ্ধ করিয়া! পারিবে ? তাহার শা ধনুর আগুনের মত উজ্জ্বল বাণগুলি, দেখিতে দেখিতে পৌগুকের সৈন্য লণ্ডভণ্ড করিল। তারপর কৃষ্ণ নিমেষ মধ্যে কাশীরাজের সৈম্তগণেরও সেই দশ! করিলেন। এইরূপে উভয় সৈম্তদলকে পরাজিত করিয়া, মূর্খ পৌগু.ককে বিদ্রুপ করিয়া বলিলেন__“হে বাসুদেব ! তুমি দৃতদ্বারা আমাকে যে চিহ্ন পরিত্যাগ করিতে বলিয়াছিলে এখন তাহ! করিতেছি। এই আমার চক্র ছাড়িলাম, তোমার জন্য আমার গদাও ছাড়িলাম। আর আমার গরুড়ও তোমার রথের চূড়ায় আরোহণ করুক 1” এই বলিয়া কৃষ্ণ সুদর্শন চক্র গদ৷ ছাড়িয়৷ পৌগুককে বধ করিলেন। আর তাহার বাহন গরুডও পৌগু,কের রথে চড়িয়। গ্রুড়ধ্বজটিকে খণ্ড খণ্ড করিয়া! ফেলিল।

বন্ধুর এই ছূর্দশ। দেখিয়। কাশীরাজের ভয়ানক রাগ হইল, তিনি কৃষ্ণের সহিত যুদ্ধ আরম্ভ করিলেন। কিন্তু হায়! মুহুর্তমধ্যে তাহার যুদ্ধের সাধ মিটিয়া গেল! কৃষ্ণ অতি সাংঘাতিক এক বাণে কাশীরাজের মাথাটি কাটিয়৷ সেই মাথা কাশীপুরীতে নিয়! ফেলিলেন। তারপর সেখানে আর মুহুর্ত-মাত্রও বিলম্ব করিলেন ন1।

এদিকে কাশীরাজের পুরীতে তাহার কাট? মাথ। পড়িয়া রহিয়াছে দেখিয়া রাজবাড়ীর লোকজন “হায় কি সবনাশ! হায় কি সবনাশ ! কে কাজ করিল?” বলিয়া ভীবণ কোলাহল আরম্ভ করিল, রাজবাড়ীতে হুলুস্থুল পড়িয়া গেল। ক্রমে সকলে জানিতে পারিল

পুরাণের গল্প ২৭

যে কৃই কাজ করিয়াছেন। তখন কাশীরাজপুক্র পিতৃশোকে নিতান্ত অধীর হইয়া প্রতিজ্ঞা করিল যেরপেই হউক ইহার প্রতিশোধ লইবে এবং সেজন্য মহাদেবের উদ্দেশে অতি কঠোর তপস্তা আরম্ভ করিল। তাহার পুজায় তুষ্ট হইয়া মহাদেব দেখা, দিয় বলিলেন--“বৎস ! আমি সন্তুষ্ট হইয়াছি, তুমি কি বর চাও বল।” তখন কাশীরাজপুক্র বর চাহিল £-- “এই কৃষ্ণ ছুরাচার পিতৃহস্তা মম বধার্থে ইহারে দাও কৃত্য। অগ্নিসম |”

অর্থাৎ এই তরাচার কৃষ্ণ আমার পিতৃহস্তা, ইহাকে মারিবার জন্য অগ্নিময়ী কৃত্যা স্থষ্টি করিয় দাও

মহাদেব “আচ্ছা, তাহাই হইবে” বলিয়া অস্ততঠিত হইলেন মহাদেবের বরে তখনই মহাকৃত্যা শক্তির স্থষ্টি হইল। সে অতি ভীষণ দেবতা ! তাহার মুখ দিয়! আগুনের শিখা বাহির হইতেছে, মাথার চুলগুলি আগুনের মত যেন দাউ দাউ করিয়া জ্বলিতেছে ! এই ভীষণ কৃত্যা। “কোথা কৃষ্ণ, কোথ। কৃষ্ণ” বলিতে বলিতে ছ্বারকায় গিয়া উপস্থিত হইলেন। নগরবাঁসিগণ এই মহা ভয়ঙ্কর কৃত্যা দেবীটিকে দেখিয়া ভয়ে কৃষ্ণের শরণ লইল। কৃঞ্ণ বুঝিতে পারিলেন যে কাশীরাজপুজ্র মহাদেবের আরাধন] করিয়া এই কৃত্যাজন্মাইয়াছে। তখন তিনি “এই কৃত্যাকে বধ কর” বলিয়া সুদর্শন চক্র ছাড়িলেন।

স্থদর্শন চক্র দেখিবামাত্র কৃত্য। ভয় পাইয়। উধ্বশ্বাসে পলায়ন করিলেন ; চক্রও তাহার পিছনে তাড়া করিয়! চলিল! ছুটিতে ছুটিতে কৃত্যা বারাণসী পুরীতে প্রবেশ করিলেন, চক্র কিন্তু তবু তাহার সঙ্গ ছাড়িল না। তখন কাশীরাজার সৈম্যর1 সাজিয়া গুজিয়া চক্রের সহিত যুদ্ধ করিতে আমিল। কিন্তু চক্রেয় তেজে শুধু যে সৈম্যগণ দগ্ধ হইল তাহ নহে, সেই. ভীষণ কৃত্যা এবং বারাণসী পুরীটিও চক্ষের নিমেষে পুড়িয়া। ছারখার হইয়া গেল। সেই পুরীতে

২৮ * কুলদা-কিশোরগঞ্পচতুষ্টয

রাজপুজ্র, রাণী, দাসদাসী, লোকজন যাহার! ছিল সকলকেই দগ্ধ করিয়। সুদর্শন চক্র পুনরায় কৃষ্ণের নিকটে ফিরিয়। গেল

এখন প্রশ্ন হইতে পারে-_রাজকুমার মহাদেবের বর পাইয়াও কেন নিক্ষল হইল ? কথার উত্তর এই-_কাশীরাজপুজ্রের প্রার্থনার ইহাও অর্থ করা যায় যে--“এই যে পিতৃহস্ত। ছুরাচার কৃষ্ণ, আমার বধের জন্য ইহাকে অগ্নিময়ী কৃত্যা গড়িয়া দাও ।” দৃতেরাং

মহাদেবের বর এই উল্টা অর্থেই সফল হইল |

বামচন্দের অশ্বমেধ যত্ঞ পল্সপুরাণ

রাবণকে সবংশে বধ করিয়া সীতাকে উদ্ধার করিলে পররামচন্দ্ অযোধ্যায় ফিরিয়া আসিয়া রাজ! হইলেন। রাবণ ছিল বিশ্রবা মুনির পুজর- সুতরাং ব্রাহ্মণ। তাহাকে বধ করিয়। রামের ব্রহ্ম-' হত্যার পাপ হইল্‌ এবং এই পাপ নষ্ট করিবার জন্য মহামুনি অগস্ত্য তাহাণকে অশ্বমেধ যজ্ঞ করিবার উপদেশ দিলেন ইন্দ্রের উচ্চৈঃশ্রবার মত সুন্দর সাদ! ধবধবে একটি অশ্বের কপালে যজ্ঞকর্তার নাম এবং তাহার বলের পরিচয় দিয়! পত্র লিখিয়। তাহাকে ছাড়িয়। দিতে হয়। বড় বড় যোদ্ধারা সৈম্যসামস্ত লইয়! এই যজ্ঞের অশ্ব যেখানে যাইবে তাহণর পশ্চাৎ সেইখানে যাইবে। যদি কেহ বলপূর্বক অশ্বটিকে বাধিয়! রাখে তবে যুদ্ধ করিয়া তাহাকে উদ্ধার করিতে হইবে। এইরূপে সমস্ত রাজাদিগকে বশীভূত করিয়া অশ্ব ফিরিয়া আমিলে সেই অশ্বদ্ধার। অশ্বমেধ যজ্ঞ করিতে হয়। রাম এই অশ্বমেধ যজ্ঞ আরম্ভ করিলেন মহাবীর শক্রদ্ধ ভরতের পুজ পুঙ্ষল, হনুমান, সুগ্রীব অঙ্গদের সহিত কোটি অক্ষৌহিণী সৈম্ঠ সঙ্গে লইয়া, অশ্বকে রক্ষা করিবার

পুরাণের গল্প

জন্য প্রস্তুত হইলেন। মহামুনি বশিষ্ঠ সুসজ্জিত যজ্ঞাশ্থের কপালে রামচন্দ্রের নাম এবং তাহার বলের পরিচয় দিয়া! পত্র লিখিয়! তাহাকে ছাড়িয়া দিলেন। কত রাজার দেশ পার হইয়া অশ্ব চলিল। কেহ বা কেবল রামের নাম শুনিয়াই বিনা যুদ্ধে বশ্যত। স্বীকার করিলেন। অনেক তেজন্বী ক্ষত্রিয় রাজ যজ্ঞের অশ্ব ধরিলেন বটে কিন্তু সকলকে শেষে হার মানিয়া অশ্ব ফিরাইয়া দিতে হইল। এইরূপে ক্রমে যজ্ঞের অশ্ব দেবপুরে প্রবল পরাক্রাস্ত ক্ষত্রিয় রাজা বীরমণ্রি রাজ্যে গিয়া! উপস্থিত হইল। রাজ। বীরমণি মহাদেবের পরম ভক্ত ছিলেন। মহাদেব তাহার প্রতি সন্তুষ্ট হইয়। স্বয়ং রাজবাড়ীতে থাকিয়া সবদা রাজাকে বিপদ আপদ হইতে রক্ষা করিতেন। রাজকুমার রুক্মাঙ্গদ অশ্বটিকে বাঁধিয়। রাজবাড়ীতে লইয়। আমিলে পর সেই পত্র পড়িয়। বীরমণি জ্বলিয়া উঠিলেন-_“কি ! অশ্বমেধ যজ্ঞ করিয়া রামচন্দ্র ক্ষত্রিয় রাজাদিগকে বশ করিতে চান-_ কেন, আমাদের কি শক্তি সামর্থ্য নাই ? অশ্ব বাঁধিয়া রাখ, বিন! যুদ্ধে কখনই তাহা ফিরাইয়া দিব না।” রাজার দূত গিয় শক্রত্বকে এই সংবাদ জানাইল। -

দেখিতে দেখিতে ছুইদলে ভীষণ যুদ্ধ বাধিয়া গেল। প্রথমে রাজকুমার রুল্াঙ্গদ অনেকক্ষণ পর্যন্ত পুফলের সহিত সমানে সমানে যুদ্ধ করিয়। অবশেষে পুফলের একটি সাংঘাতিক বাণের আঘাতে রথের উপর অজ্ঞান হইয়। পড়িলেন। তখন রাজ বীরমণি ক্রোধে পুফষলকে আক্রমণ করিলেন। বীরমণি প্রবীণ যোদ্ধা, পুষ্কল বালক! কিন্ত বালক হইলে কি হয়, ভরতের পুত্র পুল অসাধারণ যোদ্ধা__ আশ্চর্য কৌশলে বীরমণির অস্ত্র সকল নিবারণ করিয়া সে একটি ভয়ানক বাণ মারিয়া! তাহাকেও অজ্ঞান করিয়া! ফেলিল !

ভক্তের হুর্গতি দেখিয়া মহাদেব আর স্থির থাঁকিতে পারিলেন না। তিনি স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্রে আসিয়া তাহার অন্ুচর বীরভদ্রকে বলিলেন-_“যাও বীরভত্র ! পুলের সহিত যুদ্ধ করিয়! আমার

রঃ কুলদা-কিশোরগল্পচতুষ্টর

এই ভক্তের অপমানের প্রতিশোধ লও।” বীরভত্র তখন পুফলের সহিত তুমুল সংগ্রাম আরম্ভ করিলেন। মহাবীর বীরভদ্রের সহিত ক্রমাগত পাঁচ দিন ধরিয় পুলের যুদ্ধ হইল, বীরভদ্র তাহার কিছুই করিতে পারিলেন না। ষষ্ঠ দ্রিনে অনেক চেষ্টার পর, শিবদতত ত্রিশূলের আঘাতে তিনি পুক্ষলের মাথা কাটিয়া ফেলিলেন। শত্রুদের সৈম্তদলে মহা হাহাকার পড়িয়া গেল।

শত্রদ্ধ তখন রাগে হুঃখে পাগলের মত হইয়। একেবারে মহাদেবকেই আক্রমণ করিয়া! বসিলেন। একদিকে সাক্ষাৎ রাম- চন্দ্রের মত তেজন্বী মহাবীর শক্রদ্, অপরদিকে মহাদেব স্বয়ং! সকলের মনে ভয় হইল বুঝিব! প্রলয় কাল উপস্থিত ! ক্রমান্বয়ে এগার দিন এই যুদ্ধ হইল। দ্বাদশ দ্রিনে শক্রদত্ধ অতিশয় ক্রুদ্ধ হইয়! মহাদেবকে মারিবার জন্য 'ব্রন্ষশির' নামে মহা ভয়ঙ্কর এক অস্ত্র ছাড়িলেন। কিন্তু এই সাংঘাতিক অস্ত্রটিকে মহাদেব হাসিতে হাসিতে গিলিয়া ফেলিলেন !

(এই অত্যাশ্চর্য ব্যাপার দেখিয়া শক্রত্ব একেবারে অবাক্‌ ! কিযে করিবেন কিছুই বুঝিতে পারিলেন না। এই অবসরে মহাদেব আগুনের মত উজ্জ্বল এক ভয়ানক অস্ত্র মারিয়া তাহাকে অজ্ঞান করিয়া ফেলিলেন। তখন হনৃমান রাগে আগুন হইয়! মহাদেবের নিকট গিয়া বলিল, “তুমি নিতান্ত অন্যায় কাজ করিয়াছ, সে জন্য তোমাকে আমি কিছু শাসন করিতে ইচ্ছা করি। মুলি- খষিদিগের নিকট চিরকাল শুনিয়া আমিতেছি যে প্রভু রামচন্দ্রকে তুমিও যথেষ্ট শ্রদ্ধ৷ ভক্তি কর। আজ বখন তুমি যুদ্ধ করিয়া আমার প্রভুর ভাই শক্রদ্কে অজ্ঞান করিয়া এবং মহাবীর পুলে বধ করিয়াছ তখন সে সমস্ত কথাই মিথ্যা। *আজ আমি সকলের সাক্ষাতে তোমাকে বধ করিব, তুমি প্রস্তুত হও ।+ ' মহাদেব বলিলেন, “হনুমান! তুমি সত্য কথাই বলিয়াছ।

পুরাণের গল্প ৩১

রামকে আমি বড় দেবতা বলিয়া মানি এবং তাহাকে শ্রদ্ধা করি, ইহ! সত্য। কিন্তু বীরমণি আমার পরম ভক্ত, তাহাকে বিপদের সময় রক্ষা না করিয়া পারি না।” মহাদেবের কথায় হনুমান ক্রোধে উন্মত্ত হইয়! প্রকাণ্ড একটা পাথর দিয়া তাহার সারথি, অশ্ব» রথ চুরমার করিয়া দ্রিল। রথহীন হইয়! মহাদেব তাহার বাহনে চড়িবামীত্র হনুমান একট] শাল গাছ তুলিয়া! লইয়! তাহার বুকে গুরুতর এক ঘা বসাইয়! দিল। দারুণ আঘাতে ক্ষিপ্তপ্রায় হইয়! মহাদেব ভয়ঙ্কর এক শুল দিয়া! হনৃমানকে আঘাত করিলেন, হনুমান সেটিকে ছুই হাতে ধরিয়। খণ্ড খণ্ড করিয়া ফেলিল ! মহাদেব জলস্ত এঁক শক্তি মারিলেন; হনূমান সে আঘাতও অগ্রাহ্য করিয়া! প্রকাণ্ড এক বৃক্ষদ্ধার! তাহার বুকে এমনই এক. আঘাত করিল যে তাহার শরীরের সাপগুলি ভয়ে উত্বশ্বাসে চারি- দিকে পলায়ন করিল।

ইহ। দেখিয়া মহাদেব ভীষণ এক মুষল হাতে লইয়। বলিলেন -_-“তবে রে বানর! শীঘ্র পলায়ন কর্‌, নতুবা! এই মুষল দিয়া আজ তোকে বধ করিব।” এই বলিয়া মহ! ক্রোধে মহাদেব যুষল ছাঁড়িলেন কিন্তু হনুমান রামনাম স্মরণ করিয়। এবারেও ফাকি দিল তারপর মে এমন আশ্চ যুদ্ধ আরম্ভ করিল যে মহাদেব বড়ই মুক্িলে পড়িয়া গেলেন। হনৃমান চক্ষের নিমেষে কখন পাথর ছু*ড়িয়! মারিতেছে, কখন প্রকাণ্ড বড় গাছ লইয়৷ আঘাত করিতেছে, আবার কখনও বা লেজ দিয়! মহাদেবকে জড়াইয়! ধরিয়। টানাটানি করিতেছে; কোন্টা যে তিনি ব্যর্থ করিবেন তাহ বুঝিতে না! পারিয়া মহ। ব্যতিব্যস্ত হইয়া পড়িলেন। অবশেষে উপায়াস্তর না: দেখিয়! বলিলেন, “বাছা হনুমান!