প্রতিভা

রজনীকান্ত গুপ্ত-প্রণীত

[1৬৮৯ 0 01০96 70212 211 16 10120 ঘ৭ ৬৬ (91) 1১1০০ 0708 11৮6৮ 01111702 12712541021.

মহ।জ্ঞ।নী মহাজন, যে পথে ক'রে গমন, হয়েছেন প্রা স্মরণীয়, দেই পথ লক্ষা ক'রে স্বীয় কা্তি-ধ্ুঙ। ধ'রে,

আমরাও হব ব্রণীয। শ্্হেসচন্

তৃতীয় সংস্করণ

প্রকাখক-_জযোশেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, ংস্কত প্রেস ডিপজিটরী, *৩০ নং কর্ণওয়ালিস্‌ গ্রীট, কাঁিকাতা এবং ৭৬ নং বলরামু দে স্ীট,__“মেট্কাকু, প্রেস” হইতে গুজাশ্তোধ বন্দোপাধ্যায় কর্তৃক মুদ্রিত ১৩১৭ সাল।

মূল্য ১২ এক টাক+।

রজনীকান্ত গুগু-প্রণীত গ্রন্থাবলী।

স্কুলপাঠ্য। &00010590. 1957 0609 96 8০0০0. 001001016699, রে আরধাকীসতি (মগ ) ২। প্রতিত। বর ৩।'ভারতের ইতিহাস ( হিন্দু, মুমলমান, ব্রিটিস'

' রাজত্ব বিবরণ) *'** ১২ ৪। রচনা ৮৯৮ 01%০ ৫। রূচনামাঙ্ষ ,০০:01%০ ৬। ছাত্রপাঠ ,*- 1%5 ৭। ভীম্মচ্ৰিত , 11০ ৮। প্রবন্ধমঞ্ীরী? তত 05 ৯। বীরমহিম ১০0০

১০ | উতিহাসিক পাঠ ... 0০ ১১॥ ইংলগ্ডের ইতিহাদ * ॥৭ ১২। প্রবন্ধকুন্ম 05 ১৩। প্রবন্ধমাল। ১১:1০ ২৪। নীতিপাঠ 4 ১৫ আখ্যানমালা ,.*1%৩

১৬। বাঙ্গালার ইতিহাস '. |০

১৭। পাঠ মঞ্গরী ১** 15 ১৮। কবিতা]! সংগ্রহ .. | ১৯। বোধবিক্ষাশ ,.*:৬/8 ২০। পদার্থ বিগ্যাগ্রবেশ ... ৬/০

২১। নীতিহার কা

| চগৃহ-পাঠ্য

১। সিপাীযুদ্ধের ইতিচাস | রঃ ১ম৯গ,৩য় একত্র বাধাই ৪২ ৪র্থ ৫ম একত্র বাধাই 1»... ১ম ৬১1০) ২য় (১1০) ৩য় (0৭) 1৪ গর্থ (১1০) ৫ম ভাগৎ (২০)

1 ! |

প্র ২। মুগ্ধবোধ ব্যাকরণ (লটাক) ৩.

৩। ভারত কীহিনী: ০৮ ১২

ভারত প্রঈ্গ "১৭

| ৫। নবভারত ১০৪ 017০

রি *। পাণিনির বিচার *** ১৭

| এ। নবচরিত॥ *** 19৩ ৮। জয়দেব চরিত ..*1%*

৯। হিন্দু আশ্রম চতুষ্টয় -.. ১২ ১০। আঁয়াদিগের জাতীয় ভাব %* ১১। আমাদিগের বিশ্ববিদ্তালয় %০

বিজ্ঞাপন

উনুঝিশ শতার্বীর শেষাদ্ধে খ।% পাহিত্যক্ষেত্রে যে সকল প্রতিভাশালী ব্যক্তির আবির্ভাব হইয়াছে, উপস্থিত গ্রন্থে ত্তাভাদের মধ্যে পাঁচ জন খ্যাতনামা €লথকের প্রত্তিভার পরিচয় দিতে, চেষ্টী করিয়াছি। প্রধানতঃ এই পাঁচ জনের প্রতিভার বঙ্গীয় সাহিত্যে নবমুগের আবির্ভাব হইয়াছে পাশ্চাতা সাহিত্যের ইর্হুত ন্াঙ্গাল। সাহিত্যের ঘনিষ্ঠ সন্বন্বস্থাপনবিষয়ে এই পাঁচ জনই আপনাদের অসামান্ত ক্ষমতার পরিচত্ দিয়াছেন, এবং এই পাচ জনই বিবিধ উপাগে গ্মদেনীয় সাহিত্যের সৌদদধ্য সম্পাদন করিয়ঃ গিয়াছেন। ইহাদের .প্রর্তিভার বিবরণ লইর়াই বাঙ্গাল! সাহিত্যের বর্তমান কালের ইতিহাস। বাঙ্গালং সাহিভ্যের ক্রমবিকারের ইতিহাস জানিতে হলে, ইহাদের প্রতিভার সহিত পরিচিত" হওয়া একাস্ত 'আবশ্তক |

'সৌভাগাক্রমে এই প্রতিভামম্পন্ন লেখকুদদিগের মধ্যে অনেকের জীবনী" প্রকাশিত হইয়াছে যখন বিগ্ভাসাগর মহাশরের বিষয় লিখিত 'হয়, তখন তদীয় সহোদুর শ্রীযুক্ত শত্তুচন্দ্র বিগ্ুরত্ব মহাশয় ব্যতীত আদ কেহ বি্াসাগর-ঠারত প্রকাশ করেন নাই। বিদ্াসাগর মহাশয়ের কোন কোন কথা৷ এই জীবনী হইতে গৃহীত হইয়াছে। শ্রীবুক্ত মহেক্্নাথ বিদ্তানিধি মহাশয় অক্ষমুকুমারচারিত এবং শ্রীযুক্ত যোগীন্দ্রনাথ বস্তু বি, এ, মহাশয় মধুহুদনচরিত প্রণয়ন করিয়াছেন। ইহাদের লিখিত জীবনী হইতে অক্ষয়কুনাপ্র মীইকেল মধুহুদনের কোন কোন কথ! পরিগৃহীত হইয়াছে এতত্থ্য ভীত ভিন্ন ভি গ্রন্থ এবং সাময়িক পত্র সংবাদপত্র

তইতে বিষয়ে সাহায্য পষটয়াছি। এখন বিগ্তাসাগঃ মহাশয়ের আর দই খানি চবিত প্রকাশিত হইয্ছ। সংবাদপত্রবিশেষে তৃদেব মুখোপাধ্যায়েব চবিত গ্রকাশিত হইয়াছে। আশা আছে, বঙ্ধিমচন্ত চট্টোপাধ্যারের জীবনীও বথামময়ে গ্রকাণিত হইবে। উপন্িত গ্রস্থের প্রথম ধেষ প্রবন্ধ ব্যতীত অন্য তিনটি প্রবন্ধ সাহিত্য পরিষদ-পত্রিকায় বাশিতু ছিণ। তিনটি প্রবন্ধ স্ল বিশেষে পরিবাঠত হটয়াছে। প্রগম টি বিষ্তাসাগর মহাঁশয়েব মর্ণার্থক সভায় গঠিত 'সাষ্চিত্য, পত্রে প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধও কোন কোন অংশে পরিবদ্িত হইরাছে। পূর্বে গ্স্থেব নাম পপ্রতিভার পরিচয়” রাখা হইরাছিল। গরিশেষে বন্ধ-বিশেষের গ্রপ্তাবে উষ্ কেবল “প্রতিভ|” নামে প্রকাশিত হইল

বাতা

্রস্থকারের শ্বতস্তলিখিত নাম স্বাক্ষৰ ভিন্ন পুস্তক গ্রহ্ণীয় নহে।

সুচী | [বিষ্ব

জশ্ববচ্ক্দ [বিদ্ভাসাগব অন্গগ্রকুমাল দক |

ধ্যা সুদের ম্ুন্ধাপাধাহ | আহে জা মধুহহদন্ন দশ বক্ষিসচজ্ঞ্ চড্রোগাধ্যাস

ক. | রি (4 7৮

ন্ ছু ছি ২১

রর রখ. ২৬:২২ বা ১৯২,

রং ১৯২ ১৯,

$308১/৮-১, ৮৬২ ৮2১২১

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর |

শামাদেব প্রাচীন ইতিহাসেব পর্ধ্যা্চন৷ করিলে, স্পষ্টশ্জান্লিতে পারা যায় যে, বিলাস-বিঘ্বেষ, কষ্ট-সহিষ্তা, প্রবার্থপরতা সর্বপ্রকাব কঠোরতায় অপবানধুখতা, আমাদেব জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য ছিণ। হিন্দুঞছাত্র যখন ্ান্ত্রাহ্ছশীলনে * মনোনিবেশ করিতেন, তাহাকে অতি * কঠোব ব্রতে ক্ষিত হইতে ₹ইত*। আপাত-বম্য সৌধীনভাবে তখন শাহাব প্রবৃত্তি পাকিতু না) বিষয়-বাসনার পঙ্চিল প্রবাহে তখন তীহাত্ি জদয় কলুষিত ভইত না, উচ্ছঙখলতাব সমাবেশৈও তখন তী্গার প্রত্যেক কার্য উন্মার্গ-গামী হইয়া উঠিত না। তিনি তখন নানা কষ্ট সহিয়া, নানা বিল্ন-বিপত্তির সহিত্বঘোরতব সংগ্রাম করিয়া, লীনা ছুঃসাধ্য কার্যযসাধনে সর্বদা উদ্যত থ।কিন্াা, শীবীরিক উন্নতিব সহিগ্ত অপূর্ব মানসিক শক্তিব, পরিচয় দিতেন। হিন্দু গৃহস্থ যখন গার্স্থ্-ধর্স-পালনে প্রবৃত্ত হইন্ডেন, তখন তাহাকে পবের জন্ত সর্বস্ব তাগ করিতে হইত। তিনি তখন 'আত্মন্খের প্রতি দৃক্পা্ড করিতেন না) নিববচ্ছি্ন আত্মোদ র-পুরণে

আসক্ত থাকিতেন না; বা! আত্মসমূষ্ধির বিস্তার করিয়া, বিলাস-সাঁগরে ভাপিয়। বেড়াইতেন না। তখন তাহার সমস্ত কার্ধ্য পরোপকারার্থে অনুষ্ঠিত হইত। পর-পরিচর্্যাই তখন তিনি আপনা: প্রধান ব্রত বলিয়' মনে করিতেন। তীহার এই পবিত্র ব্রতের মহিমায়, রোগ-শোক-তাপময় ংসার শাস্তি-নিকেতন-ন্বপ্প ভইরা উঠিত। শ্ঠামল-পত্রাবৃত, ফলপুষ্প-যুক্ত বৃক্ষ 'বেমন নিগ্ধ ছায়ার পথশ্রুকস্ত পথিকের শ্রাপ্তি-বিনোদন করে, সুন্বাদ্ব ফল দিয়া, ক্ষধার্তের ক্ষুধাশাস্তি করিয়া থাকে, শাখা-বাহু বিস্তীর করিয়া, শত শত বিহঙ্গকে মাশ্রয় দান করে, তিনিও সেুরপ গৃহাগত ভিক্ষার্থীকে দান করিয়া, জীবসমূহকে অন্ন দিয়া, অতির্ধি, 'অভ্যাগত আর্তজনের আশ্রযম্বরূপ ক্ঞইয়া, ভূলোকে ন্বপ্নীয় শোভা বিকাশ করিতেন। এইরূপ কঠোর কষ্টরসহিষ্ণতার সহিত, অদম্য উদ্ভম অধ্যবসার, এবং এইরূপ প্রার্থপরতার সহিত ুর্বজন-হিতৈধিতা সর্বার্থভ্যাগের ৃষ্টাত্ত, আমাদের প্রাচীন ইতিহাসে অনেক প্রাপ্ত "হওয়া বায় কিন্তু পরিবর্তনশীল ক্লালের অনন্ত মহিমায় বা নিয়তির ঘিচিত্র লীলায়, এখন আমাদের সমাজের দশাস্তর ঘটিয়াছে। এখন সে বিলাস-বিদ্বেষ, সৌখীনতার আবর্তে পড়িরা নিমজ্জিত "হইয়।ছে ; সে কষ্ট-সহিষণুতা, আলন্ত শ্রম-বিমুখতার সহিত সংগ্রামে পরাক্গয়,স্বীকাঁর করিয়াছে ; সে পর-বিষ্ঠতা নিঃস্বার্থভাবের স্থলে বিকট স্বার্পরভার কঠোরীড়নে আশ্রয়-প্রা্থ আর্তজন কাতরভাবে হাহাকার করিতেছে এই অধঃপতন 'অধো- গতির কালে, এই ছুঃখ ছুর্গীতির শোঁচনীন্ন সময়ে, আমার্দের মধ্যে আবার একটি অপূর্ব দৃশ্ঠের বিকাশ হইয়াছিল। আবার এই পর- নিগৃহীত, পরপদদলিত, পরাবজ্ঞাত জাতির মধ্যে একটি মহাপুরুষ $

ঈশ্খরচন্দর বিদ্যাসাগর

আবিভূ্তি হইয়া, সেই পূর্বতন ঈ্জীর ভাব - সেই মহিমান্বিত আর্ধাসমাজেব মহত্তর কার্য্যের অবতারণা করিয়াছিলেন ভীঘণ মহামরুতে জুচ্ছায় বুক্ষ বা সুপেয়-জলপূরণ সরোবরু পাইলে, মবীচিকায় উদ্ত্রান্ত আতপ- তাপে রাত পৃস্থ যেমন শান্তি লাভ করে, সেই মহা্ুকরষকে পাইয়া, রৌগঁজীর্ণ লাংসারিক জা্া-বনতরণার্! অবসন্ন লোকেও সেইরূপ শাস্তি লাভ করিয়ছিল। *বীরপুরুষ রণস্থলে, বিজয়িনী শক্তির পর্থিচয় দিয়া, বীরেক্রর্গেব বরতীয় *হইতে পাবেন ১০ প্রতিভাশালী প্রতিভ! দেখাইয়/ সর্বত্র প্রশংসা! লাভ করতে পাররন) গবেষণা-কুশল পাগুত অভিনব তত্বেৰ উদ্ভাবন করিয়া, সহৃদয়দিগের গ্রীতিবদ্ধন করিতে পায়েন ; কিন্ত ভোগাভিলাষ শুন্যতায়, প্রশ্হিতৈষিতায় সর্বোপৰি সির্বধর্তাগের মঙ্চায় তিনি চিরকন সর্বশেষ্ঠ, সর্পাসন্মানিত সর্বজনৈর আদরণীয় হহয়া, কক্ষণার পবিত্র মন্দিরে গ্রীতি-পুষ্পাঞ্চুলি পাইবেন। ভমামরা বাহার গুণকীর্ত্মে গ্রকৃত্ত হইতেছি, সেই স্বর্গার ঈশ্বরচন্ত্র বিগ্যাসাগরই উক্ত এঅলোক-সামান্ত « মহাপুরুষ বলিয়া পবিগণিত হইয়&ছন, এবং সেই ্িগ্কাসাগরই বাণ্যে শ্রমশীলতার সহিত অপরিসীম ইষ্ট-সহিষ্ণতা, যৌখুনে বিলাস-বিদ্বেষের সহিত অপূর্ব্ব তেজস্বিতা বাপ্ধীক্যে লোক-ভিতকর কাধ্ধ্যানুষ্টানের সহিত অসামান্গ দানশীলতার পরিচয় দিয়া, তেজস্বিতা- ভিমানী সভাঁতা-স্পর্ধী ইউরোপীয়ের ঈমক্ষে বাঙ্গালীর গৌরব রক্ষা করিয়াছেন

বিদ্যাসাগর মহাশফ সমৃদ্ধিপূর্ণ সংসারে জন্মগ্র€ণ করেন নাই, সমৃদ্ধির ক্রোড়ে লালিত হয়েন নাই; বা! সমৃদ্ধি-জুলভ বিষয়ভোগেও ংবদ্ধিত হইয়া উঞ্জেম নাই। গগন-বিদারী বাস্ববনিতে তাহার জন্ম-

প্রতিভা

গ্রহণ-ঘটনা! সুচিত হয় নাই ; গায়ককুন্কেন কলক-নিঃস্চত সঙ্গীতরবের মধ্যেও তাহার উদ্দেশে মালিক কার্য অনুষ্ঠিত হয় নাই; দুরবর্তী জনপদবাসীরাও তাহার জন্মগ্রহণ জন্য সমবেত হইয়া বিবিধ উৎসবে উল্লাস প্রকাশ ,কবে প্লাই। তিনি বাঙ্গালার একটি সামান্য পল্লীতে সন্কীর্ণ পর্ণকুটারে জন্মগ্রহণ করেন। তাহার পিতামহ সাংসারিক-বিষয়ে এক প্রকার উদাসীন ছিলেন। তলব পিতা এক. এক দিন অনশনে কা অন্ধাণনে থাকিয়া, যাহ কিছু উপার্জন করিতেন, তাহাতেই অতি কষ্টে সংসার চালাইতেন। এহরূপ দরিদ্র পিতা এবং দরিগ্রতার মুত্তি- স্বরূপ পিতামহী জননী বিষ্ভালাগনের অবলম্বন ছিলেন। পিতা অদূরব্তী হাট হষ্র্তে জিনিসপত্র লইয়া, বাড়ীতে ফিরিয়া আসিতেছেন, এমন সমক্ন পিতামহ তাকে কহিলেন,_/*আজ আমাদের একটা এঁড়ে বাছুর ভইয়াছে”” বিষ্ঞাসাগরের জন্ম-গ্রহণ-দংবাদ এইরূপে বিজ্ঞাপিত হইয়াছিল। এইরূপ দরিদ্রতাময় সংসারে--এইরূপ দকিদ্রভাবের যধ্যে তাহার আবিাব প্রটিয়াছিল। তিনি এই চিরপবিত্র দর্বরদ্রভাব কখনও, বিশ্বত হয়েন নাই। তাহার জীবন দারিদ্য-সহচর ত্রহ্গচারীর ন্যায় পবার্থপরতাময় ছিল। তিনি প্রভূত অর্থেব আঁধকারী হইয়াও, দরিদ্র- ভাবে থে কঠোর ব্রত পালন করিয়া গিয় [ছেন, সেই ব্রতচন্ন্যাই তাহাকে অলোক-সামান্ত মহাপুকষের মীহমা্িত সিংহাসনে স্থাপিত করিয়াছে; তিনি, দরিদের জন্য দরিদ্রের “গ্ুহে আবিহ্ৃতি হুইগনাছিলেন $ চিরজীবন দরিজ্রভার্খে দরিদ্র পালন করিয়াই, অনন্তপদে, বিলীন হ্ইয়াছেন। বরিত্রের পর্ণকুটারে যে পবিত্র বহ্কি-শিখার উত্তব হইয়াছিল, তাহার, প্রথরদীপ্থি বিশ্বজয়ী রাজাধিরাজ্কেও হীন প্রভ করিয়াছে

ঈশ্বরচজ্জ্ বিদ্যাসাগর |

বিগ্তাসাগব ক্ষণজন্মা মহাপু্জষ। পৃথিবীতে যে সকল মহাপুরুষ মহৎ কার্ষ্যে প্রসিদ্ধ লাভ করিয়াছেন, বিদ্কাসাগব ভাঁহাদেব অপেক্ষা মহতর | তিনি গ্রতিভাশালী পণ্ডিত অপেক্ষা মহত্বর) যে হেতু, তিনি *প্রতিভাব মুহিত অসামান্য তেজন্থিতীব পবিচয দিয়াছেন তিনি তেীত্বী “মহাপুরুষ অপেক্ষা মহত্তব ) ষেঁ হেতু, তিনি তেজন্িতার সহিত ্বার্থত্যাগেব পবাকাষ্ঠা* 'দেখাইয়াছেন। +তনি দানশীল ব্যক্তিগণ অপেক্ষা মহৃত্তব .*যে হেতু, তিনি দানশীলতাঁ-প্রকাশেব সিত বিষয়বাসনা এবং

আত্ম-গৌবব-ধোষণাব ইচ্ছা, সংযত বািয়াছেন ' তাহাকে অনেক" ভার সহিষা, অনেক বাধা 'মতিক্রম করিয়া, অনেক কষ্ট ভোগ কবিয়া, বি্কাভ্যাস কবিতে হুইয়াছিল।* ইহাতে তিনি এক* দিনেব জন্ও অবসন্ন ভয়েন নাই। যখন তিন লেখাপড়া শির্থিবাব জন্য কলিকাতায় পদীত হযেন, তখন তাহার বযুস স্ভাট বৎসব। তী্ছাৰ বাসগ্রাম কলিকাতা *তইতে* প্রায় ২৬ ক্রোশ দূববর্তী। তখন* বেলওয়ে ছিল না ল্প্বীমাব ছিল না। তখন পদতব্রজে দ্র্গম পথ অর্তিবাহন কশিষা, কন্তিকাতায় আদিতে হইত পথ যেরূপ দুর্গম, দক্থ্য-তম্করেব উপজ্রব্ে সেইরূপ বিপদ্সন্কুল ছিল। অষ্টমবর্ষীয় বালককে এই ভ্র্গম বিএ্াতি- পুর্ণ পথের অধিকাংশ পাত্র্ছে, শতিক্রম করিতে হইযাছিল। রাজ্য- তাড়িত নিরনিশয় দুর্দশাগ্রস্ত হুমাযুন” যখন মুভ মধ্যবর্ত। কর জনপদে শ্বীব তনয়েব জন্মগ্রহণের সংবাদ পাইয়া, অন্য সম্পত্তিব অভাবে একটি সামাগ্য কম্ত রক খণ্ড বন্ধুদিগের মধ্যে বিবণ করেন, তখন তিনি বোধ হ্য়, কখনও ভাবেন নাই যে, নবপ্রহত বালক এক সমধে সমগ্র ভারুতের অদ্বিভী্ন অধীশ্বর হইবে। দবিদ্র ঠাকুষ্মদাস যখন

প্রতিভা

অষ্টমবর্ষীপ্ন পুত্রকে সঙ্গে করিয়া, ব্ঃএকাতায় তাহার প্রতিপালকের গুঁভে পদার্পণ করেন, ৬খন [তনিও বোধ হয়, ভাবেন নাই যে, কালে এই বালক সমগ্র মহৎ ব্যক্তির গৌরব-স্পদ্ধী হইন্ত্রা,উঠিবে। সময়ের পরিবর্তনে “বালকের অদৃষ্টের পরিবর্তন ঘটিয়াছিল। মরুপ্রান্তরবর্তী সামান্ত নগরে ছুঃখ-্দাবিদ্রে নিগাড়িতা জননীর বোদনধ্বনির মধ্যে যিনি জন্মগ্রহণ করিয়াছিণেন ; « তরুণবয়সে ধাহাকে নানাক্ট সহিয়া রূহ কাম্য সাধন করিতে হইয়াছিল') দেই অকবর এক সময়ে দিল্লীর বত্ব-মিংহামন অধিকার করিয়াছিলেন ; এক সময়ে তঁহারই উদ্দেশে শতসহম কঠ হইতে পাঁদস্লীগ্থরো ব। জগদীশ্ব্ধো বা” বাক্য নির্গত হইয়াছিল। আর সামান্য পণকুটার খানার আশ্রয়স্থল ছিল, যৎসামান্ত আহারীয় যাহার রসর্ণাতৃপ্তি উদরপুভ্ঠির একমাত্র স্থল ছিল,

মলিন-বসনে,এপথশ্রান্তিতে অবমন্ন-্দয়ে এবং নিরতিশয় দীনভাবে £গই মহানগরীতে পদার্গণ করিয়াছিলেন, এক সমরে তিনিই, জগজ্জজ্মী সম্রাটের সিংহাসন অপেক্ষ্মও উচ্চানে সমাসীন হইয়াছিলেন অসামান্ত অধ্য-, বৃসায়ে, অনন্ত-সাধারণ কষ্ট- নিচ বিষ্ঞাসাগর এইরূপ উন্নতির চরম সীমায় পদার্পণ করিগ্াছিণেন। তকলেজে সংস্কৃতবিষ্ার অনুশীলনে তৎ-সম্কালে তাহার কোনও নি ছিল ন।। সাহিত্য, অলঙ্কার, পুরাণ, স্থৃতি--সকল বিষয়েই ভিনি অসামান্ত অভিষ্ঞড়া লাভ করিয়া-। ছিলেন। শিক্ষাগ্তরু তাহার বুদ্ধিদতা1 পাঠান্থরাগ দেখিয়া আহ্লাদ প্রকার্শ করিতেন ; সতীর্থগণ তীহার উদ্দারভার সারল্যময় সদাচারে সন্তষ্ঠ থাকিতেন ; বিদ্ভ।লয়ের অধ্যক্ষ তাহার 'বিদ্কা-পারদশিতার জন্ত তাহাকে শ্গুণে মহীয়ান করিয়। তুলিতেন [৮ অধ্যয়ন-সমূুয়ে তিনি

ঈশ্বরচন্দ্র বিচ্যানাগর |

শ্বহস্তে পাক করিতেন , অনেক উলময়ে ুয়ং বাজার করিতে যাইতেন; কনিষ্ঠ সহোদরদিগৃকে আহার করাইয়া, স্বয়ং বিগ্ালয়ে উপস্থিত হইতেন, এবুং বিজ্ঞাল হইতে বামগৃহে প্রত্যাগণ্ হইয়া, আহারের পর প্রায় সমস্ত রাত্রি প্রগাচ অভিনিবেশ সহকারে পাঠাভ্যাসে নিযুক্ত থাক্িত্তেন। এইরূপ আত্মসংযম, এপ নিষ্ঠা, এইক্ঈপ স্বাবপদ্বন, এবং এইরূপ *সহিষুণতীব সহিত তিনি অধৃতময়ী সাবস্বতা এক্তির *উদ্বোধন কবিয়াছিলেন। এই শক্তির প্রসাদে তিনি সর্বস্থলে সর্বক্ষণ অনমনীয় অপরাজেয় থাকিতিন।, বিগ্ভালয় হইতে তিনি যে বিগ্তামাগব', উপাধি প্রাপ্ত হয়েন, শেষে দেই উপাধিই ত্াহাব একমাত্র পৰিচগবস্থল হইয়া উঠে। বিগ্ভাব প্রাণরণ্িণী বাণী যেন সেই' দক্কার সাগব ইঈশ্বব- চন্বই পরিচয় দিবাব জন্ত জ্েকেব “রসনায় লীলী' কবিতে থাকেন।

* বিদ্ভাসাগৰ মহাশয় যখন গব্ণঝ্েণ্টেক্ক চাকরি গ্রহণ করিয়। সংসাবে প্রবেম করেন, উন তাহার প্রতিভার সহিত অনাধ্ান্ত সৎকাধ্যশীলতা -পবিস্ফুট হইতে "থাকে বাঙ্গালা গণ্ভের উন্নতিসাধন্* তাহার একটি প্রথ্ধান কার্ধ্য। বিস্তানাগব যধি আর কিছু ন| করিতেন, তাহ| হইলেও কেবল এই কার্ধ্য তীহার নাম চিরম্্বণীয় ভটত। দামুস্তার দরিদ্র ব্রাহ্মণ দশ আড়া মাত্রঙধানে পরিতুষ্ট হইয়া, যে কাব্য প্রণয়ন করেন, সেই কাব্যের ্রসাদেই তিনি বাঙ্গালার কবিকুলেব মধ্যে শ্রেষ্ঠ পদ অধিকার করিয়াছেন। বিষ্ভাসাগর আর কোনও কার্যে হস্তক্ষেপ না করিলেও, তাহার অমৃতদ়ী-লেখনী্গবিনিংস্ত গন গ্রস্থাবলীর গুণে তিনি চিরকাল বাঁঙগাল৷ সাহিতা-সংসারে চিরম্মরণীয় হইক়্া থাকিতেন।

প্রাচীন বাঙ্গালা ্ষকিতা ধেমন সংস্কৃত সাহিড্যের আশ্রয়ে প্িপুষ্টা

প্রতিভা

পরিবদ্ধিতা হইয়াছে, প্রাচীন বাঙ্গান্থ” গন্ভও সেইরূপ সংস্কতের উপর নির্ভর করিয়া, ধীরে ধীরে উন্নতিপথে পদার্পণ করিয়াছে। কিন্ত নিরবচ্ছিন্ন সংস্কৃত ভাব, বাঙ্গাল! পদ্য গদ্যের পরিপোবণপক্ষে পর্যাপ্ত হয় নাই। * বাঙ্গালা ভাষ! সংস্কৃত ব্যতীত অন্তান্ট ভাষাবও যথোচিত সাভাষ্য গ্রহণ করিয়াছে। তরঙ্গিণী গিরিবরের জলোৎসে শক্তিসংগ্রহ করিয়া, "তরঙ্গ-রঙ্গে প্রধাবিতা হইলেও, া্বরতী' জলধারায় পরিপৃষ্ট হইয়া থাকে বাঙ্গাল! ভাষাও সংস্কৃত ভাষার অমৃতত-প্রবাহে 'সত্তীবিত শক্তিসম্পন্ন হইলেও অগ্তান্ত ভাষার শব-সম্পাততি ভাবরাশিতে আবেগমরী হইয়াছে। বিদেশী জাতির স্চিত ৫কাঁন দেশের সং্রব ঘটিলে, তাহাদের ভাষা ক্রমে সেই দেশের ভাষান সহিত মিলিত হইতে থাকে। এখন ইংরেজী। সাহিত্যের অসামান্ত প্রভাব। ইংবেজী সাহিত্য এখন পৃথিবীর সমগ্র সভ্য দ্নেশে সাদরে পরিগৃহীত পঠিত হুইয়! থাকে। কিন্তু এই সপ্তাব-সম্পন্ন, সৌন্দধ্যময়, শব-সন্পত্তিশালী, বিশাল সাহিত্য কেবল ঃমাঙ্গ লো-সাক্ষণদিগের ভাষায় উন্নতি লাভ করে নাই. ব্রিটেনে রোমীয়দির্গের আধিপ*্য প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে বিটনদিগের ভায়ার উপর, রোমক সাহিত্য প্রাধান্ত লাভ কাঁরয়াছে। আঙ্গ লো-সাক্ষণ জ!তি

ংলণ্ডে বাস করিলে, ডেন, নর্মান্‌ প্রভৃতি জাতি উপস্থিত হইয়াছে ; ডেন্‌, নর্মান্‌ প্রভৃতির ভাষা* সাক্ষণদিগের ভাষাকে উন্নতির দিকে লইয়। গিয়াছে এইরূপে বিতিন্ন ঙাষার নৌন্দর্যে বিভিন্ন ভাষার ভাবরাশির সমবায়ে যে সাহিত্যের উৎপত্তি হইয়াছে, অহা এখন সমগ্র জগতে অসামান্তি ক্ষমতার পরিচয় দিতেছে। বঙ্গদেশের সহ বিভিন্ন জাতির স্বন্ধ স্থাপিত হওয়াতে, সেই সেই জাতির ভাষার সহিত বাঙ্কাল! ভাষার সম্বন্ধ

্টত

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঘটিযাছে। মুসলমান বাঙ্গালা আধিপত্য স্থাপন করিলে, অনেক মুসল মানী কথা বাঙ্গালা ভাষাব সহিত মিঁশ্ুত হয়। মুসলমানের অধিকাৰ হইতেই ফার্সী ও* উদ সহিত বাঙ্গালার স্বন্ধ, ঘটে। আজ পর্যযস্ত বাঙ্গালা সাহিত্যে ফার্সী কথাগুলি সাধুভাষাব সহিত সংযোজিত হইয়া, মুরশলমানেব পূর্বতন আধিপত্য "ক্ষমভাব পবিচয় দিতেছে কিন্তু মুদলমান ভাবতেব হধিবাজ হইলেও* সাহিত্য-সম্পত্তিত তারৃশ সমৃদ্ধ ছিলেন ্লা। তীহাবা” ইনথ তবৃত্ত বচনায় বৈৰপ পাবধশিতা দেখাইযাছেন, ভাবগর্ভ প্রবন্ধনালা বা বিজ্ঞান প্রভৃতিতে, বোধ হয়, সেরূপ ন্ষমণ দেখাইতে পাবেন 'নাইি।* ধর্মগ্রন্থেব অনুশীলনে দিকেই তাহাদেব সবিশেষ আগ্রহ ছিল। তাহাবা,ধন্ম পাণ জাতি। আপনাদের পবিত্র ধর্থ গ্রন্থ পাঠ কবিতে পাবিলেট, স্বাহীরা শিক্ষাব সার্থকত! হুইল বলিয়া, মনে ক্দিতেন। স্ৃতবাং মুসলমানেব .সাহিট্ট, বাঙ্গালা সাহিতোব উপন তাদৃশ' প্রন্ভাব বিস্তাব কবিতে পারে নাই। কিন্তু খুসলমানেব পব অন্ঠ এক জাঠিব সম্তরবে বাঙ্গাল সাহিত্যেব ষুগান্তব ঘটিফ্লাছে। এই জাতি সামন্ত ভাবে ভাবতের উপকূলে পদার্পণ কবেন, সামান্ত ভাবে ক্র বিক্রয় ক্ষতি-লাভেষ গণনাষ প্রবৃত্ত হয়েন , শেষে আপনাদেব বুদ্িবলে স্কুমতা- গৌববে ভাবতেব বদ্র-সিংহাসনেব অধিকারী হইয়া উঠেন। হান প্রদর্গিত বয়ে, ইহাদের প্রদত্ত শিক্ষায়, ইহাদের অবলস্থিত পবিশুদ্ধ রীতিতে, বাঙ্গালা সাহিত্যেব শ্রীবৃদ্ধি হয়|

ইংরেজ বখন বাঙ্গলায় আধিপত্য স্থাপন কেন, তখন বাঙ্গালী আপনাদের আদিম অকলঙ্ক ববিদ্ব-সম্পত্তিতে পৰিতৃপ্ত থাকিত। তখন ফুঙ্গবার ব্লাবগান্তা গৃঙ্ছ গৃহে গীত হইত, অন্নদাব জরতী-রেশে, বা

প্রতিভা

মালিশীর প্রতি বিদ্যার তিরস্কারে, লোক আমোদিত হইত; মনসার ভাসানে বঙ্গের পর্ণকুটারে লোকাঁরণোর আবির্ভীব ঘটত; কালীকীর্তনের শান্ত-রসাম্পদ, উদাত্ব, ভাবে দরিদ্র পল্লীবাসীকে আঅধর-লোকের অপূর্ব শোভা দেখাইয়া দিত। বঙ্গের পর্বস্বান্ত ঘটিলেও, বাঙ্গুণী অধঃপউনের চরম সীমায় উপনীত হইলেও, আজ পর্য্স্ত এই নকল বিষয়*তাধার অমূল্য র্ন্তর মধ্যে পরিগণিত রহ্িঘনাছে। এখনও চিৎদরিদ্র ব্যক্তি বঙ্গের 'দরিপর কবির বর্ণনায় আনন্দাশ্রংত বক্ষঃস্থল ভাসাইতেছে ; বিষয়াসক্ত ভোগী ক্ষণকালের জন্য বিষয়-বাসনায় বিসক্ঞন দিয়, নিষ্পন্দমভাবে সেই কবিত্ব-ন্ুধা পান করিতেছে এবং সংসার-বিবাগী উদাসীন সেই অপাধিব ভাবে বিমোহিত হইয়া, স্বর্সরাজোব সুহ্ধিত আপনার সম্বন্ধ দুতর করিয়! তুলিতেছে। ধাঙ্গাল! সাহিত্যে পরদ্যের এই রূপ উন্নতি হইলেও গদ্যের অবস্থা উৎক্ ছিল না,। উংরেজের সমাগমের পূর্বে যে গ্য- গ্রন্থের পরিচয় পাওয়া যায়, তাহার রচনীপ্রণালী হৃদয়-গ্রান্থিণী লহে। উহা যেমন উত্কট শবে পরিপূর্ণ, সেইরূপ পূর্ব্বাপর-সন্বন্ধ-বিরহিত,।, ইংরেজের জময়ে বীল্গালায় গদ্যরচনার উৎকর্ষের হুত্রপাত হয়। ইংরেজ স্বয়ং বাঙ্গালায় গদ্যারচনা কবেন। কিরূপে ইতিহাস, বিজ্ঞান প্রভৃতি লিখিতে হয়, কিবপে রচনার বিষয়-স্প্লিবেশ করিতে হয়, কিরূপে রস্থাদি মুদ্রিত করিতে হয়. তাহা! ইংরেজের শিক্ষার দবাঙ্গালীর হদয়ঙ্ষম হয়; বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাসে ইংরেজের এই মহীয়দী ব্বীর্তি অক্ষয় হইয়া থাকিবে ইংরেজের সমাগমে, মৃত্যুগতয়ের শাস্তজ্ঞানে এবং রাম- মোহনের ক্ষমতায় সাহিত্যক্ষেত্রে যে বৃক্ষের উপগম হয়, তায়। বিদ্যাসাগর অক্ষযকুমারের প্রতিভায় ফলপুণ্পে শ্রীসম্পন্ন হয়৷ উঠে। ১২

ঈশ্বরচন্দ্র বিচ্বা।সাগর |

বাঙ্গাল! গদ্য-সাহিত্য পদ্যোর ্থাক় প্রাচীন নহে। প্রায় এক শতাবী হইল, বাঙ্গা্লা্ন মুদ্রিত গদ্যগ্রন্থের প্রচাব হয়। শত বৎসর পূর্বের হেস্তলিখিত 'গগ্য গ্রন্থের” পরিচয় পাওয়া দ্যায় বটে, কিন্ত সাধারুণ্ন “মধ্যে উহার তাদ্বশ প্রচার নাই ফোটউইলিযম কলেজ প্রতিষিত ' এবং মুদ্রা স্থাপিত হইলে, বাঙ্গালায় রামরাম বন প্রতাপাদিঅ-চগিত্র ( ১৮৬১) ) গ্োল্মেকনাথের হিতোপদেশ (১৮০১) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়ের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রচরিত ( ১৮০১) রামুরাম বন্ধুর লিপিমালা (১৪২ )* চণ্তীচবণ মুন্পী-প্রণীত তোতা-ইতিহাস (১৮০৫) প্রভৃতি প্রচারিত হয়। রামবস্থ সংস্কতে পাবুদর্ণা ছিলেন কিনা, বলিতে পারি না) কিন্তু তিনি শ্রস্থরচনায় সংস্কৃতেরু আশ্রয় গ্রহণ করেন নাই 1* বাঙ্গালাভাষার চিরন্তন ব্ীতিও তাহার অবণঘনীয়, হয় নাই। কথিত আছে, তিনি ফার্সীতে পারধর্শী ছিলেন; এজ ্বাকীয় গ্রন্থ পারস্ত-ভাষার প্রাধান্য রক্ষা করিয়াছেন ্রতাপাদিতা-চ়ি প্রকাশের সর" বামবন্থুর লিপিমাল! প্রকাশিত হয়। লিপিমালায়, পত্রচ্ছলে নানা- বিষয়ের প্রয্ুঙ্ম আছে। গদ্যরচ্ুনায় রামবন্ুর ক্ষমতা ছিল না। প্রতাপার্দিতাচরিত্রের গদ্য লিপিমালায় কিছুমাত্র উৎকর্ষ লাভ করে নাই। উভয় গ্রস্থেন্ট রচনাই বাঙ্গাশাভাষার রীতি-বহিভূতি। উহ! যেরূপ, ্রাঞ্জতা-পরিশূন্ত,'সেইূপ লালিত্যহীন।

. ইহার পর ধে গণ্গ্রন্থ প্রচারিত হয়, তাহা সরলভাবে রচনা-ীচিতিতে উন্নতির পরিচয় দিয়াছে রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় কৃষ্চচন্্রচরিত্র লিখিয়া আপনার গঞ্চ-রচনা-চাতুরী দেখাইয়াছেন। যে রচনা! প্রতাপামিত্য- চরিত্রে অধোগতি প্রাপ্ত ককষ্ণচন্্রচবিত্রে তাহা অনেকাংশে উন্নতি লাভ

১৩

প্রতিভ1

করে। উদয় গ্রন্থের লেখকই ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের শিক্ষক ছিলেন। প্রতাপাদিত্যচরিত্র এবং ক্ৃষ্ণচন্ত্রচরিত্র, উভয়ই কেনি সাহেবের প্রস্তাবা” হুসারে প্রণীত প্রকাশিত হইয়াছিল। তোতা ইতিহাস প্রভৃতিতে গণ্- রচনার উৎকর্ষ লক্ষিত হয় নাই] মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার এবং রাজা, রাম- মোহন রায়ের গগ্ভ প্রাঞ্জল এবং লালিত্যগুণ-সম্পন্ন নহে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্ধা- লঙ্কার “রাজাবলি” এবং “প্রবোধচন্দ্রিকা” রচন। করেন। প্রব্ধচন্ত্রিকার ভাব ছুরুষ্চার্য্য উৎকট সংস্কৃত শব এবং অপত্রষ্ট গ্রাম্য কথায় পরিপূর্ণ বিস্তালঙ্কারের অন্ততর গ্রন্থ রাজাবলিতে কলির 4ারস্ত হইতে ইংরেজের অধিকার পধ্যস্ত ভারতবর্ষের রাজ! সম্রাটদ্িগের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণিত হইয়াছে। রাজাবলি প্রবোধচন্দ্রিকার "চারি বৎসর পূর্বে প্রকাশিত হয়। কিন্ত রাজাবলির ভাষা অনেকাংশে প্রসাদগুণ-বিশিষ্ট। মহাত্ম' রাজা রামমোহন রায়, বিস্তালঙ্কারের প্রবোধচন্দ্রিকা প্রকাশের সাত, বৎসর পরে বেদাস্ত গ্রন্থ (ব্যাস সৃত্রের ব্যাধ্য। ) প্রকাশ করেন। ভাহার ক্ষমতায় বাঙ্গালা গন্ত অনেকাংশে পরিমার্জিত হয়। কিন্তু উহাও তাদৃশ প্রসীদি- ' গুণশালী ললিত-শব্দাবলীতে শ্রুতিম্ধুর হয় নাই। ডাক্তার্ন কৃষ্ণ মোহন বন্য্যোপাধ্যায় ইতিহাস, জীবনচরিত, ভূগোল, জ্যামিতি প্রভৃতি নানাগ্রন্থ প্রকাশ করেন। এই গ্রন্থাবলীর সাধারএ নাম বিষ্তাকপ্পক্রম। বিষ্যাকন্প- ক্রমের ভাষা রচনাবৈচিত্রের সমাবেশেও শ্রুতি-সুখকর হয় নাই। বিষ্তাসাথর বক্ষয়কুমারের প্রতিভাতেই বাঙ্গালা গস্ভ যেরূপ কোমল মধুর, সেইক্ধপ ওজন্বী হইয়া উঠে। বিদ্যাসাগরের শ্রস্ত প্রাঞ্জলভাবের শীধুর্ধ্যগুণের দৃষ্টান্ত স্থল।

ভাগীত্রণী যেমন হিমগিরির যতীর্ণ কন্দর “ইইতে নির্গত হইয়া, ক্রমে

১৪

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর |

স্বকীয় ভাব বিসর্জন দিয়াছে এবং বহু জ্বদপদ অতিক্রম পূর্বাক শেষে শতুখী হইয়া, সাগরসন্রম লাভ করিয়াছে, বাঙ্গাল! গণ্ভরচনাও সেইরপ হীর্ণ ভাবত্রোতত হইতে উতৎপর*্হইয়া, মৃত্াঞ্জয় কামমোহন গপ্রভৃতির প্রতিভাষ়ু স্বকীয় সঙ্কীর্ণতা পরিত্যাগ কবিয়াছে এবং বহু অবস্থা অতিক্রম পূর্বক বহুবিধ বিষে বিভক্ত হইয়া, শেষে বদ্বাসাগরেব সঙ্গমলাভে সমর্থ হইয়াছে *ভাগীরঘীব সুগর-সঙ্গমন্থল যেমন মহাতীর্থ হইয়া, শত শত তীর্ঘযাত্রীকে পাবিব্রভাবে পবিপুর্ণ করিতেছে, বাগাা গগ্ঠরচনাব বিদ্বাসাগ্নব- দঙ্গমও সেইবপ সাহি্রুদুসেবক্ষদিগের মহাতীর্থস্ববপ হইয়া, তাহাদিগকে বিশুদ্ধভাবে পুলকিত কবিষা খুলিতেছে। যে বচন! এক্ত সময়ে উৎকট, র্ববোধ পূর্ববাপর-্বন্বশূন্ত ছিল, রাহা! বিদ্যাসাগরের গুণে সংস্কৃত হয়, এবং বিদ্তাসাগবেব শক্তিতে শক্তি-সম্পন্ন হইয়া, সাহিত্যক্ষেত্ে অন্ত মহিমাব পৰিচয় দিতে থাকে। বিষ্তাসাগণ বাঙ্গালা লাচিত্যের পিতা না হইলেও ক্গেহমরী মাতাব ন্তায় উহ্বাব পুষ্টিকর্তা মৌর্য বিধাতা। ঠাহাব যদ্ধে গগ্-সাহিত্যেব উন্নতি, পরিপুষ্টি ,সৌনদ্ধ্য সাধিত হয় দশভুজা! দুর্গীব প্রতিমার খড় বাশ দড়িব উপব সামান্ত মাটির কাজ হইযাছিল। তিনি মাটি যথাস্থানে বিন্তস্ত করেন, এখং মৃত্তিকামবী মুস্তি নাল্সাবর্ণে সুরঞ্জিত বিচি বেশে সঞ্জিত করিয়া," দেঘ-মগুপ প্সম্পন্ন' করিয়! তুলেন। এক সময়ে উচ্চশ্রেণীব বিদ্যালয়ে পপুরুষপরীক্ষা”” *প্রবোধচক্রিকাব” অধ্যাপন! হইত। কিন্ত উদ্তকট শৃ্ধাবলীব জন্ত উহাও অটুশ প্রীতিগ্রদ হইয়া উঠে নাই। উহ্বার-_ “মলয়াচলানিল উচ্ছলচ্ছীকর়াত্যচ্ছনিঝ রাস্তকে ণাচ্ছন্ন হইয়া আসিভেছে”,-. এইরূপ বিভীধিঝ্বুু্ী ভাবাঁয় বোধ হর, পাঠার্থীদিগকে শীত-সঙুচিত বৃদ্ধ

প্রতিভা

তায় সর্বদ! সশঞ্ধ থাকিক্তে হইত বিদ্াসাগর এই উৎকট ভাবের ংশোধন করেন তাহার মহাভারত বেতান্পঞ্চবিংশতিতে যেরূপ ওজন্িত শব্ধঞ্রয়োগ-বৈচিত্র দেখা যায়, তাহার সীত্বর বন্বাসে শকুন্তলা সেইরূপ ললিতপদবিস্তাসের সহিত অসাগান্ত মাধুর্যযু লক্ষিত হয়। জীতার বনবাস শকুস্তলা, গগ্ভরচনায় তাহার অপামান্ত ক্ষমতার নিদশনস্থল। তিনি বালক বালিকাগ্রিগের শিক্ষার জন্য অনেক গ্রন্থ লিখিয়। গিয়াছেন। প্রতি গ্রন্থই তাহার অসাধারণ রচনাচাতৃরী শব্বমাধুবীর জন্য প্রসিদ্ধ হইয়াছে ন্তিনি,এলুস্কত ইংরেজী গ্রন্থ হইতে বিষয় সংগ্রহ করিয়াছেন বটে, কিন্ত তাহার ভাষা তীয় অদ্বিতীয় সম্পত্তি।, উহ] প্রসন্নসিলা গাহুবীর জণ-প্রবাহের স্তান় নিয় তই জীবনতোষিণী। বিগ্ভাসাগর মহাশয় কেবল ভাষার শি সাধন করিয়াই নিরন্ত হয়েন নাই) স্বপ্লায়াসে ুগণালাক্রমে ভাবা- শিক্ষারও সহুপায় করিয়া! গরিক্লাছেন। শিক্ষার বিস্তারে তিনি আজীবন যত্বশীল ছিলেন! , অংশে বালক, বালিকা, প্রৌঢ়, কেহই তাহার নিকটে ' উপেক্গণীয় ছিল না। তাহার বন্দে'বুস্তের গুণে এই মহানগরীরধ্বীটন- বািকাবিগ্ভালয়ের কাধ্য প্রথমে স্থনিয়মে সম্পন্ন হয়, তাহার বত্রাতিশয়ে ভিন্ন তিম্ন জেলায় অনেকগুলি বার্সিকা বিদ্যালয় «প্রতিষিত হর, তাহার ্রস্তাবক্রমে নন্দীল বিদ্ধাুয্ের সৃষ্টি হয়। বালিকাদিগের পাঠোপযোগী গ্রন্থনা থাকাভে তিনি বর্ণপরিচয় প্রভৃতি পুস্তকসমূহের প্রচার করেন। স্কতশিক্ষার্থীরা ব্যাকরণ অমরকোষ অভিধান পড়িয়া, কাব্যপাঠে প্রবৃত্ত হইত এক ব্যাকরণপাঠেই তাহাদের অনেক সময় যাইত। এজন্ত বিস্কায়ীখার মহাশন্ন উপরক্রমণিকাপ্রভৃতির প্রণদ্ন খদ্ুপাঠ প্রভৃতির ৯১৪

ঈপ্বরচন্দ্র 1বছাসাগর |

প্রচার করিয়া, সংস্কৃত শিক্ষার পথ গম করিয়া দেন। এইরূপে শিক্ষা- সংক্রান্ত গ্রতোক কার্যেই তাহার অসামান্ব যত্বের পরিচয় পাওয়া যাঁয়। এই কার্যে তিনি প্রভৃত অর্থব্যয়েও কুষ্ঠিত হয়েন নাই

জাতীয় সাহিত্যের উন্নতিসাধন-_জাতীয় ভাষার * শ্রীবৃদ্ধিদম্পাদনের সহিত ,ব্িদ্পসাগর মহাশয় জাতীয় পরিচ্ছুদ জাতীয় ভাবের একাস্ত পক্ষপাতী ছিলেন। বাঙ্গালার লেফটেনেণ্ট গবর্ণর হইতে উচ্চশ্রেণীর বাজপুরুষগঞ্জের সহিত ত্তা্থান সবিশেষ “পরিচয় ছিল। সকলেই তীহার আদর করিতেন; সকলেই তাঁহার প্রতি সম্মান দেখাইতেন; সকলেই কোনও রূপ জটিল বিষঞ্চেবু মীমাংসার জন্য তাহার পরামর্শগ্রহাণে উদ্যত হইতেন। তিনি এই প্রধান রাজপুকষগণের নিকটে, ধুতি চাদর ভিন্ন অন্থ পরিচ্ছদে যাইতেন না। ইংরেছী ভাষায় তাহীরু অভিজ্ঞতা ছিল। ইংরেজ গ্রস্থ পাঠে তিনি আম্োঁদিত হইতেন। স্বয়ং সামান্য বেশে থাকিয়া, তিনি মূল্যবান্‌ ইংরেজী গ্রন্থ গুগ্িকে বিচিত্র বেশে সজ্জিত করিয়া, ধত্বসহকারে স্বকীয় পুস্তকালয়ে রাখিয়া দিতেন। কিস্ত“তিনি ইংরেজী রীতীর অন্বর্তা হয়েন নাই; ইংরেজী ভাবে পরিচালিত*হইয়া উঠেন নাই ১*ইংরেজী প্রথার অন্থুকরণে আপনাদের জাতীয় প্রথায় বিসঞ্জন দেন নাই। তাহার আবাসগ্ৃহের বৈঠকখানায় ফরাসের পরিবর্তে চেয়ার টেবিল প্রভৃতি ছিল্জ বটে, কিন্তু উহা! তাহার ইংরেজী ভাবানুরাগের . পরিচয় ন! দিয়া, তীয় অসামান্ঠ শ্রমশীলত1 $ কার্ধযক্ষমতারই পরিচয় দিত। এখন আমাদের এমনই বিলাসিতা ,শ্রম-বিরাগ ঘটিয়াছেঞযে, আমরা প্রায় সকল সময়েই 'ফরাসের উপর তাকিয়৷ ঠেস দিয়া, আপনা- দিকে লন্বোদরে পরিণত করিতে ঘত্রশীল হই। কিন্তু বিগ্যাসাগর মহাশক্র

৯৭

প্রতিভা

রন্নপ বিলাসী শ্রমবিমুখ ছিলেন না$। তিনি সমভাবে চেয়ারের উপর বসিয়া সর্ধদ] কার্ষে নিবিষ্ট ধঁকিতেন। এই জ্বন্তই বলিতেছি যে, চেয়ার প্রভৃতি তাহাব শ্রমশীলতা কাধ্যক্ষমতারই পরিচয়স্থল ছিল। ফলত; তিনি জাতীয় ভাবেন মর্যযাদা-রক্ষায় সচেষ্ট ছিলেন। পাশ্মত্যভাবে শিক্ষা হইলে ব1 রাজদ্বারে কিয়দংশে . প্রতিপত্তি ঘটিলে, এখন আমাদের মধ্যে অনেকে জাতীয় ভাঁবে বিসর্জন দিয়, বিজাতীয় ভাবেরই পরিপোষক হইয়া উঠেন। তাগরা আর্পনাদের অহঙ্কারে আপনারাই ন্দীত হইয়া, আপনাদের কার্যে আপনার্দিগকেই গৌরবান্বিত মনে করিয়া, সংসাবক্ষেত্রে বিচরণ করিয়া থাকেন। তাহাদের হিতৈফ্তা খ্ঁকিতে পারে, ভূযোদর্শন থাকিতে পারে, 'কার্ধাপটুতা থাকিতে পাবে, কিন্তু একমাত্র বৈষম্যবুদ্ধির বিপত্তিপূর্ণ তরঙ্গাঘাতে ৎসগুদায়ই* বিজাতীয় ভাবের অতল সাগরে নিমজ্জিত হইস়্া যাঁয়। বিদ্যাসাগর মহাশয় ইহাদের-_-এই পরমুখ প্রক্ষী, পরানুগ্রহপ্রার্থী, শিক্ষিত পুরুষগণেরও শিক্ষার স্থল। তিনি ধুতি চাদর পরিয়া, পূর্বতন লেফটেনেপ্ট গবর্ণব হালিডে সাহেব, বীডন সাহেব প্রভৃতির সহিত দেখ! করিতে বাইতেন। কথিত আছে,_বীডন সাহৈৰ ' ৰিস্তাসাগর মহাশয়ের ধুতি চাদর দেখিয়া, সময়ে সময়ে বিরক্ত হই€তন। একদা গ্রীষ্মকালে বিস্তাসাগর মহাশয় লেফটেনেণ্ট গবর্ণরের সহিত দেখা করিতে গিয়া দেখেন যব, বীডন সাছেবে শ্রীম্মাতিশয্যে টিলে পাজামা পাতলা কামিজ পরধিয়া রহিয়াছেন। তিনি বিগ্তায়াগর মহাশয়কে দেখিয়া বলিয্না উঠিলেন,-_“এখনু ইচ্ছ। হয়, তোমাদের গ্তায় পরিচ্ছদ পরিধান করি।” বিদ্তাসাগর মহাশয় গম্ভীরভাবে উত্তর করিল্েন,_-“তাহাই কেন করুন ন11”» উত্তর গুনিয়। লেফটেনেন্ট গবর্ণর বলিলেন,_-“ওরূপ ৯৮

ঈশ্লারচন্দ্র বিদ্যা সাগক় 1

পন্ধিচ্ছদ পরিধান করা! আমাদের বিরুদ্ধ--দেশামার-বিরু্ধ কাজ কেমন করিয়া করি।' এবার গর স্তৃহাশয়ের তেজস্থিতার সহিত অপূর্ধ্ব অভিমানের আরির্ভাব হইল। স্বদেশীয় ভাবের প্রীধান্ত-রক্ষার অন্ত পুরুষসিংঢ, লেক্কটেনেশ্ট গণধর্ণরকে অঙ্্রানব্দনে কহিলেন,__ "আপনাদের বেলা দনেশাচার প্রর্বল-আর আমাদের ,বেলা কিছুই নয়; আপনার এরূপ মর্নে করেন কেন?” * জাতীয়গৌরব-রক্ষার্থ মহাপুরুষ বঙ্গের শাসনকর্তীর সমক্ষে এইরপু স্বাধীনভাবের পাঁরচয় দিয়াছিলেন। এইরূপ স্বাধীনভাবের বলেই তাহাব মহত্ব অক্ষুণ্ন, তীহাব সম্মান অব্যাহত, সাহার প্রীধান্ত অপ্রতিহত থাকত *পাশ্গত্য ভাবের প্রবাহে যে দেশ প্লাবিত হইয়াছে-_পাশ্চাত্য রীতি নীতির অপরুষ্ট ছায়া যে দ্রেশের স্তরে স্তরে প্রবেশ করিয্লাছে-_-পরাহ্গত্যে, পর-পরিতুষ্টির আগ্রহে ধেঁ দেশ ক্রমে অন্তঃসারশ্ন্য হইয়া পড়িয্বাছে, সেই দেশেব এক জন ব্রাঙ্গণ যেক্প স্বাধীন ভাবে, যেবপ তেজন্থিতা-সহকাত্য, প্রধান রাজপুরুষগণেরও সমক্ষে জাতীয় ভাবের সম্মান রক্ষা কবিয়াছিলেন, সেই স্বাধীন ভাব তেজন্বিতার কথা, চিরকাল এই শোচনী়ভাবাপন্ন তৃথ?ওর শোচনীয় দশাগ্রপ্ত ভীবদিগকে উপদেশ দিবে ।,

বিদ্ভাসাগব মহাশয় সমাঁজ-সংস্কাবেব চেষ্টা কবিয়াছেন। বিধবাবিকাহ বনুবিবাহের আন্দোলনে তাহার এই চেষ্টার পরিচয় পাওয়! "মায়। বিধবাবিবাহের সমস্থ অনেক মতভেদ আছে। রাজকীয় বিধির বলে

* এই গল্পটি শ্রীতুক্ত বাবু র্রনারায়ণ বহ্ধর “নেকাল আর একাল" হইতে উদ্ধত হইয়াছে লিখনভঙ্গীতে ঘোধ হয়, রাজনারায়ণ বাধু বিদাসাগর মফাপরকে লঙ্গা করিয়াই গল্পটি লিখিয়াছেম।

৯০১

প্রতিভা

বনুবিবাহরোধের চেষ্টা করাতে বিরুদ্ধ মত প্রকাশিত হইয়াছে। কিন্তু বিষ্তাসাগর মহাশয়ের জ্তসামান্ত দয়াই তাহাকে এই কার্যে প্রবস্তিত করিয়াছিল। বিষ্ভাসাগর দয়ার সাগর ছিলেন করুণার মোহিনী মাধুরীতে তাহার হৃদয় নিরস্তর পরিপূর্ণ থাকিত। কাহারও «নিদারুণ হুংখ দেখিলে, বা কাহারও অসহৃনীয কষ্টের কথা শুনিলে, তিনি যুতনায় অধীর হইতেন। তখন তাহার উজ্জল চক্ষু দুইটি উজ্জ্বলতর হইত, এবং তাহা হইতে মুক্তাফলসদৃশ অশ্ববিনদু নির্গত, হইরা, গগুযৃদশ প্লাবিত করিত। কিন্তু অশ্বপ্রবাহের সহিত তাহার হৃদয়-নিহিত বাতনার অবসান হইত না। তিনি যতক্ষণ ঘঃঘীর ছুঃখমোচন করিবক্ধ না পারিতেন, ততক্ষণ স্থির থাকিতে পাল্লিতেন না এইরূপ দয়াশীল পুকষের কোমল হৃদয়, অনাথ! বাল-বিধবা পতিবিচ্ছেদ-বিধুরী কুলকামিনীদিগের হুর্দশায় সহজেই বিচলিত হইয়াছিল বিদ্ভাসাগর মহাশয় এই অভাগিনীদেব ঢঃখমেচনে বদ্ধপরিকর হইলেও, উচ্ছ্ঘপত 'প্রকাশ করেন নাই। তিনি বিষয়ে শীন্তের শরণাপর হইয়াছিলেন, এবং স্বয়ং যে ভাবে শাস্ত্র বুঝিয়াছেন সেই ভাবেই সাঁধাররণকে বুঝাইতে চেষ্টা করিয়াছিলেন। ইহাতে তীঁহীর সরলতার সম্যক পরিচয় পাওয়া যায়৷ তাহার বিধবাবিবাহবিষর্মফ বন্ুবিবাহসন্বন্কীয় পুশ্তক, তদীয় অসামান্য গবেষণা, পাশ্ডিত্য বিচার- নৈপুণ্যের পরিচয়স্থল ; এই ছুই গ্রন্থ* লিখিবার সম্ষে তাহাকে বিস্তার হস্তলিখিত পু'থির আস্োপুন্ত পাঠ করিতে হইয়াছিল। বিধবাবিবাহ- বিষয়ক গ্রন্থের রচনাসময়ে তিনি যেরূপ অসাধারণ অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়াছেন, তাহা গুনিলে বিস্মিত হইতে হয়। সংস্কৃত পুঁধির পাঠোন্ধার উহার অর্থসঙ্গতি কন্ধিতে, তাহাকে বিস্তর পরিশ্রম কারিতে হইত। তিনি স্ব

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্ত।স।গর

স্কৃত কলেজে পুস্তকালষে বসিয়া, শাস্ত্রেব বচন সংগ্রহ কবিতেন, এবং উহাব অর্থ লিখিতেন। কথিত আছে, একদিন অনেক ভাবিয়াও কোন বচনেব নর্থ সংগ্রহ ণকরিতে পাবিলেন না দিকে সন্ধ্যা অতীত হইল। অগত্য। লেগায নিবস্ত "ইয়া, ভাবিতে ভাবি বাসগ্বহে চলিলেন। কি়দ্ূ,ব গেলে সঁহস! তাহাব মুখমগুডল প্রসন্ন হইল। অন্ধকারময় স্থানে পবিভ্রমণ সনয়ে, পথিক সহসা হুর্ধোব আলোক পাইলে, যেরূপ রুম তয়, তিনিও পূর্বোক্ত বচন্দে অর্থপরিগ্রহ কবিষা, সেইবপ প্রফুল্ল 'হইলেন। আব তাহাব বাসায় যাওযা হইল না তিনি পুনর্বধাব প্রফুল্লভাবে কলেজে পুস্তকালষে যাইযা লিখিত বসিলেন। লিখিতে লিখিতে বাত্রি শেষ হইয়া গ্রেল। বিষ্ভাসাগব মহাশয় হিন্দুবিধবাব ছুঃখদগ্রি জদয়ে শান্তিসলিল প্রক্ষেপেব জন্ত এইন্ধপ অধ্যবসাধেব সহিত শান্্-সিদ্-মস্ীনে উদ্যত ভইয়া- ছিলেন। সে সমযে তাহার এয সামান্ত ছিল। তথাপি তিনি এজন্ অবিকাবচিত্তে চব্বহ খণভাব বহন ধ্বিষাছিলেন। তালার চেষ্টা সর্বাংশে সফল এবং ্টাহাব মত সমাজে সর্বত্র পবিগৃহীত না তইলেও, কেই তাহাব অধ্যবসাষ, দানশীলতা স্থার্থত্যাগেব্‌ প্রশংসাবাদে বিমুখ হইবেন না। বিগ্কাসাগব মহাশয় বখন বিধবাবিবাহ্‌ প্রচলিত কবিবাব জন্ত 'শান্ত্রীষ বিচাবে প্রবৃত্ত হ্েন, তখন তিনি পবমাবাগ্য পিতা স্নেহমপী মাঁতাব অন্থমতি গ্রহণ কবিয়াছিলেন। মাতাপিতা৷ তাহাব নিকটে প্রত্যক্ষ- দেবতা-ম্ববপ ছিলেন। পিতাব অমতে বা মাতাব বিনান্ুমতিন্ত তিনি কখনও কোন কাধে হপ্তক্ষেপ করিতেন না। মাতাপিতাব প্রতি তাহাব এইবপ অসাধাব্ণ ভক্তি ছিল। কথিত আছে, কোনও বালিকাব ২১

প্রতিভা।

ইবধব্য দেখিয়া তাহার মাতা সজলনয়নে ' বিধবাবিবাহ শান্তরসিন্ধ কিন বিচার করিতে বলেন। পিতা নিকটে উপবিষ্ট ছিলেন, তিনিও বিষয়ে অনুমোদন করেন বিদ্যাসাগর মহাশয়ের দৃছ্ধ বিশ্বাস ছিল যে, বিধবাবিবাহ্র বিচারেগ্রবৃত্ত হইলে, শীস্্র কখনও উহার বি্লোধী হইবে না। কিন্ত চিন্তন অঙুশাসন চ্রপ্রচলিত রীতির বির্ধ কোনও. কৃথা বলিলে, পাছে তক্তিভাজন জনকজননী মনঃকষুপ্ন হয়েন, এই জন্ত তিনি উহাতে হইন্তক্ষেপ করেন নাই .শেয়ে মাতাপিতার সম্মতিদর্শনে? তাহার আগ্রহ অধ্যবসায়ের সর হয় 1 তিনি বিধবার বৈধব্যদূংখ দুর করিতে প্রতিজ্ঞ হইয়া উঠেন। তিনি এই প্রসঙ্গে, একু*দিন দৃঢ়তার সহিত কহিয়াছিলেন,_“মাত্ুপিতার অনুমতি না পাইলে, আমি .কখনও একট কা্যে উদ্যত ৬ইতাম না) অন্ততঃ তার! যতদিন জীবিত থাকিতেন, ততদ্দিন বিষয়ে নিরস্ত থাকিতাম।” পরমাত্মনিষ্ঠ সাধক যেমন আপন্বার সাধনায় পিদ্ধিলাভের জন্য, তগগতচিত্তে বরণীয় দেবতার অনুমতি অনুগ্রহ প্রার্থন৷ করেন, তিনিও সেইরপ প্রত্যেক বিষয়ে পরমদেবতান্বরূপ মাতাপিতার সম্ণ্তির্‌ প্রতীক্ষায় থাকিতেন। এখন আমাদের সমাজে যাহাদের শিক্ষাভিমান জদ্ষিয়াছে, প্রচলিত, রীতিনীতির বিরুদ্ধবাদী হইয়া, ধাহারা* জলদগস্ভীর স্বরে “সংস্কার, সংস্কার” বলিয়া চারি দিক কম্পিত করিয়া তুলিঙেছেন, তাহাদিগঞ্রে অনেক সর্ময়ে জনকজনন্ট্রর যুখের দিকে দ্ৃকৃূপাত করিতে দেখা বায় নুু। কঠোর কর্তব্যপালনের দোহাই দিয়া, তাহারা জবপীলাক্রমে অসন্কুচিতচিন্তে মাতাপিতার ধুকে শেগ হানিয়। থাকেন। পিতা একাস্তে বনিক! নয়নজলে গগুদেশ, প্লাবিত করিতেছেন মাতা ছুঃসহু ছুঃখে অভিভূতা হইয়াছেন, নিদারণ শোকান্সি তুযানলের ২২

ঈশ্বরচত্দ্র বিদ্ধা।

গায় অলক্ষ্যভাবে তাহাদের 'দয়েব প্রতিস্তরে প্রতিমুহূর্তে প্রসাঁঈ হইতেছে, শিক্ষিতাভিমানী পুত্র কিন্তু ' কঠোরবর্তবাপালনে কিছুতেই নিরস্ত নহেন। পুত্রের এই কঠোব কর্তবাপালনপ্রতিজ্ঞায় এখন অনেক গলে পিতা শোকষীশল্যের অভিঘাতে মন্দ্রাহত হইত্রেছেন, মাত লীত্তিবর অবলম্ব, স্নেহের পুত্বলী তন হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া, হাহাকার শিরে কবাঘাত করিতেছেন। কিন্তু মহাত্মা বিস্তাসাগর, মহোদয় পিতৃভক্ষিতে পবিভ্রভব-_মাতৃসেবাক্ধ মহ হইতে মহত্ব ছিলেন। তিনি অবলীলাক্রমে সর্বস্ব বিসঙ্জন কবিতে পাবিতেন, পৃথিবীতে যাহ কিছু স্থুখপ্রদ--যাহাঁ কিছু মনোমদ--যাহা কিছু গ্রীতিপ্রদ, তৎসমুদয়েই উপেক্ষা দেখাইতে পাবিতেন ) বাজাধিবাজেব শানাবত্বসমাকীর্ণ দেব- বাঞ্ছনীয় সিংহাসনেও পদাঘাত 'কবিতে পাবিতের 3 কিন্তু মাতাপিতাকে দুঃখাভিভূত কবিতে পাঁরিতেন নী। মাতার নরনজলের, সমক্ষে তিনি সমস্ত তুচ্ছ জ্ঞান কবিতেন। একবার তিনি আপন পোষ্যবর্গের ,জীবনরক্ষাব অদ্বিতীন্ন অবনন্বন্ববপ চাকবি পরিত্যাগে উদ্যত হইয়াছিলেন, তথাপি মাতীকে হুঃখসাগবে নিক্ষেপ কবিতে সম্মত কয়েন নাই বভব্যয়ে তিনি মাতাপিতাৰ উৎকৃষ্ট চিন্ন প্রস্বত করাঈয়াছিলেন। তীহাদেব দেহাত্যয় ঘটিলে, অনেক সময়ে তিনি সেই প্রতিকৃতির সম্মথে বসিয়া অশ্রপাত করিজতন; পবমভক্ত পুরুসিংহ, এইক্সপে সেই "পরমণ্ডর জনক, সেই স্বর্গাদপি গরীক্সী জননীর অন্পপম স্নেহ মহীয়সী প্রীতির ধ্যানে নিবিষ্ট থাকিতেন; এবং পবিত্র শোকাশ্রুতে তাঁহাদের পবপ্গেকিগত আত্মার তৃতপ্তিসাধন করিতেন বাহানা এখন শিক্ষাভিমানে আন্ষ/লন করিয়া বেড়াইতেছেন, মহাঁপুরুষের মাতাপিতার প্রতি এইরূপ ভক্তি তাহাদের

২৩

প্রতিভ। |

উপেক্ষার বিষয় নহে। বিগ্যাসাগর মহা প্রত্যেক বিষয়ে মাতাঁপিতার প্রতি যেরূপ ভক্তি শ্রদ্ধা প্রকাগ করিতেন, এবং তাহাদের মতাবলম্ী হইয়া চলিতেন, সেইরূপ সামজিক প্রথাব সংস্কারে হু্ান্ুসুক্মারূপে শাস্ত্রীয় বিধির প্রচানরে প্রবৃত্ত হইতেন। সমাজহিতৈষী সংস্কারকগণ যখন সহরাস- সম্মতির বিধানে আহুলাদে উৎফুল্ল হইুপ্নাছিলেন, তখন বিষ্ঠাসাগর মহ্থাশয় তীহাদের পক্ষসমর্থন করেন নাই। সকল বিষয়ে তিনি শাস্ত্রের অর্থ যেরূপ বুঝিতেন, তদগ্ুসারেই চলিতেন£

- বিগ্বাসাগর মহাশয় দীন ছুঃখী অনাথদিগের অদ্বিতীয় আশ্রয়স্থল ছিলেন। তিনি দয়ার সাগর; দান তাহার চিরম্তব্ষ* ধর্ম চিরপবিভ্র কর্মের মধ্যে পরিগণিত ছিল তীহার গ্রস্থাবলী কৃতী পুক্রের স্ায় ্রাহাকে প্রচুর অর্থ আনিয়া দিত তিনি উহা অধিকাংশ পব-পোষণে পরছুখে- মোচনে ব্যয় করিতেন। গরীব দুঃখীর! “কেবল প্রত্যহ তাহার দ্বারে উপস্থিত ইয়া, দান গ্রহণ করিত* না। অনেকে তাহার নিকটে মাসে মাসে আপনাদের ভরণপোষণের জন্য অর্থ পাইত। তিনি প্রাত্যহিক, মাসিক, নৈমিত্তিক দুনে হৃদয়-নিহিত দয়ার তৃপ্তিসাধন কর্িতেন। বিষয়ে হার নিকটে জাতিভেদ ছিল না, শ্রেণী ভেদ ছিল না, সম্প্রদধায়- ভেদ ছিল না। তিনি সকলেরই ন্ষেহময়ী ধাত্রী, গ্রীতিভাজন পরিজন এবং বিশ্বপ্রেমময়ী জননীর তুল্য ছিলেন। ' যেখানে উঞ্জয়হীন রোগার্ড ব্যক্তি ছুরন্ত রোগের ছুঃসহ যাতনায় কাঁতরতা প্রকাশ করিত, সেই খানেই তিনি তাহার রোগ-শাত্তির জন্ত অগ্রসর হইতেন ; যেখানে নিঃস্ব নিঃসম্বল লোকে গ্রাসাচ্ছাদনের অভাবে কষ্টের একশেষ ভোগ করিত, এবং এই রোগশোকছুঃখময় সংসারে শোচনীয় দারিদ্র্যভাবে আপনাবের

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর |

অনন্ত যাতনার পরিচয় দিত, টসইখান্টে তিনি তাহাদের ছুঃখমোচনে উদ্ভত হইতেন ? যেখানে অভাগিনী অনাথা শোকের প্রতিমৃতিস্বরূপ নির্জন পর্ণকুটীরে নীরবে বসি গ্রাকিত এবং হৃদয়ের প্রচঈ হতাশন নিবাইৰার জন্থই,ঘ্েন নিরগুর নয়নসলিলে বক্ষোদেশ ভাসাইয়। দিত, ' সেইখানেই তিনি তাহাব কষ্ট দূব করিবার জন্য ষড়্েব পরাকাষ্ঠা দেখাইতেন। সন্থাস্ত ব্রাহ্মণ হইতে অরণ্যবিহুরী অসভ্য সাওতাল পর্যন্ত সকলেই এইরূপ তাহাব অসীম করুণায় শান্তি লাভ করিত। ধেঁ পাপগন্কে ডুবিয়। শ্বজনত্রষ্ট ও' সমাজচ্যুত হইয়াছে।*সমান্লের অত্যাচারেই হউক, পবের প্রলোভনেই হউক আুস্মসংযমের অভাবেই হউক, যে সহায়শূন্য হইয়া ছত্তব ছুঃখসাগরে পা বেড়াইতেছে, তিনি তাগগপ প্রতিও কবগাপরকাণে সন্ছুচিত হইতেন

দেখিয়া, সু রর টপ সন্কুচিত রণ অগ্গ িঃ দিয়া চলিয়া গিয়াছে, তিনি পবিত্র ভাবে তাহাদিগকে পবিত্র পদার্থের স্তায় তু্িয়া, শাস্তির অমৃতময় ক্রোড়ে স্থাপিত কবিতেন। নম্রাট, শাহ আলম যখন সিংহাসন হইতে অপসারিত $য়েন এবং বুদ্ধ অন্ধ ও, অধ:- পতনের চরম সীমায় পতিত হইক্সা, পর প্রদত্ত অর্থে জীবিকা নিববৃহ করিতে থাকেন, তখন ভিনি করুগরসপুর্ণ কবিতায় এই বলিয়া আপনার চিত্ত- বিনোদ করিতেন,_-“ছুর্দশার প্রবল ঝটিকাঁ আমাকে পরাস্ঠৃত করিয়াছে। উহা! আমার সমস্ত গৌরুধ অনন্ত বাযুরাশির মধ্যে বিক্ষিপ্ত করিয়াছে, এবং আমার রত্বসিংহাসনও দুরে ফেলিয়া দিয়াছে গাঢ় অন্ধকারে নিমগ্ন হইলেও খথন আমি পদ্রভাবে পবিত্র সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের দয়ায়

২৫

প্রতিতা।

উজ্জ্বল হইয়া, এই কষ্ট, এই অন্ধকারমর্ স্থান হইতে উঠিতে পারিব।৮ দয়ার সাগর বিগ্যাসাগরণ্ড সকল নিরুপায় ছুঃখীদিগকে দরিদ্রভাবে পবিত্র বলিয়াই জ্ঞান করিতেন। কথিত আছে, একদা তিনি প্রাতঃকালে ভ্রমণ করিতে করিতে এই নগরের প্রান্তভাগ অতিক্রম করিয়া কির়্র গিয়াছেন, সহস! দেখিলেন, একটি বৃদ্ধা অতিসার রোগে আক্রান্ত হইয়া, পথের পার্থ পড়িয়া! রহিয়াছে 3 * দেখিয়াই তিনি, মললিপ্ত বৃদ্ধাকে পরম যত্বে ক্রোড়ে করিয়া আনিলেন, এবং তাহার যথোচিত চিকিৎসা করাইলেন। দরিদ্রা বৃদ্ধা তাঁহার যত্ধে আরোগ্য ঞ্লাভ করিল। যত দিন সেজীবিত ছিল; তত দিন তাহার গ্রাসাচ্ছাদনের কষ্ট হয় নাই। খিষ্াসাগর মহাশয় প্রতিমাসে অর্থ দিয় তাহার সাহায্য করিতেন। * বিস্তাসাগর মহাশয়ের এক জন বিশ্বন্ত কর্মচারী, তাহার অসাম দ্য়াসঘন্ধে নিমনীলিখিত গল্পটি “দৈবিক” পত্রে প্রকাশ করেন £__

এক দিন বিদ্যাসাগর মহাশয় উক্ত কর্মচারীকে ০৫ দেখ, কলুটোলার অমুক গুলির অমুক নম্বর বাড়ীতে এই 'নামে এক জন মা্রাজবাসী আছেন। জানিয়াছি, তিনি অর্থাভাবে সাতিশয় কষ্ট পাইতে- ছেন।, অতএব তুমি তথায় গিয়া সবিশেষ সংবাদ লইয়৷ আইস ।% বিগ্তাসাগর মহাশয়ের আদেশ্সে কর্মচারী নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত হইয়া, প্রথমে গৃহস্থানীর দেখ! পাইলেন। তাহার নিকটে উত্ত মা্রাজবাসীর নামোলেখ করাতে তিনি বলিলেন,-_“ত্বী! আমার এই বাটার নিয়উলস্থ গৃহে তিনি সপরিবারে বাম করেন। আমি তীহারু নিকটে ছয় মাসের ৯. এইরগ গল্পগুলি স্ীবনী, ইয়ান নেশন, এডুকেশন গেজেট প্রভৃতি হইতে বংগৃহীত হইছে

ঈশ্বর বিছ্বাসাগর |

ভাড়া ৩০ টাকা পহিব। তিনি "উহা দিত পারতেন, না। তাহাকে ভাড়া পরিশোধ করিয়া উঠিয়া যাইবার সন্ত গীড়াপীড়ি করিতেছি। কিন্ত কি কৰি, তিনি অর্থাভীব প্রযুক্ত আজ হুই 'তিন দিন, সপরিবারে অন্যহারে রহিয়াছে ।” কর্মচারী গৃহম্বামীর এই কথা শুনিয়া, উক্ত মাদ্রাজধাসীগ নিকটে যাইয়া দেখিলেন যে, তিনি একটি সন্বীর্ণগৃহে পাঁচটি কৃন্ঠা দুইটি অব্পবরঙ্ক পুত্র 'লইয়া সামান্য দরমার উপর বসিয়া রহিয়াছেন। পুক্রকন্াগণ রুগ্ণ অনাহারে শীর্ণ। কর্মচারী এই শোচনীয় | দশাগ্রন্ত মাদ্রীজবাসী. সহিত আলাপে প্রবৃত্ত হইলে, তিনি কহিলেন, _-'আম্রি এই কলিকাত| সহরে অনেক বড় লৌকেরঃ নিকট আমার কষ্ট জানাইয়াছিলাম। কিন্তু কেহুই* আমার ছুরবস্থাযু দয়ার হইয়া একটি কপুণ্দক দিয়াও আমার সাহায্য করেন নাই। অবশেষে একটি বাবুর নিকটে ভিক্ষার্থ উপস্থিত হই। তিমি ভিক্ষা না দিয়া একখানি পোষ্ট- 'কাডে পত্র "লিখিযা, আমার হাতে দিয়া বলিলেন_-“এ এই সহরে, এক পরম দয়ালু বিদ্যাসাগর আছেন। আমি তৌমারই'নমে* তোমার ছুরবস্থার বিষয় লিখিয়া দিলাম। পত্রগ্রানি ডাকঘরে দিয়া আইস।” আমি ওদনুদারে উক্ত পত্র ডাকঘরে দিয়াছি। এখন আমার অনৃষ্ট।৮ "কর্ধ- চাঁরী বিদ্যাসাগর মহাশয়ের নিকটে প্রত্যাবৃত্ত হইয়া তাহাকে এই সকল কথা জানাইলেন। শুনিয়া বিদ্যাসাগর মহাশুয় অবিরল ধারায় অশ্রপাত করিতে করিতে কর্মচারী মহাশয়ের হস্তে মাদ্রাজবাসীর বাড়ভাড়ার দেনা ৩০২ টাকা, খোরাকী ১০২ টাঁকা এবং তাহাদের জন্য নয় খানি কাপড় দিয়া বলিলেন,- এষ াহারা বাড়ী যা, তাহা হইলে, কত হইলে চলিতে পারে, জানিয়া আঁসিবে। আর এখানে থাকিলে, আমি প্রতি মাসে

"২৭

প্রতিভ| |

১৫২ টাকা দিব।'* কর্মচারীন্বথাস্থানে উপনীত হইয়া, উক্ত মাদ্রোজ- বামীকে টার! কাপড় দিয়, বিদ্যাসাগর মহাশয়ের রুথা জানাইলেন। দুয়ার সাগর বিদ্যাসাগবের অসীম দয়ায় ছুঃখী মা্রাজবাসী জ্ীপুত্রের সহিত রোদন করিতে লাগিলেন। অনন্তর তিনি বলিলেন,_“এক শত ,টাকা হইলে আমরা সকলে স্বদেশে যাইতে পাঁরি।৮ ইহ। শুনিয়৷ বিদ্যাসাগর মহাশয় কর্ণচারীর হস্তে উক্ত "টাকা দেন। কুর্মুচারীও তীহাদিগকে মারে ব্বাখিয়া আইসেন

বিদ্কাসাগর এইরূপ দয়ার সাগর ছিলেন। তীহানন অপার করুণা এক সময়ে এইরূপেই দীন, হীনদিগের ছুঃখ-সন্তপ্ত হৃদয় শাস্তি-সপিলে শীতল করিয়াছিল। যাদের, কাতরতীঁয় কেহই কাঁতরভাব প্রকাশ করে নাই 3 'যাহাদের কষ্টে কাহারও হৃদয়ে সমবেদনাঁর আবির্ভাব দেখা যায় নাই, যাহাদের উদ্ধীরে কাহারও হস্ত প্রস্+রিত হয় নাই, তিনি এইরূপেই ভাহাদ্দিগকে অসহনীয় যাতন! হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। তাহার অর্থ কেবল দরিদ্রপাঁলনৈর জন্তই ব্যয়িত হইত। এই কার্যে তাহার আড়ম্বর ছিল না সংবাদপত্রের দিগন্তব্যাপী প্রণংসাধ্বনির প্রত্যাশায় বা! রাজকীয় গেজেটে ধন্বাদপ্রার্ির কামনায়, তিনি এই কার্য্যের অন্তষ্ঠান করিতেন না। তীহার কার্ধ্য নীরবে, সম্পন্ন হইত। ধনী পুর্কসঞ্চিত ধনরাশির মধ্যে অবস্থিতি করিয়া অর্থ দান করিতে পারেন, কিন্তু তাহার দান, এই দানের তুলনায় শ্রেষ্ঠ বলিয়া! পরিগণিত হইতে পারে না। ধিনি বিলাসম্গখ পরিত্যাগ করিয়াছিলেন, ছুঃখদারিভ্রোে নিপীড়িত হইয়া, যিনি শেষে প্রভূত অর্থের অধিকারী হইয়াছিলেন, তিনি আত্মভে,গে উপেক্ষা দেখাইয়। ভবিষ্যতের দিকে দক্পাঁত ন! করিয়া, অপরে প্রশংসা

২৮

ঈশ্বরচক্জ বিদ্যাসাগর

বা নিন্দা তুক্ছ ভাবিয়া, কেবল খ্থার্থ কৃপাপাত্রদিগের জন্ত যে ব্রত পালন কবিতেন, দে ব্রত চিবপবিত্র, চিরস্তন ধন্মেব মহিমায় মহিমাদ্বিত, চিবস্থারী গৌববে গৌববযুক্ত।* বজেব মহাকবি এহ চিবপর্িত্ ব্রতের, মহিমায় মুগ্ধ হইয়া, এক দিন স্তবব স্ববে গাইযাঁছিক্তলন,__

“বিস্ভাব সাগব তুমি বিখ্যাত তাবতে

কক্াঁব সিন্ধু তুমি লেই জানে মনে

দীন যে, দীনেব বন্ধু।”

সমগ্র তাবতও একদিন বিমুগ্ধ হইয়া গাইবে »_ “বি্তাব সাগর তুমি বিখ্যাত ভাবতে করুণাব সিন্ধু তুমি |” ক্লতং ন:স্বাথভাবে পবোপকাবসাধনে--নি-স্বার্থভাবে পঝপ্রয়োজনেব

জন্য উপার্জিত *অর্থবাশিব দানে মহাআআা বিদ্যান্তাগবের কোনও প্রতিদবন্দ্ী নাই। "এখন সেই দান্বীব চিবদিনের খ্জন্য অন্তহিত হইরাছেন। কোমলতাময়ী ককণা এখন আশ্রয়ের অভাবে দরদশাপন্ন।, তঃখদাবিদ্রামষ জনপদ এখন অধিকতব দাবিদ্রভাবে নিপীডিত। নিরাশয়, নিঃসম্বল নিবন্ন জীবগণ এখন কাতরকণ্ঠে লোকেব দ্বারে দ্বাবে ভিক্ষাপ্রার্থী * প্রলয়-পযোধিব জলোচ্ছ্বাস যেন এই হতভাগ্য দেশেব পূর্বতন সৌন্দর্য্য বিনষ্ট হইয়াছে। অরুতূবাহিনী ন্লিগ্ধনলিলরেখা চিববিশুফ হইযা! গিয়াছে ; শান্তিবিধায়িনী শ্লেহময়ী জননী চিরকালের জন্য অন্তব্ধান কবিয়াছেন। কিন্তু যে সলিলেব ন্নিগ্চতায় তাপদগ্ধ লোকে শাস্তিলাত কবিম্মুছিল, যে জননীব করুণার দবিদ্র সম্তানগণ

২৯১

প্রতিভা

দারিদ্য-যাতন! ভূুলিয়! গিয়াছিল, “তাহার অপাধিব পবিত্র ভাব চিরকাল এই অনস্তযাতনাগ্রপ্ত জাতির গৌরবের কারণ বলিয় পরিগণিত হইবে। ৃঁ

বিষ্যাঁসাথর মহাশয় যেরূপ দয়াশীল, সেইরূপ তেজন্বী মহান্ুভাব ছিলেন। দগ্নায় তাহার জদয়'যেরপ কোমল ছিল, তেজর্বিতা মহান্ুভাবতায় তাহার হৃদয়" সেইরূপ অটল ভইয়া উঠিয়াছিল। চিরদরিদ্র অনাথের নিকটে "তিনি যেরূপ স্িপ্ধস্থধাকরের স্তায় প্রশান্ত ভাব প্রকাশ করিতেন; ধনগর্বিত বা ক্ষমতাগর্ব্বিত ব্যক্তির নিকটে তিনি সেইরূপ প্রদীপ্ত মধ্যাহ-তপনের সায় 'অপুর্ব তেজোমহিমার পরিচয় দিতেন 'অভিমান-সহকৃত তেজস্থিতাঁ তাহাকে সর্কাদ। উচ্চতম স্তানে প্রতিষ্ঠিত 'প্াখিত। শিক্ষাবিভাগের অধ্যক্ষ ইয়ং সাহেবের সহিত অটনক্য হওয়াতে, তিনি, অবলীলাক্রমে পাঁচ শত «টাকা বেতনের চাকরি পরিত্যাগ করিয়াছিলেন কিম্বয়ে "নাত্মীয়বর্গের পরামশ তাহার গ্রাহ্‌ হয় নাই, লোকের কথায় ষ্টাহার মতপরিবর্তন ঘটে নাই; বা ভবিষ্যতের ভাবনায় তাহার হৃদয় অবসন্ন হইয়া পড়ে নাই। লোকে তখন বলিয়াছিল, প্রাঙ্গণ এবার নিজের অহন্মুখতায় নিজেই মারা পড়িল। আত্মীয়গণু তখন ভাবিয়াছিলেন, এবার বি্াসাগরের অক্নভাব ঘটিল। কিন্তু অভিমানসর্পপুন্ন তেজন্বী পুরুস কাহারও কথায় কর্ণপাত করেন নাই তিনি পরের অধীনতা শ্বীকার করিয়াছিলেন, কিন্তু পরের মনন্তষ্টির জন্য আত্মসন্মানে বিসর্জন দেন নাই; তিনি পরের কা্যসম্পাদনে নিয়োজিত হইয়া" ছিলেন, কিস্তু পরের নিকটে আত্মবিক্রয় ক্রেন নাই; তিনি পরের

৩৩

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর |

আদেশপালনে প্রস্তত ছিলেন, কিন্ত পরের অন্থচিত আদেশান্ুসায়ে কার্য্য করিতে সম্মত, হইয়া " আত্মাভিমাটনৈর মর্ধ্যাদী নাশ করেন নাই। তাভার, হৃন্ধ এইরূপ অটল এইরূপ ১শক্তিসম্পন্ন ছিল। বহু অনুরোধে, বনু অন্ুনয়েও তাহার অভিমান অস্তহিত,* শ্তেজস্থিতা বিচলিঠ,*বা কর্তব্যবুদ্ধি অবনত হইর্ত না। মিবারের রাজপুতগণ অনেকবার আপনাদের ভূসম্পত্তি হইতে ক্ধলিত হইয়াছেন); অনেক্ববার অনেক বিষয়ে স্বার্থত্যাগের পরাকাষ্ঠা ' দেখাইয়াছেন) তথাপি তাহারা তেজন্থিতা বা অভিমানে জলাঙ্জলি দেন নাই। সহ্ৃদয় টড. এই অসামান্ত গুণদশনে মু "হইয়া, তেজস্িগণের বরণীয় প্রান গ্রীকদিগের্ণ* সভিত মিবারের রাজপুতদিগেব তুলনা * করিয়াছেন বঙ্গদেশের জন্য যি এক জন ট্র্ের আবিভাব হর, একজন টড. যদি স্বা্গালীর স্মুকীন্তি বা অপকীন্তিবু বর্ণনায় ব্যাপৃত হয়েস, তাহা হইলে তিনি* এই *অধঃপতিত ভূখণ্ডে এই চিরাবনক্ত জাতির মধো মহাত্মা বিদ্বাসাগবের এমন প্রভাব দেখিতে পাইবেন, যাস্ধীব অচিস্তনী? মহিমায় তাভাব অপরিসীম বিশ্ময়ের আবিভাব হইধে; তিনি সেই মহীপুরুষকে গৌরবাখিত গ্রীকদিগৈর পার্খে বসাইয়া, মুক্ককণ্ঠে ভক্তিরসাদ্র্ধদর়ে তীয় স্ততিবাদ ক্রিবেন।

* এইরূপ তেজস্বী* এইরূপ অভিমানসম্পন্ন 'বিগ্ভাসাগর জনসাধারণের সমক্ষে কখনও অহঙ্কারে স্ফীত হইয়া, হীনর্ত প্রকাশ করেন নাই। কাহার তেজস্থিতা যেরূপ জ্লাতুল্য, তাহাৰ মহত্ব সেইরূপ অপরিষময় ছিল। দরিদ্র প্রচুর অর্থের অধিকারী হইলে আত্মগর্কে অধীর হইয়া, আত্মগৌরবের বিস্তারে উদ্ভত হইয়া থাকে কিন্তু বিস্তাসাগর

৩১

প্রতিভা |

মহাশয়ের প্রশস্ত হৃদয় এনপ্র হীনর্ভবৰে কলুষিত ছিল না। যখন তাহার প্রভূত পরিমাণে অর্থাগম হয়, সমাজে অসাধারণ প্রতিপত্তি বদ্ধমূল হয়, দিগস্তব্যাপিনী মহীয়সী কীন্তির কথা লোকেব মুখে মুখে পরিকীর্তিত “হইতে থাকে, তখনও তিনি আপনাকে সমান দরিদ্র বলিয়াই পরিচিত করিতেন।' উচ্চপদস্থ রাজপুরুষগণ, “সমাজের ধনসম্ধতিশালী সন্তাস্ত ব্যক্কিগণ, সর্বদা বাহার সম্মান করিতেন, ধাহাকে দেখিলে অভ্যর্থনার "জন্য অগ্রসর হইতেন; অনেক সময়ে তিনিই সামান্য মুদ্ীর দোকানে বসিয়া, মূদীর সহিত আলাপ করিতেন, এবং দীন ছুঃবীদদিগকে আত্মীয় স্বজন বলিয়া মাপনার কাছে বসাইতেন। একদা তিনি সন্ান্ত ব্যক্িগণের সহিত কোনও বাগান- বাড়ীতে অবস্থিতি 'করিতেছিলেন, এমন সময়ে এক জন দ্ারবান্‌ ঘন্মাক্তকনেববে উপস্থিত হইয়া, , ত্রাহাকে এক খানি পত্র 1দল। এরূপ স্থলে অঞ্ঞবকে হয় সামান্ত দ্বারবানেব দিকে দক্পার্ড করেন না। কিন্ত দয়ার সাগর, পত্রবাহককে পবিশ্রান্ত ধ্প্রথব আতপতপে অবসন্ন দেখিয়া স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি পত্রবাহ্ককে শ্রান্তিবিনোদনের জন্য সেই গৃহে বঁসাইলেন। তদীয় বন্ধুগণ ইহাতে সাতিশয় বিরক্তি প্রকাশ করিতে লাগিলেন কিন্তু এইরূপ বিরক্তিতে তাহার হৃদয়ে অন্ুদার ভাব বা অহঙ্কারের আবিভাৰ হইল না"! একদ1! তিনি উপস্থিত প্রবন্ধলেখককে কথাপ্রসঙ্গে বলিয়াছিলেন_ “আমি এক দিন ইডেন সাহেবের (ইডেন সাহেব তখন গবর্ণমেণ্টেব সেক্রেটরি বা অন্ত কোনও উচ্চ পদে নিয়োজিত ছিলেন) সহিত বসিয়া আলাপ করিতেছিলাম। এমন সময়ে অ্ম্ত এক বাক্তি সাহেষেব ৩৭

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

দর্শনার্থী হইযা, আপনার নাম লিখিয়া পাঠুইলেন। সাহেব চাপবাসীফে বলিলেন--“বাবুকে বল, এখন ফুবন্থ নাই 1” ইডেন সাহেবেব কথা শুনিষা, আমি, স্থিব থাকিতে পারিলাম * না, তখনই সাহ্কেকে বলিলাম, “আঁপন্ি আমাব সহিত বসিয়া, বাজে কথায় ল্য ক্ষেপ কবিতে্ছেন। ইহাতে আপনাব ফুব্সুধ আছে। আব বাক্তি অধশ্ত কোনও প্রয়োজনেব অন্থবোধে আপনার সহিত দেখা কবিতে আসিয়াছেশ। তাহা ' সহিত দেখা *কবিতে আপনাব ফুবস্থুথ নাই। আমি সামান্য গবীব মান্য, পাস্ধী ভাড। কবিষা আসিয়াছি। বাক্তি যদ্দি গবাৰ হষ, তাহ হইলে বেচাবীব গাডীভাডা দ্ হনব , আব এক দিন আসিক্পে আবাঁব গাভীভাডা &দিতে হইবে ।”

হডেন সাহেব তখন ঈষৎ হাসিম্া দশনার্থী ভর্ণলাকটিকে আসিতে বলিলেন।” মঙাপুকষেব এইবপ উ্দাবত্তা, এহকপ সমদশদিতা এবং এইবপ *অহগ্কাবশৃন্ততা ছিল। কথিত আছে, একদা&একট ভদ্রসন্তান শাহাব নিকটে উপস্থিত হইযা কাতখভাঁবে বলিলেন, ঠ&বড দ'যগ্রস্ত হতষ আপনাব নিকটে আপিয়াছি। দশ ভাজার টাকা না ভইলে উপস্থিত দায় ইতে মুক্ত হইতে 'পাবি না। আমি উক্ত টাকা পৰে ফিবাইযা দ্িব।” বিগ্ভাসাগর মহাশয়ের নিকট তখন বেশা টাকা সিল না। তথাপ্সি* তিনি ভদ্রসন্থানেব কাতবতাদশনে বাথিত হইয়া, মন্ত স্থান হইতে টাকা আনিয়া দিয়া কঙ্কিলেন, “এই টাঁকা অন্ভেব নিকট হইতে আনিয়া দিলাম, তোমাব স্থবিধামত দিষা যাইও” প্র লৌকটি টাকা লইয়া চলিয়া গেলেন। পৰে বিস্যাসাগব মহাশয় এই টাকাব-জন্য তীহাব নিকটে লোক পাঠাইলে তিনি কহিম়্াছিলেন-_

৩১৩)

প্রতিভ! |

“আমি দান গ্রহণ করিস্বাছি। টাকা যে ফিরাইয়! দিতে হইবে, তাহা ভাবি নাই।* বিদ্যাসাগর মহাশয় তাহার এই কথা শুনিয়া হাস্ত করিয়া বলিয়াছিবেন, “লোকটা আমাকে ঠকইল, , দেখিতেছি।” আর তিনি' টাকাব জন্য তাঁহাব নিকটে লোক পাঠান নাই, আপনিও তাহার নিকটে কর্থনও টাকা চাহেন না ধিগ্ভাসাগব মহাশয়ের মহত্ব সন্ধে এইরূপ, অনেক কথা আছে। এই সকল মহত্বকহিনী মহাপুরুষের লোঁকোত্বর চবিত স্বর্গার ভাবে পুর্ণ করিয়া রাখিয়াছে।

পুর্ব্বে উক্ত হই